

শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালেও শয়তানি ছাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির স্বেচ্ছায় খাল পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের মতো চাটার দলে পরিণত হওয়া যাবে না। তাহলে বিএনপিকেও মানুষ ভালোবাসবে না।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব, এখানে কোনো আপস নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালেও শয়তানি ছাড়েনি। ভারতে গিয়ে সে আবার শয়তানি শুরু করছে। ওইখানে বসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগকে উসকায় দিয়ে বলে তোমরা গোলমাল করো, মিছিল করো, মারামারি করো, নেতাদেরকে মারো।
যদি আপনাদের কারো ওপরে কোনো হাত পড়ে, আওয়ামী লীগের সেই হাত আপনারা ভেঙে দেবেন।
দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই, তিনি দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আর আগে শেখ হাসিনার হাতে সব কিছু থাকলেও আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে বিএনপি।
বিএনপি নেতাকর্মীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আইন আইনের মতো চলবে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো বা কোথাও গণ্ডগোল করা যাবে না।’ আর অতীতের কর্মকাণ্ড ভুলে পুলিশকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব বিরুদ্ধেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকারের পুলিশ সংস্কার কমিটির কাছে এ সুপারিশ করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির পুলিশ সংস্কার কমিটির প্রধান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, সরকারের পুলিশ সংস্কার কমিটি বিএনপির কাছে সুপারিশ না চাইলেও আমরা সুপারিশমালা দিয়েছি। রাষ্ট্রের এই অত্যাবশ্যকীয় সেবার (পুলিশ) সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সুপারিশমালায় বিএনপি পুলিশ কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমানোর সুপারিশ করেছি আমরা।সুপারিশে পুলিশ বাহিনীকে সঠিক দিকনির্দেশনা, পরামর্শ এবং সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি পুলিশ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন স্বরাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান।
সুপারিশে স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশকে অপরাধ দমনে সহায়তা দেওয়া, জনসাধারণ-পুলিশ সম্পর্ক উন্নয়নে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রত্যেক উপজেলা-থানায় একটি নাগরিক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য, সুশিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গ সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হবে।
সুপারিশে বিএনপি আরও বলছে, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোয় থাকা র্যাব ইতোমধ্যে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপকভাবে নিন্দিত ও সমালোচিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং সুধীজন র্যাবকে দেশে সংঘটিত অধিকাংশ গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের জন্য দায়ী করেছে। বাহিনীটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে র্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হলো। র্যাবের দায়িত্ব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং থানা পুলিশ যেন পালন করতে পারে সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ে জোর দিয়েছে বিএনপি। তারা বলছে, এর মাধ্যমে সমাজে বিবিধ অপরাধ প্রবণতা এবং সামাজিক অস্থিরতা কমবে, পুলিশ-জনসাধারণের মধ্যে দূরত্ব কমবে, জনসচেতনতা বাড়বে এবং আইনের শাসন জোরালো হবে। এই উদ্দেশ্যে গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি ইউনিয়নে এবং শহরাঞ্চলে প্রতিটি ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে থেকে একজন কমিউনিটি পুলিশ কর্মকর্তা (উপ-পরিদর্শক পদের নিচে নয়) নিয়োজিত হবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার একটি অস্থায়ী দপ্তর থাকবে।
তিনি নিয়মিতভাবে এলাকার গণপ্রতিনিধি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ইমাম, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, মহিলা সমাজ, কৃষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করবেন। সবার অংশগ্রহণে প্রাপ্ত সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে কমিউনিটি পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপরাধ দমন ও নিবারণে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেবেন।
এ ছাড়া এলাকায় জমি সীমানা, সম্পদ মালিকানা, মানহানি বা অন্য কারণে মতবিরোধ, গৃহবিবাদ, শিশু ও নারী নির্যাতন, মাদক সেবন, জুয়া, সুদ, গ্যাং কালচার, সাম্প্রদায়িক উসকানি ইত্যাদি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চালাবেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে, তারা এই সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছেন। এই সংবিধানে গণভোট নিয়ে কিছু নেই। আগামীতে নির্বাচনে পাস করে সংসদে গিয়ে সংবিধানে গণভোট যুক্ত করে এরপর গণভোটে আসতে পারে।’ এসময় গণভোটের দাবি নিয়ে কথায় কথায় রাস্তায় না নামার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এক ডায়লগে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। আমীর খসরু বলেন, কথায় কথায় আপনি দাবি নিয়ে রাস্তায় যাবেন, সেটা হবে না। আপনাদের দাবি নিয়ে মাঠে যাবেন, এর বিপরীতে যদি দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দেয় তাহলে সংঘর্ষ বাঁধবে না?
