

মিয়ানমারের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেন ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুন থেকে ৩৯ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বসবাস করেন এই শহরে। ইয়াঙ্গুনের সংলগ্ন অন্যান্য শহরে বসবাস করেন আরও বেশ কয়েক লাখ মানুষ।
ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে ভূমিকম্প প্রায় নিয়মিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
মন্তব্য করুন


ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অন্তত ৭৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে একটি অভিবাসী নৌকা সহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে। বুধবার কর্তৃপক্ষ তাদের পর্যটক সৈকতে অবতরণ করতে বাধা দেয়।
আচেহ প্রদেশের লেউগে সৈকতে অবতরণের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শরণার্থীদের নৌকায় থাকার নির্দেশ দেন এবং সৈকতের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শরণার্থীদের খাবার সরবরাহ করলেও তাদের সৈকতে নামতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তা রিজালিহাদি জানান, আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে প্রচুর জনসমাগম রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে শরণার্থীরা জনতার সঙ্গে মিশে যেতে বা পালিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তাদের নৌকায় থাকতে হবে, যতক্ষণ না জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) প্রতিনিধিরা আসেন।"
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, বিশেষত রাখাইন রাজ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জীবন বাজি রেখে এসব দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আশ্রয়দানকারী দেশগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন বা পুনর্বিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে, শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না পেলে এটি আরও গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হতে পারে।
মন্তব্য করুন


ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ইসরাইলের পরিকল্পনা কয়েক দিন আগে আটকে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ তথ্য দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "ইরান কি এ পর্যন্ত কোনো আমেরিকানকে হত্যা করেছে? না। যতদিন তারা তা না করছে, ততদিন আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টার্গেট করার বিষয়ে আলোচনা পর্যন্ত করছি না।"
খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে রয়টার্সের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববার ফক্স নিউজকে বলেন, "কখনো আলোচনা হয়নি, এমন অনেক বিষয় নিয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।"
ফক্স নিউজের 'স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার' অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু আরও বলেন, "আমরা যা করা প্রয়োজন, তা করি।"
তিনি এও উল্লেখ করেন যে ইরানে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে সরকার পরিবর্তন হতে পারে। তেহরানের সৃষ্ট 'অস্তিত্বের হুমকি' মোকাবিলায় ইসরাইল প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বর্তমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এটি সহজেই সমাধান করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, "যদি ইরান কোনো আমেরিকান টার্গেটে আঘাত করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে।"
মন্তব্য করুন


বছরব্যাপী ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এবার তাদের জন্য সৌদি আরব থেকে একটি নতুন খবর এসেছে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য দেশটি লাগেজ বিনা মূল্যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।
২৫ ডিসেম্বর, বুধবার কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্র্যান্ড মসজিদের পূর্ব দিকে মক্কা লাইব্রেরির কাছে এবং পশ্চিম দিকে গেট ৬৪-এর কাছে বিনা মূল্যে লাগেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৭ কেজি ওজনের ব্যাগ (বিচ্ছিন্ন জিনিস ছাড়া) সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষণাগারে ব্যাগ সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা রাখা যাবে। তবে, ব্যাগে মূল্যবান জিনিসপত্র, নিষিদ্ধ পণ্য, খাবার ও ওষুধ সংরক্ষণ করা যাবে না। ব্যাগ ফেরত নেওয়ার জন্য একটি ক্লেইম টিকিট দেখাতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে গ্র্যান্ড মসজিদের চারপাশের সব এলাকায় ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দর্শনার্থীদের আরও ভালোভাবে সহায়তা করা যায়। সৌদি আরব সরকার অনুমোদিত ডিজিটাল হজ সেবা গেটওয়ে "নুসুক" অ্যাপের মাধ্যমে পারমিট দেখিয়ে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন ওমরাহ পালনকারীরা। মক্কার পবিত্র দুই মসজিদে প্রবেশ করতে হলে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
নুসুক অ্যাপ দিয়ে ই-ভিসা আবেদন, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা মক্কা, মদিনা এবং অন্যান্য শহরে ভ্রমণের জন্য যাত্রাপথ নির্দিষ্ট করতে পারবেন। হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের সফর ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পন্ন করাই নুসুক পরিষেবার লক্ষ্য।
নুসুকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা খুব সহজেই সৌদিতে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ই-ভিসায় আবেদন করা, হোটেল বুক করা এবং ফ্লাইট বুক করার মতো সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া ওয়েবসাইটটি ওমরাহ বা হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তারা উভয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সুলিভান এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উভয় নেতা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তা সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে জ্যাক সুলিভান একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন এবং তা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো সেটি বজায় রাখা। রুবিওর ভাষায়, ‘প্রতিদিন আমরা খেয়াল রাখছি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কী ঘটছে।’
রোববার (১৭ আগস্ট) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই প্রতিবেশী পরাশক্তির মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে ভূমিকা রেখেছেন। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অস্ত্রবিরতি তখনই কার্যকর হয় যখন উভয় পক্ষ গুলি চালানো বন্ধে রাজি হয়। কিন্তু রাশিয়া এখনো তাতে সম্মত হয়নি।
তার মতে, ইউক্রেনে সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির পর যুদ্ধবিরতি হলেও তা দ্রুত ভেঙে যেতে পারে। তবে লক্ষ্য কেবল অস্ত্রবিরতি নয়, বরং এমন এক শান্তিচুক্তি যা বর্তমানেও যুদ্ধ রোধ করবে এবং ভবিষ্যতেও সংঘাত এড়াবে।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রুবিও আবারও ট্রাম্পের দাবির প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে, আমাদের একজন প্রেসিডেন্ট আছেন যিনি শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আমরা তা দেখেছি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে, ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে, রুয়ান্ডা ও কঙ্গোতে। বিশ্বজুড়ে যেখানে সুযোগ পাওয়া যায় আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাব।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান ‘তাৎক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ’ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। এরপর থেকে প্রায় ৪০ বার তিনি বলেছেন যে, তিনি ভারত–পাকিস্তান সংঘাত মিটিয়ে দিয়েছেন এবং দুই দেশকে আশ্বস্ত করেছেন, সংঘাত থামালে আমেরিকা তাদের সঙ্গে বড় অঙ্কের বাণিজ্য করবে।
গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের দিনও ট্রাম্প বারবার একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন এবং দিল্লির রাশিয়ার তেল কেনার প্রসঙ্গ তোলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করছিল। সেটা পারমাণবিক পর্যায়ে চলে যেতে পারত। আমি সেটি ঠেকিয়েছি। যুদ্ধ খুবই খারাপ, আর আমি তা এড়ানোর চেষ্টা করি। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিকে আমি সেই কাজেই ব্যবহার করি।’
অন্যদিকে পাকিস্তান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়েছে এবং ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিয়েছে। যুদ্ধের পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির দুই দফা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। এ সময় ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের সঙ্গে তেল চুক্তির ঘোষণাও দিয়েছে।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রায় ৬ হাজার বন্দীকে মুক্তি দেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সামরিক সরকার। এদিন মোট ৫ হাজার ৮৬৪ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে ১৮০ জন বিদেশিও রয়েছে। শনিবার (০৪ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের এই দিনে মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই দিনটি মিয়ানমারে একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয় এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পতাকা উত্তোলন, সামরিক কুচকাওয়াজ ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
২০২১ সালের শুরুর দিকে সামরিক বাহিনী একটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে। তারপর গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমন করলে মিয়ানমার সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে, যা একটি জাতীয় সশস্ত্র বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছে।
জান্তা সরকার বলেছে, তারা এ বছর নির্বাচন দেবে। তবে এই পরিকল্পনাকে প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো।
জান্তার হাতে আটক থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিও রয়েছেন। ৭৯ বছর বয়সী এই নেত্রী ১৪টি ফৌজদারি অভিযোগের আওতায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যার মধ্যে উসকানি, নির্বাচনী জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তবে তার আইনজীবীদের মতে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরব গত তিন দিনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গতকাল সোমবার দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অপরাধের’ দায়ে। এর আগে শনিবার ও রবিবার ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। গত তিন দিনে মোট ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনা ২০২২ সালের মার্চের পর সবচেয়ে দ্রুত গতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘটনা। ওই সময় এক দিনে ৮১ জনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।
শনিবার ও রবিবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনকে হাশিশ পাচারের দায়ে এবং একজনকে কোকেন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগকারী দেশ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৩৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যা গত বছরের মোট ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং এটি ১৯৯০-এর দশকে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রথম প্রকাশের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এএফপির বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে, এ বছরের মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ১৬১টি ছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধে এবং ১৩৬ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ-এর প্রতিনিধি জিদ বাসিউনি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘হাশিশ-সম্পর্কিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এসবের মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যাই বেশি।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে হাশিশ ব্যবহারের অপরাধীকরণ ধীরে ধীরে বাতিলের পথে, সেখানে সৌদি আরবের এই প্রবণতা গভীর উদ্বেগের।’
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে সৌদি আরব যে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে, বর্তমান মৃত্যুদণ্ডের উল্লম্ফন তারই ফল। কারণ তখন আটক হওয়া অনেক ব্যক্তির এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে।
২০১৯ সালে সৌদি সরকার মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও ২০২২ সালের শেষ দিকে তা পুনরায় চালু করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই কার্যকর করা হয় এবং এটি সমাজে নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে সহায়ক। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে একটি ‘উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজ’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে এই মৃত্যুদণ্ডের অব্যাহত ব্যবহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সূত্র : এএফপি
মন্তব্য করুন


