

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অবরুদ্ধ গাজা, যেন এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরি। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই লাশের মিছিল। ইট-পাথর ও কংক্রিটের নিচে ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ। ইসরাইলি বাহিনীর বোমার আঘাতে ঝরে পড়ছে নিরীহ তাজা প্রাণ। তবে গাজাবাসীর এই করুণ দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ইসরাইলি সেনারা।
সম্প্রতি গাজা ও লেবাননে যুদ্ধের ফলে ইসরাইলের কমপক্ষে ছয় সেনা আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা এই আত্মহত্যার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আনাদুলু এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা নিচ্ছেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর আরও হাজার হাজার সদস্য। দেশটির একটি সংবাদ মাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে আত্মহত্যার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মানসিক সমস্যায় ভোগা তিন ভাগের এক ভাগ সেনার মধ্যেই রয়েছে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (PTSD) লক্ষণ। তাদের দাবি, চলমান যুদ্ধে আহত সেনাদের চেয়ে মানসিক রোগে ভুগছে এমন সেনার সংখ্যা অনেক বেশি। এক তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মানসিক আঘাতে ভুগছে এমন সেনার সংখ্যা শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত সেনাদের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইয়েদিওথ আহরোনোথ বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান শেষ হয়ে গেলে এবং সেনারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকট কেটে যাবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে গ্রেফতার হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিট এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে নেতানিয়াহুকে আটক করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ‘পরিস্থিতিগত প্রশ্নে’ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ‘ব্রিটিশ সরকার তার আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন থাকা বাধ্যবাধকতাগুলো সব সময় মেনে চলে যুক্তরাজ্য সরকার। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। চুক্তি অনুযায়ী, এই আদালতের সদস্য দেশগুলো এই পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধ্য। চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য সরকার আইসিসির স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট অ্যাক্ট ২০০১ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ আদালত যদি কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন, তবে একজন মনোনীত মন্ত্রী অনুরোধটি একজন উপযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে পাঠান, এবং ওই কর্মকর্তা পরোয়ানাটি যুক্তরাজ্যে কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান এক রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে শেখ সালেহ আল-ফাওযানকে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। খবর সৌদি গেজেট
রয়্যাল ডিক্রিতে বলা হয়েছে, শেখ আল-ফাওযানকে গ্র্যান্ড মুফতির পাশাপাশি ‘কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার্স’-এর চেয়ারম্যান এবং ‘পার্মানেন্ট কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা’-এর প্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শেখ সালেহ আল-ফাওযান প্রয়াত গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখের উত্তরসূরি হলেন। শেখ আবদুল আজিজ ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। শেখ সালেহ আল-ফাওযানের জন্ম ১৯৩৫ সালে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলে। তিনি বুরাইদা শহরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে তিনি রিয়াদের কলেজ অব শরিয়াহ থেকে ফিকহ (ইসলামী আইন) বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি হায়ার ইনস্টিটিউট অব জুডিশিয়ারির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে শেখ আল-ফাওযানকে পার্মানেন্ট কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা-এর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আরও যেসব দায়িত্ব পালন করেন তার মধ্যে আছে কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার্সের সদস্য, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের অধীন ইসলামিক ফিকহ কাউন্সিলের সদস্য ও হজ মৌসুমে দাওয়াত ও প্রচার কার্যক্রম তদারকি কমিটির সদস্য। শেখ আল-ফাওযান বহু ইসলামী বই ও ফতোয়ার সংকলন রচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নূর আলা আদ-দারব’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস থেকে নিউ জার্সি পর্যন্ত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ছয় কোটি মানুষ তুষারঝড়, তুষারসহ বৃষ্টি এবং তীব্র ঠাণ্ডার কবলে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত সাতটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে উড়োজাহাজ চলাচলও।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মারফি অঙ্গরাজ্যটির কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। এর আগে কানসাস, মিজৌরি, কেন্টাকি, ভার্জিনিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং আরকানসাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
তুষারঝড়টি এখন মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার ওয়াশিংটনে ভারী তুষারপাত হতে পারে।
কানসাস ও মিজৌরির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সড়কগুলো তুষারের চাদরে ঢেকে গেছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণের ওহাইও থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত এলাকায় ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার তুষারপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিনসিনাটি, ওয়াশিংটন এবং ফিলাডেলফিয়ায় তুষারঝড়ের কারণে আজ কয়েক'শ বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
উড়োজাহাজ চলাচলের ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটএওয়ার জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৫০০ উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এক দিনে আরও ৫ হাজারের বেশি উড়োজাহাজের যাত্রায় বিলম্ব হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তিনদিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনে ইতালিতে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী সাত দেশ। শুক্রবার জোটটির নেতারা ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। সেইসঙ্গে জোটটি জানিয়েছে, তেহরান যদি রাশিয়ার কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তর করে তবে জি-৭ ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা তেহরানকে পরমাণু উত্তেজনা বৃদ্ধি বন্ধ ও প্রত্যাহার করার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান তার ফোরদো সাইটে অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করেছে এবং অন্যান্য সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন শুরু করেছে। দেশটি এখন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।
জি-৭ জানিয়েছে, ইরানকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে ইরান অনেক আগে থেকেই বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
জোটটির দাবি, রাশিয়ায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে ইরান। এ বিষয়ে সতর্ক করে জি-৭ বলছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান এই আবেদন করেছেন।
গত সপ্তাহে করিম খানের অনুরোধে, দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। এই পরোয়ানা জারির পর, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক চাপের মুখে আছেন তিনি।
আইসিসির একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট প্যানেল মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা দেখবেন, মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য ‘উপযুক্ত কারণ’ আছে কি না।
মিয়ানমারের এই জান্তা প্রধানের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আইসিসির বিচারকরা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে কখন সিদ্ধান্ত নেবেন, সে ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে সাধারণত, তিন মাসের মধ্যে এমন আবেদনের বিষয়ে বিচারকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
প্রসিকিউটরের অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পর তারা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে। এছাড়া মিয়ানমারের আরও উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ রোহিঙ্গাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়, তবে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে আদালতটির বিচারকরা বলেছিলেন, মিয়ানমারের এই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার তাদের আছে। কারণ, মিয়ানমারের প্রতিবেশী বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য, এবং যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে।
আইসিসি গত পাঁচ বছর ধরে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে তদন্ত করছে, তবে মিয়ানমারে আদালতের প্রসিকিউটরকে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে, ২০২১ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সেনাপ্রধান। তারপর থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়, এবং সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরব গত তিন দিনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গতকাল সোমবার দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অপরাধের’ দায়ে। এর আগে শনিবার ও রবিবার ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। গত তিন দিনে মোট ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনা ২০২২ সালের মার্চের পর সবচেয়ে দ্রুত গতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘটনা। ওই সময় এক দিনে ৮১ জনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।
শনিবার ও রবিবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনকে হাশিশ পাচারের দায়ে এবং একজনকে কোকেন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগকারী দেশ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৩৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যা গত বছরের মোট ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং এটি ১৯৯০-এর দশকে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রথম প্রকাশের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এএফপির বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে, এ বছরের মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ১৬১টি ছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধে এবং ১৩৬ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ-এর প্রতিনিধি জিদ বাসিউনি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘হাশিশ-সম্পর্কিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এসবের মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যাই বেশি।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে হাশিশ ব্যবহারের অপরাধীকরণ ধীরে ধীরে বাতিলের পথে, সেখানে সৌদি আরবের এই প্রবণতা গভীর উদ্বেগের।’
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে সৌদি আরব যে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে, বর্তমান মৃত্যুদণ্ডের উল্লম্ফন তারই ফল। কারণ তখন আটক হওয়া অনেক ব্যক্তির এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে।
২০১৯ সালে সৌদি সরকার মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও ২০২২ সালের শেষ দিকে তা পুনরায় চালু করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই কার্যকর করা হয় এবং এটি সমাজে নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে সহায়ক। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে একটি ‘উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজ’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে এই মৃত্যুদণ্ডের অব্যাহত ব্যবহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সূত্র : এএফপি
মন্তব্য করুন


ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তত ২ লাখ ইউরোপীয় শান্তিরক্ষীর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এ কথা বলেন তিনি।
জেলেনস্কি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় ফিরে দ্রুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন।
জেলেনস্কি ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পরদিনই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কথা বলেন। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের মহাদেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে দ্রুত যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়া নতুন করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিষয়টি বারবার আলোচিত হচ্ছে।
জেলেনস্কি তার ভাষণ শেষে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন, “পুরো ইউরোপ থেকে অন্তত দুই লাখ শান্তিরক্ষী প্রয়োজন। না হলে কোনও সমাধান আসবে না।”
শান্তিরক্ষী হিসেবে জেলেনস্কি যে সংখ্যার কথা বলেছেন, তা ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যার কাছাকাছি। ২০২০ সালে ফ্রান্স জানিয়েছিল, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দুই লাখের সামান্য বেশি।
বর্তমানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ, যেখানে ইউক্রেনের রয়েছে এর অর্ধেক। এই বাস্তবতায় কিয়েভের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২ লাখ শান্তিরক্ষী অত্যাবশ্যক বলে যুক্তি দিয়েছেন জেলেনস্কি।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এখন প্রায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর থেকে শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রেখেছে, তবে গত বুধবার তারা চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। এরপরই বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজ ঘোষণা করে যে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রায় সব চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫% শুল্ক কার্যকর করতে যাচ্ছে।
চীনও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীন মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫% হারে শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগে, গত বুধবার চীন মার্কিন পণ্যে ৮৪% শুল্ক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এছাড়া, চীনের ব্যবসায়ীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনে তাদের পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, চীনের এই সর্বশেষ পদক্ষেপের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর এই দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে মোট ৫৮৫ বিলিয়ন ডলার (৫৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) মূল্যের পণ্য বাণিজ্য হয়েছে। তবে এই বাণিজ্যে ভারসাম্য যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার (৪৪ হাজার কোটি ডলার) মূল্যের পণ্য আমদানি করলেও চীন মার্কিন পণ্য আমদানি করেছে মাত্র ১৪৫ বিলিয়ন ডলার (১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার)।
ফলে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯৫ বিলিয়ন ডলার (২৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার), যা মার্কিন অর্থনীতির প্রায় ১% এর সমান। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতিই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পোল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন। পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাদিস্লো বার্তোসজেউস্কি এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছিলেন যে, নেতানিয়াহু পোল্যান্ডে গেলে গ্রেপ্তার হতে পারেন। এই সতর্কবার্তার পর নেতানিয়াহু তার সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান নাৎসি বাহিনী পোল্যান্ডসহ আশপাশের দেশগুলোর ইহুদিদের যেসব বন্দি শিবিরে আটকে রেখেছিল, সেগুলো আউশউইৎজ নামে পরিচিত। পোল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের কয়েকটি আউশউইৎজ শিবির ছিল। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে এসব শিবিরে প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার ইহুদিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের বেশিরভাগই পোল্যান্ড ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিক ছিলেন।
যুদ্ধ শেষে আউশউইৎজ শিবির মুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে এই ঘটনাকে স্মরণ করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আউশউইৎজ মুক্তির ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন হবে, যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অংশগ্রহণের কথা ছিল।
কিন্তু পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তোসজেউস্কি শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছি যে, নেতানিয়াহু যদি পোল্যান্ডে আসেন, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আমরা পদক্ষেপ নেব। কারণ, পোল্যান্ড আইসিসির নির্দেশনা মেনে চলার চুক্তিবদ্ধ দেশ।"
এই সতর্কবার্তার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পোল্যান্ডকে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবার সেখানে আসবেন না।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং সেখানকার বাসিন্দাদের খাদ্য, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে আইসিসি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
যদিও ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ আইসিসির সনদে স্বাক্ষর করেছে। পোল্যান্ডও সেই তালিকায় থাকায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা কার্যকর করতে দেশটির আইনত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


থাইল্যান্ডের সাবেক রানি ও বর্তমান রাজা ভজিরালংকর্নের মা সিরিকিত মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
থাই রাজপরিবারের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রানি সিরিকিত দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি মাসে তার রক্তে সংক্রমণ দেখা দেয়।
সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় রাজত্ব করা রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী। ভূমিবল ২০১৬ সালে মারা যান।
রাজা ভজিরালংকর্ন তার মায়ের রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রানি সিরিকিতের দেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের দুসিত থ্রোন হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে। রাজপরিবারের সদস্যরা এক বছর শোক পালন করবেন।
বিবিসির তথ্যমতে, ফ্রান্সে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনার সময় রাজা ভূমিবলের সঙ্গে সিরিকিতের পরিচয় হয়। সেই সময় তার বাবা ছিলেন ফ্রান্সে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। ব্যাংককে রাজা ভূমিবলের অভিষেকের এক সপ্তাহ আগে তারা বিয়ে করেন।
১৯৬০-এর দশকে রাজা-রানিরা বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন তারা। রানি সিরিকিত থাইল্যান্ডে মা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে তার জন্মদিন ১২ আগস্ট থাইল্যান্ডে মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
২০১২ সালে স্ট্রোকের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই দেখা আসতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন