

ডেস্ক রিপোর্ট:
গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত হলে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি (বন্দিবিনিময়) আছে এবং এই প্রক্রিয়াও (ফিরিয়ে আনার) চলছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন উপ-প্রেস সচিব।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি বা অনুসন্ধান কমিটি বিষয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করবে সরকার।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি ভারতের মধ্যে রয়েছেন। ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ শনিবার সকালে রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যখন একটি দেশে রাষ্ট্র, সরকার ও দল এক হয়ে যায়, তখন সবকিছু একসঙ্গে ধসে পড়ে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়ে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা মোকাবিলায় কমিশন কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, গত নির্বাচনে যেসব প্রিজাইডিং অফিসার সমস্যার সৃষ্টি করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করব না, ১৮ কোটি মানুষের হয়ে কাজ করব। ভোট দেয়া যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনই ঈমানী দায়িত্বও।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো শোকজ করা হবে না—প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেই তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।’
সোমবার নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সায়রা গার্ডেনে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যেনতেনভাবে কোনো নির্বাচনের আয়োজন হবে না। যেখানে জরিমানার প্রয়োজন, সেখানে জরিমানা; আর যেখানে কারাদণ্ডের প্রয়োজন, ম্যাজিস্ট্রেটরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তারা সব সময় তৎপর থাকবেন।’
পোস্টার নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, ‘এবার নির্বাচনের সময় কোনো পোস্টার থাকবে না। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কঠোর অবস্থান নেব। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন, তা করা হবে।’
নির্বাচনকেন্দ্রে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনের একটি মনিটরিং সেল থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে যেকোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আমরা আশা করি, এবারের নির্বাচন হবে সর্বোত্তম নির্বাচন।’
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. হাসানুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, উপসচিব মো. মোস্তফা হাসান এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন পবিত্র হজ পালন করতে ইচ্ছুকদের দ্রুত নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, এতদিন হজ প্যাকেজের অভাবে অনেকেই নিবন্ধন করতে পারেননি, তবে এখন সময় এসেছে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার। ৩০ নভেম্বরের পর নিবন্ধন আর বাড়ানো হবে না।
আজ বুধবার দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুটি হজ প্যাকেজের ঘোষণা করেন। এসময় তিনি বলেন, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দ্রুত তাঁবু বুকিং দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আমাদের হজ প্যাকেজ ঘোষিত না হওয়ায় নিবন্ধনের সংখ্যা কম ছিল। এই কারণে নিবন্ধনের সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না, কারণ, সৌদি সরকারকে কতজন যাবে তার তালিকা প্রদান করে তাঁবুর বুকিং দিতে হবে।
এর আগে প্রথম দফায় নিবন্ধনের সময় শেষ হয় ২৫ আগস্ট। পরে তা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ওয়ালফেয়ার ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, আগামী নির্বাচনে সব থেকে বেশি আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জনের মধ্যে ৪ জনের কাছে অস্ত্র থাকবে। এছাড়া একজন নিয়োজিত থাকবে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য।
তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী আনসার। এই বাহিনীর যাতায়াত, চিকিৎসাসহ দেশের সর্ববৃহৎ এই বাহিনীর যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবে এই ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ সময় কাভার্ড ভ্যান, বাসসহ ৩১ টি পরিবহন প্রদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচারে আমরা কি প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছি এমন অনেক প্রশ্ন আসছে। আমরা বলতে চাই, আমরা প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছি না। আমরা বিচার করতে চাচ্ছি। কেন বিচার করতে চাচ্ছি? আমরা আগামী প্রজন্মকে ইতিহাসের একটি দায় থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছি।’
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপের আয়োজন ‘ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ’ এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার শেষ দিনের প্রথম পর্বে ‘গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যা: বিচারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে সঞ্চালক ছিলেন সাংবাদিক মনির হায়দার।
সংলাপে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এসে কেউ জমি দখলে ব্যস্ত, কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ব্যস্ত, কেউ পদ-পদবী দখলে ব্যস্ত, কেউ নিজস্ব লোক পুনর্বাসনে ব্যস্ত, কিন্তু খুনিদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য, খুনিদের বিচারের জন্য আমাদের উপর যে পরিমাণ চাপ প্রয়োজন ছিল সেদিকে আপনারা ফোকাস করেন নি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যত বেশি চাপে রাখবেন, আমরা তত বেশি এই বিষয়টাকে (বিচার) সামনের দিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় চেষ্ট থাকবো। আপনারা যত বেশি অতন্দ্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা রাষ্ট্রকে এবং জনগণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ততবেশি এজেন্ডা ভিত্তিক সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবো।’
দেশে ঐক্যের প্রয়োজন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ঐক্য ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়। সংস্কার ছাড়া যৌক্তিক কোন বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। ঐক্য ছাড়া, সংস্কার ছাড়া এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে করাটা কঠিন এবং দুরুহ।’
বিচারের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলোচনা কম হওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিলো চ্যালেঞ্জের জায়গাটা কি সেটা আমাদের বলবেন। আমরা সেটায় যেন যৌক্তিক সমাধানের জায়গায় যেতে পারি, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে আমরা পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে চ্যালেঞ্জের প্রধান জায়গাটা হলো, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে আমরা রাস্তায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলাম, সেই লক্ষ্য, সেই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা, সেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করার যে ঐক্য, সেই ঐক্যটাতে যে ফাটল ধরেছে, সেই ফাটলটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
বিভিন্ন মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পার্সোনাল গ্রাস এক্সপোজ করার জন্য মামলা দিয়েছেন, আসামির খাতায় নাম দিয়েছেন, এই মামলাগুলোর পরিণতি কি হবে এবং এটার সাথে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে মামলা তার কোনো কনফ্লিক্ট হবে কি-না প্রশ্ন এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের আইনিভাবে, স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, সেই ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৯৭৩ এর ১৯ নম্বর আইন। সে আইনে মানবতাবিরোধী আইনের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, নির্যাতন, গুমসহ অনেকগুলো অপরাধের কথা বলা হয়েছে, যে অপরাধগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সিভিলিয়ান পপুলেশনের উপর ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার বিচার হবে। সেটি একটা দুইটা স্পেসিফিক ঘটনার দরকার নেই। ইন জেনারেল সেটার বিচার হবে। ঐ আইনেই বলা আছে, ডমেস্টিক অন্যান্য আইনে যাই বলা থাকুক না কেন, ঐটার বিচার ওখানে হবে। অর্ডিনারি গুমের বিচার, খুনের বিচার, নির্যাতনের বিচার, নিপীড়নের বিচার, এইগুলো অর্ডিনারি কোর্টে হতে কোন বাধা নেই এবং সেটাও চলবে।’
মন্তব্য করুন


দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাওয়া এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে মন্তব্য করে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।
বুধবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকলেও তা গত বছরের তুলনায় বাড়েনি। তবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় কিছু মানুষের কষ্ট হচ্ছে এটা সত্য। সরকার দাম কমানোর চেষ্টা করছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেকারত্বের হার কমানো গেলে অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাথে আলোচনা হয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে তাদের নিজেদের কারণেই। সেসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা হবে। তবে, সবাইকে কাজ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন


১৩ বছর আগে গুমের পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গুম-খুনের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে এক শর বেশি মানুষকে গুমের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইলিয়াস আলী ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রদলের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক সিলেট-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে বাসার কাছ থেকে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেয়া হয়েছিল, তার পর থেকে তার কোনো খোঁজ আর পাওয়া যায়নি।
এদিকে গুম ও শতাধিক মানুষকে হত্যার মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। দুপুরে প্রসিকিশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজীপুরে ৩ জনকে হত্যা ছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটার চর-দুয়ানিতে ৫০ জন হত্যা, বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যার ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল হক সুমন, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
অভিযোগ আমলে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ২১ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর, এই সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের নেতৃত্বে দলটি বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আজ মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানান, 'বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুল্কবিষয়ক আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও এই প্রতিনিধিদলের সদস্য।'
শফিকুল আলম আরও জানান, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।'
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ঘোষণায় শুধু বাংলাদেশ নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া ও তিউনিসিয়ার পণ্য রপ্তানির ওপরও বিভিন্ন মাত্রায় শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার ও লাওসের পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শুল্ক কার্যকর করার সময়সীমা ৯ জুলাই থেকে পিছিয়ে ১ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন, যেন আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
শফিকুল আলম জানায়, ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই আরেক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে শেখ বশিরউদ্দিন বাংলাদেশি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ঢাকা আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি চুক্তি হবে, যা দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, 'শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময় পিছিয়ে দিলেও তার হুমকির প্রভাব একটুও কমবে না। বিশ্বনেতারা প্রতিদিন প্রেসিডেন্টকে ফোন করছেন এবং একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছেন চুক্তিতে পৌঁছাতে।'
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, 'সামনের দিনগুলো অত্যন্ত ব্যস্ত হবে। আমার ইনবক্স ইতোমধ্যেই ভরে গেছে—নতুন নতুন প্রস্তাব, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।'
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসন যেসব দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করছে, সেসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর এই বাড়তি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এখনো আলোচনা ও চুক্তির সুযোগ রেখে দিয়েছে উভয় পক্ষ।
মন্তব্য করুন


পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের নামে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দুটি স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দেশটির স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে থাকা দুটি এবং মালয়েশিয়ার সিআইএমবি ইসলামিক ব্যাংকে থাকা বেনজীরের দুটি অ্যাকাউন্ট স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
এদিন দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম এসব সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এসব সম্পদ তিনি পুলিশের আইজি থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে তার নিজ ও আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এতে মামলার বিচার শেষে রাষ্ট্রের অনুকূলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সম্ভাবনা বিঘ্নিত হতে পারে। সে কারণে আদালতে চার্জশিট দাখিলের আগে এসব সম্পত্তি জব্দ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছেড়েছেন বেনজীর। এরই মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সকল পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব হতে পারে। তিনি সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়ে যেতে পারে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। অধৈর্য হলে সমাধান হবে না।" স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানান, ধৈর্যের সঙ্গে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে।
সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ না করে মাঠ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ জানানো শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগের জন্য অবরোধ করা ঠিক নয়। দাবিদাওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান পাওয়ার জন্য তিনি ছাত্রদের অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, "সরকার চায় প্রতিটি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক।" এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্ররা দেশের জন্য কাজ করে, তারা পজিটিভ কাজই করে, কিছু ভুল হতে পারে, তবে সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
মন্তব্য করুন