চাঁদে সূর্য ওঠার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভারের কোনো সাড়া পায়নি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।
ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, চাঁদে যতক্ষণ সূর্যের আলো থাকবে, তত ক্ষণ বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের জেগে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইসরো এক চন্দ্রদিবস, অর্থাৎ পৃথিবীর হিসাবে আগামী ১৪ দিন অপেক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাড়া যে পাওয়া যাবেই না, তেমন কথা বলতে পারছি না। আমরা চাঁদের হিসাবে গোটা একটা দিন অপেক্ষা করতে পারি। কারণ, এই সময়ের মধ্যে অনবরত সূর্যের আলো পড়বে চাঁদের মাটিতে। ফলে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ১৪তম দিনেও সাড়া মিলতে পারে বিক্রম, প্রজ্ঞান থেকে।
চাঁদের মাটিতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়েছে বিক্রম এবং প্রজ্ঞান। তারপর তাদের ‘স্লিপ মোডে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাতে সূর্যের আলো না থাকায় এই যন্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল। চাঁদে রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। কখনও কখনও হিমাঙ্কের ২০০ থেকে ২৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত নীচে নামতে পারে পারদ। এই তীব্র ঠান্ডা চন্দ্রযানের যন্ত্রপাতি সহ্য করতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে সূর্যের আলো পেয়ে যন্ত্রগুলো গরম হলে আবার তা থেকে সাড়া মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার যাতে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, তার জন্য বিক্রমের রিসিভার চালু রেখেছিল ইসরো।
মন্তব্য করুন


থাইল্যান্ডের সাবেক রানি ও বর্তমান রাজা ভজিরালংকর্নের মা সিরিকিত মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
থাই রাজপরিবারের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রানি সিরিকিত দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি মাসে তার রক্তে সংক্রমণ দেখা দেয়।
সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় রাজত্ব করা রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী। ভূমিবল ২০১৬ সালে মারা যান।
রাজা ভজিরালংকর্ন তার মায়ের রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রানি সিরিকিতের দেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের দুসিত থ্রোন হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে। রাজপরিবারের সদস্যরা এক বছর শোক পালন করবেন।
বিবিসির তথ্যমতে, ফ্রান্সে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনার সময় রাজা ভূমিবলের সঙ্গে সিরিকিতের পরিচয় হয়। সেই সময় তার বাবা ছিলেন ফ্রান্সে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। ব্যাংককে রাজা ভূমিবলের অভিষেকের এক সপ্তাহ আগে তারা বিয়ে করেন।
১৯৬০-এর দশকে রাজা-রানিরা বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন তারা। রানি সিরিকিত থাইল্যান্ডে মা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে তার জন্মদিন ১২ আগস্ট থাইল্যান্ডে মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
২০১২ সালে স্ট্রোকের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই দেখা আসতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা বিয়ন্সে নোলস। শুক্রবার স্থানীয় সময়ে হিউস্টনের একটি জনসমাবেশে এ সমর্থন জানান তিনি।
বিয়ন্সে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমি এখানে একজন সেলিব্রিটি হিসেবে আসিনি, এবং একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও আসিনি। আমি এখানে এসেছি একজন মা হিসেবে।" তিনি বলেন, "একজন মা হিসেবে আমি চাই আমাদের সন্তানরা এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠুক, যেখানে তাদের নিজেদের স্বত্বার ওপর নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা থাকবে, যেখানে আমরা বিভক্ত নই—আমাদের অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের জন্য।"
হিউস্টনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে, বিয়ন্সে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান কমলা হ্যারিসকে নির্বাচিত করার জন্য এবং বলেন, “এবার আমেরিকার জন্য একটি নতুন গান গাওয়ার সময়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেন।
এসমাবেশে বিয়ন্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সঙ্গী এবং অভিনেত্রী কেলি রাউল্যান্ডও। বিয়ন্সে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “এটি এমনই একটি গান, যা ২৪৮ বছর আগে শুরু হয়েছিল।”
ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থনে বিয়ন্সের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সংযুক্তি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, এটি কমলা হ্যারিসের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টেক্সাসে তার দলের জন্য প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যকে তার দলের জন্য একটি শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিয়ন্সের মতো সেলিব্রিটিদের রাজনৈতিক সমর্থন নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। এর ফলে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের জন্য পরিস্থিতি আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
মন্তব্য করুন