

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন (ইইউ ইওএম) এর প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর মিশনের প্রাথমিক বিবৃতি উপস্থাপন করেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন টমাশ জদেখোভস্কি (এমইপি), মিশনের এ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
“২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য এবং সুপরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠার পথে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই ঐতিহাসিক লড়াইটি ছিল প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করা হয়েছে। নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, যা অংশীজনদের আস্থা ধরে রেখেছে এবং নির্বাচনের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে,” বলেন প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট- চেকার, তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইইউ ইওএম পর্যবেক্ষকগণ লক্ষ্য করেছেন যে নির্বাচন ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ । নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিষ্ঠা এবং দক্ষতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্র খালা, ভোটগ্রহণ এবং ভোটগণনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফল-সংক্রান্ত নিয়মিত তথ্য প্রদান এবং গণমাধ্যমে প্রচার জনআস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা হয়নি৷
প্রধান পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন যে, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তাদের সমান অংশগ্রহণকে ব্যাহত করেছে। এছাড়া কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সৃষ্ট বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের (মব আ্যাটাক) আশঙ্কা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ইতিবাচক উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুরা এখনও রাজনৈতিক পরিসরে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ইভার্স ইজাবস বলেন, “এখন সময় এসেছে সেই পুরোনো চর্চাগুলো পরিত্যাগ করার, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান উত্তরণের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং সেই সাথে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা জোরদারের অভিপ্রায়ে একটি নতুন
পথরেখা নির্ধারণ করার। ”
টমাশ জদেখোভস্কি, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান, বলেন: "বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই ৷”
ইইউ ইওএম ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং নির্বাচনের দিনে সব মিলিয়ে ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়ে কাজ করেছে। এ পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের । সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন এবং নির্বাচনের দিন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন পহেলা বৈশাখ উৎযাপনকে ঘিরে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে বৈশাখ উৎযাপনের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বছর ব্যাপক আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন সেসব করা হচ্ছে। রোজার মত চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে।
সম্প্রতি বাটাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির দোকানে ভাঙচুর হয়েছে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এসব দোকানের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানায়, সারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। যারা এসব ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় ৪৯ জনকে আটকও করা হয়েছে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে কি না এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। সেখান থেকেই ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হবে। তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে আজকে আলোচনা হয়নি। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটা আয়োজন করে সেহেতু তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এবারের উৎসবে প্রচুর জনসমাগম হবে। বিভিন্ন জায়গায় মেলাও হচ্ছে, বাঙালি ছাড়াও ২৬টি জাতিগোষ্ঠী এতে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে সূত্রোক্ত পরিপত্রের মাধ্যমে (পরিপত্র-৯) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লিখিত সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’
ইসির নির্দেশনার আলোকে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে সদস্যদের তালিকা (মোবাইল নম্বরসহ) জরুরিভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্য সকল রিটার্নিং অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসির পরিপত্র-৯ এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন।
এই সেল নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে।
ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের বাহিরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ সকল বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার পরিচালনা জোরদার করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক চাঁদাবাজ, মাস্তান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রোববার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে এমনটা জানান তিনি।
সিইসি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এগিয়ে গেছে কমিশন। দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশে যারা নির্বাচনের কাজে থাকেন তারা ভোট দিতে পারেন না। এবার সবার ভোটের ব্যবস্থা করা হবে। এটি একটি মাইলফলক।
তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর আরপিও সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজ করেছে। পোস্টাল ব্যালট আইনে থাকলেও প্রয়োগ ছিল না, এটি নিয়েও কাজ করছে ইসি।
মন্তব্য করুন


পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, সারাদেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কাছে কোনো ম্যাজিক নেই। পুলিশ যে পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, সেটি সবাই জানে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, সারাদেশে চুরি, ছিনতাই ও খুন বন্ধ করার জন্য পুলিশের কাছে কোনো ম্যাজিক নেই। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ছাত্রসমাজের সহযোগিতা চাই। সবাই মিলে একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আগুন লাগার ঘটনা তদন্তাধীন। তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
এছাড়া, সমন্বয়কদের হুমকি সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এখনো কোনো গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, স্বাধীনতার পরে জনগণ এমন একটি পুলিশ বাহিনী চায়নি। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মানুষের পুলিশের ওপর এত ক্ষোভ কেন, তা বিশ্লেষণ করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা আগেও যদি পুলিশ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতো, তাহলে এত প্রাণহানি হতো না।
মন্তব্য করুন


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেউ গণ্ডগোল করলে ভোট কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এ এম নাসির উদ্দিন। প্রয়োজনে পুরো নির্বাচনী এলাকার ভোট বন্ধ করে দেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি। শনিবার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রামে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সিইসি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। প্রিসাইডিং অফিসাররাই কেন্দ্রের প্রধান উল্লেখ করে সিইসি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের দিন আপনি হচ্ছেন আপনার কেন্দ্রের চিফ ইলেকশন কমিশনার। আইন আপনাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে। দরকার হলে কেন্দ্র বন্ধ করে দেবেন। তিনটি কেন্দ্র গোলমাল করলে তিনটিই বন্ধ করে দিন। প্রয়োজনে পুরো আসনের ভোট স্থগিত করা হবে, কিন্তু আইনের শাসন মানতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ, নির্বাচন কমিশন আপনাদের পাশে আছে, পুরো ফুল সাপোর্ট দেবে। তবে শর্ত একটাই আপনাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সিইসি বলেন, একটি সফল নির্বাচন করতে হলে সমন্বয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনে একটি সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি রেসপন্স সেল গঠন করা হচ্ছে, যাতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।
সিইসি আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসাররা মূলত শিক্ষক বা বেসামরিক কর্মকর্তা। তাদের অনেকেরই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতা নেই। তাই প্রশিক্ষণে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অনুশীলন থাকতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর মধ্যেও এ অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে, তবে তারা এখন জোরেশোরে ট্রেনিং নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচনের জন্য টাকা নিয়ে কোনো কার্পণ্য করা হবে না বলে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য যত টাকা লাগবে, তা দেওয়া হবে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় জানান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করেন।
সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এ দেশের সব নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করা যায় সে জন্য সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করব।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
জাতীয় নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির দিকনির্দেশনা মূলক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার হাতে এসপি ও ওসিদের বদলি পদায়নের ক্ষমতা রয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হবে। এখানে সচিবালয় সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও লটারিতে উপস্থিত রাখা হবে।’
তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনকে উপলক্ষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখ সদস্য কাজ করবে। তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। নিজ নিজ এলাকায় তাঁরা প্রশিক্ষণ নেবেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন জাতীয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সে জন্য যা যা করার দরকার তা করা হবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচনের যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। ওই ভাষণের ধারাবাহিকতায় আজকে এই সভা ডাকা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যে সমস্ত লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার তা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, নতুন ভোটার বেড়েছে ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৬ জন।
রোববার বাদ পড়া সাড়ে ৪৪ লাখ ভোটারের সম্পূরক হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করে ইসি। এতে কারো তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ মিলছে ১২ দিন।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম বলেন, সারাদেশে উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্ব স্ব এলাকার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কারো ভুল থাকলে সংশোধন করে নিতে পারবেন।
সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ায় যোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, মৃত্যুজনিত বা অন্তর্ভুক্তি হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তির নাম কর্তন, ভোটার স্থানান্তর এবং কোনো সংশোধন বা ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য দরখাস্ত (ফরম-২, ফরম-১২, ফরম-১৩ ও ফরম-১৪ এর মাধ্যমে দরখাস্ত করতে হবে) দাখিল করা যাবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত।
দাখিলকৃত দরখাস্তসমূহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসার কর্তৃক নিষ্পত্তি করা হবে ২৪ আগস্টের মধ্যে। এরপর অন্যান্য কাজ শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩১ আগস্ট।
বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। এদিকে যাদের বয়স ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন।
মন্তব্য করুন


সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে এক অনুষ্ঠানে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। বাজারে যারা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, সেটা তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতে পারে—সরকার এর সঙ্গে জড়িত নয়।
এর আগে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৬ টাকা, পাম ওয়েলের দাম ১৩ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
গত আগস্টেও ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সে সময় ব্যবসায়ীরা লিটারপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমতি দিয়েছিল মাত্র এক টাকা বাড়াতে।
নতুন করে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হলেও উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সরকার এখনো বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়নি।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বিশেষত, বরিশাল ও ঢাকায় এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এসময়ে কোনো ডেঙ্গুরোগী মারা যায়নি।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন, খুলনা বিভাগ ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৯৮ জন।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এসময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০ জন।
২০২৩ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন।
মন্তব্য করুন