তিনি বলেন,আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেমন জানি একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে। কনসাসের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের ৩১ দফার অনেক কিছুই কনসাসের মধ্যে আসেনি, তাই বলে কি আমি মাঠে নামবো? আমি জনগণের কাছে যাব।
আমীর খসরু বলেন, ঐক্যমতের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। চ্যাপ্টার ক্লোজড। আপনার চিন্তাভাবনা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি ক্ষমতায় আসেন, এরপরে আপনি পরিবর্তন করুন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একটা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি দলের ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের অন্তর্কোন্দলের মাধ্যমে ঘটেছে। যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে তারা ঘটিয়েছে কি-না এই ঘটনা সেটা আমাদের সন্দেহ।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বিএনপির সময়ে কখনো শেয়ারবাজারে ধ্বস নামেনি। অর্থনীতি চাঙ্গা ছিলো। আমরা প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দেব। বাড়িতে বসেই যেন লাইসেন্স পায়, আমরা সেটা করবো। যত বেশি জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে পারবেন তত বেশি দেশের উন্নয়ন হবে। দলের ক্ষমতায়ন করলে জনগণ সুবিধা পাবে না। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আমরা প্রত্যেকটি জনগণকে দেব।
মন্তব্য করুন


জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন সরকারের যে নৃশংসতা ছাত্র-জনতার ওপর হয়েছিল, অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম দাবি ছিল এই বিচার প্রক্রিয়া যাতে যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয় জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার পাবো।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনার এই মামলায় হয়তো আমি শেষ সাক্ষী। আমার সাক্ষ্য নেয়ার পর এ মামলা রায়ের দিকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু এটি নয়, সারা দেশে আরও মামলা রয়েছে। ফলে এ বিচারপ্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ সময় চলবে। নির্বাচনের পরেও যেন এ বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটা যেন অব্যাহত থাকে, সেই প্রতিশ্রুতির জন্য একটা রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছি। সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে যেন সেটা থাকে এটাই প্রত্যাশা থাকবে।
এর আগে গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে যে আবেদন করেছেন, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ায় আজকে নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে না। আশা করি আগামীকাল (বুধবার) নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করবেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যদি সত্যিকার স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, সেখানেই স্বৈরাচারের উৎপত্তিটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শুধু নির্বাহী বিভাগকে দুর্বল করার মধ্য দিয়ে, রাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো দাঁড় করানো যাবে না।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের কাজ করতে দিতে হবে। বিচার বিভাগকে বিচার বিভাগের কাজ করতে দিতে হবে। আইনসভাকে আইনের কাজ করতে দিতে হবে। সেখানেই থাকবে পুরো ক্ষমতার ভারসাম্য।
তাহলে পরে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপরে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। একটা আরেকটার ভারসাম্য হয়ে পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বাস করি, আমরা একটা জায়গায় ঐকমত্যে আসতে পারব। আমরা বলেছি, ১০ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে বসতে পারবেন না।
এখানেই স্বৈরাচারকে রুখে দেওয়া হলো, এখানে ফ্যাসিবাদের উপত্তি বন্ধ করে দেওয়া হলো। তারপর কী করা হবে? রাষ্ট্রের সব গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই এই গণতন্ত্র রক্ষাকবজ হিসেবে শক্তিশালীর ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে। তার জন্য বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছি যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের এমপিরা গোপন ব্যালটে স্বাধীনভাবে ভোট দেবেন। সেটা আরেকটা বিপ্লব হবে।
আর প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ আমরা ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করলাম। সেটা কি আমাদের বড় ধরনের অর্জন নয়? আমরা যদি প্রতিক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগকে সীমাবদ্ধ করি, তাহলে কিন্তু নির্বাহী বিভাগ দুর্বল হবে। রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা করা যাবে না। আমরা সেই সংস্কার চাই, যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মিত হবে।’
মন্তব্য করুন


কোনো বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করলে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি করেন।
পার্থ বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণের কোনও সুযোগ নেই। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য যদি বর্তমান সরকার পরিকল্পিত বিলম্ব করে, তাহলে ১৭ মিনিটেই সরকারের পতন ঘটবে।'
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জিত হলেও দেশের মানুষ এখনো মুক্তির স্বাদ পায়নি। তার মতে, ভালো মানুষ এবং সৎ নেতৃত্ব ছাড়া রাজনীতিতে কোনও সংস্কার সম্ভব নয়।
এ সময় তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষিত মানুষদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, '১৭ বছর পর এবার স্বাধীনভাবে বিজয় দিবস পালনের সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ আর নষ্ট হতে দেয়া যাবে না।'
পরে তার নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনানী মাঠে গিয়ে গুলশান ডিসিসি মার্কেটে শেষ হয়।
সূত্র: ইত্তেফাক
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ফ্যাসিবাদী সরকারের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়ে দেশের বাইরে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। সব মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির এই নেতা।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দেশে ফেরেন তিনি। এ সময় দলমত নির্বিশেষে তাকে স্বাগত জানাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা, আলেম-ওলামা, মাওলানা, শিক্ষক, পেশাজীবী, সচেতন নাগরিকসহ সব ধর্ম শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে।
জানা গেছে, আজ শনিবার সৌদি আরব থেকে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। এ সময় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিমানবন্দরে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন মুরাদনগরে এই নেতাকে। এ সময় বিমানবন্দর এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কায়কোবাদ বিমানবন্দরে অবতরণের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাকে স্বাগত জানাতে মুরাদনগর উপজেলা থেকে চারশ বাস ও দুই সহস্রাধিক মাইক্রোবাসযোগে কর্মী-সমর্থকেরা ঢাকায় আসেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদে কিছু বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
আজ রবিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে বিএনপি মতামত।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের সমন্বিত খসড়া পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সে ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপারিশ প্রাধান্য পাবে। সনদের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
এ ছাড়া রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে যেসব সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই সনদের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহ পারস্পরিক ও সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। তবে সব দল সব বিষয়ে একমত হয়নি, কোনো কোনো দল কোনো কোনো সুপারিশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না চাইলে ভালো রাজনীতি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি। জনবান্ধব সংস্কৃতির প্রবর্তন করতে চাই। তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণের ভোগান্তি এড়াতে খাল, নর্দমা পরিষ্কার, ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না ঘটুক চাইলে, ভালো রাজনীতির সূচনা করতে হবে। জবরদস্তিমূলক মনোভাব পরিহার করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু আইনকানুন বা সংবিধান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কার্যকর সংস্কার করা যায় না। মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং সহনশীলতার মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজার রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "আপনারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করেছেন, যেখানে অনেকের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করলে, জনগণ তো কথা বলবেই। কেন এতো জটিলতার সৃষ্টি করছেন?" সোমবার ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, "আলী ইমাম মজুমদারের মতো ১/১১-র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আজও সরকারে ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উপদেষ্টা বানানো হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলা হয় না। শেখ হাসিনার সহচরদের যারা নিঃশব্দে তাঁর স্বার্থে কাজ করে গেছেন, তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।"
বিএনপি মুখপাত্র আরও বলেন, "রাষ্ট্রপতি থাকবেন কি থাকবেন না, তা নিয়ে কেন আমরা দেশে জটিলতা সৃষ্টি করছি? আমাদের দায়িত্ব হলো শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় করা এবং তার সহযোগীদের বিচার করা।"
রিজভী বলেন, "গণতন্ত্রের পথে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবদান ইতিহাসে লেখা থাকবে। তবে সংবিধান বহির্ভূত কিছু যেন না হয়, এ জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
তিনি শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে বলেন, "এ ভদ্রমহিলাকে যেন জন্মের পর করলার রস খাওয়ানো হয়েছিল, কারণ তিনি সবসময় উগ্রভাবে প্রতিরোধের কথা বলেন। তার অডিও ফাঁস হওয়ায় দেখা গেছে, তিনি তার অনুসারীদের রক্তপাতের নির্দেশ দিচ্ছেন, যা ভয়ংকর।"
এসময় বিএনপি’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যেমন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহযুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
মন্তব্য করুন


বর্তমানে দেশে তিনটি শক্তি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রভাব বিস্তার করা শক্তিগুলোর মধ্যে দুটি আঞ্চলিক এবং একটি বিশ্বমোড়ল শক্তি। তাদের স্বার্থ আলাদা হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থ। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদেশি শক্তিগুলো এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় একটি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি তৈরি করেছে। আজও সেই ধারা চলছে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে।’
শহিদ আবরার ফাহাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আবরার এদেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছে। আমাদের সকলকে সবার বক্তব্যে, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেমন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়িগুলো নির্মাণ করেছি শহিদ আবরারের মতো শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনীতি ও ত্যাগের ফসলই মুক্তিযুদ্ধ। আজ আমরা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও সেই রক্তের উত্তরাধিকার বহন করছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি আধিপত্যবাদ রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই বিদেশি শক্তির কুশীলব হিসেবে কাজ করছে। আবরার ফাহাদ ছিলেন সেই আধিপত্যবাদের শিকার, কেবল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন