

সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৬ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন ১২ অক্টোবর শেষ হবে। এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৬ সালের হজযাত্রীর প্রাথমিক নিবন্ধন ১২ অক্টোবর ২০২৫ সালে শেষ হবে। এই সময়সীমা আর বৃদ্ধি করা হবে না।
উল্লেখ্য, আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) ২৪ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার মামলায় দণ্ডবিধির ১২০ (ক)/ ৪২০/৪০৬ ধারায় অভিযোগ সংযুক্ত করার আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমানের আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২২ জুন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ‘পালন না করে’ উল্টো ‘ভয়-ভীতি দেখিয়ে’ জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগে মামলা করে বিএনপি।
মামলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে এই মামলায়। তবে মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল না।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই তিন নির্বাচনে ‘গায়েবী মামলা, অপহরণ, গুম খুন ও নির্যাতনের’ ভয় দেখিয়ে, বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘গণগ্রেফতার’ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সত্যেও সংবিধান লঙ্ঘন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সরকারি কর্মচারী হয়েও অবৈধভাবে ভোটে হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটের কাজ সম্পূর্ণ করা ও জনগণের ভোট না পেলেও সংসদ সদস্য হিসেবে মিথ্যাভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনার সাক্ষী সকল ভোট কেন্দ্র এলাকার ভোটাররা এবং ভোটারদের মধ্যে যারা ভোট প্রদান করতে বঞ্চিত হয়েছেন তারাসহ ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যরা। এছাড়া ভোট কেন্দ্রে অনেক সৎ প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ অফিসারসহ স্থানীয় লোকজনসহ আরও অন্যান্যরা ঘটনার সাক্ষী হবে। এছাড়া ব্যালট পেপারে যে সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃতভাবে তারা ভোট দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে উল্লেখিত ঘটনার সঠিক রহস্য তদন্তে সত্য উদঘাটিত হবে।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কু ডংউই বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ খাতের উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ফল রপ্তানি বাড়াতে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার ইতালির রোমে এফএও সদর দপ্তরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন। এফএও মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এফএওর দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা গড়ে তোলা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল রপ্তানি বাড়ানো এবং ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় সংস্থাটির সহায়তা চান।
প্রধান উপদেষ্টা বর্তমানে রোমে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সম্মেলনে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। সোমবার রোমে এফএও সদর দপ্তরে আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য ফোরাম (ডব্লিউএফএফ) ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি মূল বক্তব্য রাখেন।
প্রধান উপদেষ্টা ও এফএও মহাপরিচালকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
মন্তব্য করুন


সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকা, শহুরে সমাজসেবা কার্যক্রম, দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ভাতা প্রদান ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সমাধানের জন্য নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সমগ্র দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে শহর এলাকাকে সুসংগঠিত, টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল দারিদ্র্য ও ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় রূপান্তর করা প্রয়োজন। এছাড়া, কার্যক্রমের দ্বৈততা পরিহার করাও জরুরি।
রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পিকে এসএফ (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন), গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মাইক্রোফাইন্যান্স বিষয়ে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আর ভিক্ষুক তৈরি করতে চাই না। সমন্বিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এই রিপোর্টের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সকল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একই ছাতার নিচে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল ফ্যাসিবাদ বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ গঠন।
আজ মঙ্গলবার অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সামনের পথ আরও কঠিন হবে তবে সম্ভাবনাও আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে তখন কোনো শক্তি তাকে রুখে দিতে পারে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত বছর এই দিনে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে উদ্দেশ্য আন্দোলনে নেমছিল, সেই উদ্দেশ্য তারা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনে যাতে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে না হয়; সেই কাজ আমারা করছি। আশা করি, আগামী দিনে কেউ স্বৈরাচার হতে চাইলে জনগণ সঙ্গে সঙ্গে তাদের পতন ঘটাবে।’
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ইশরাকের মেয়র হওয়া না হওয়ার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইনি জটিলতা থাকায় এ ঘটনায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বা দোষারোপ করা সমীচীন হবে না।
আজ মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে সাভারের জাতীয় যুব উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে "উদ্যোক্তা উন্নয়নে তারুণ্য ও আগামীর সম্ভাবনা" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত যুব সমাবেশ-২০২৫ এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানান, ইশরাকের মেয়র হওয়া না হওয়ার সিদ্ধান্ত আমি একা নিচ্ছি না।
এখানে সরকার কাজ করছে। আর সরকার যখন কাজ করে তখন ব্যক্তি হিসেবে করে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছি। সেটা পেলে সিদ্ধান্ত নেব।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন যেন জনজীবনে কোন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারত কর্তৃক পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানায়, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আমাদের থেকে ভারত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমরা মনে করি। এখন আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হবে, বিকল্প ব্যবস্থা হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সাময়িক কিছু সমস্যা হবে। তবে আমরা মনে করি, এতে করে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
এর আগে যুব সমাবেশ- ২০২৫ এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি জোর দেন তিনি। জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাগণের সঙ্গে মেলাবন্ধন সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে যুবক যুবতীদের অবহিতকরণের উদ্দেশ্যে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার না হতে পারে, এ জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার খুব জরুরি।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সেলের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পরে থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র ও ৩০ শতাংশ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ।
রেহিঙ্গাদের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেন এই ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে। স্থলসীমান্ত ও সাগরপথেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতকারীরা এগুলো ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন ভালো করতে না পারলে সবাইকে এর পরিণতি ভোগ করতে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, বক্সসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট-স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব জায়গা থেকে ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়।
মন্তব্য করুন


এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।
বৃহস্পতিবার দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
অপর দুই ভাই হলেন—এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান।
দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মোনাবিল হক তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে এএম ট্রেডিং নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে জাল নথি প্রস্তুত ও ব্যবহার করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঋণের নামে ১০৪ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৮ টাকা আত্মসাৎ করেছে। সাইফুল আলম দুর্নীতির মাধ্যমে এ অর্থ এস আলম সুপার এডিবল ওয়েলের স্বার্থে স্থানান্তর বা পুনর্বিন্যাস বা রূপান্তর করেছেন। যার পরিমাণ ৩৪০ কোটি টাকা। এই কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর, ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(২) ও ৪(৩)-এর আওতাভুক্ত।
এতে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন সময়ে আসামিদের আটক করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা বিদেশে পলাতক আছেন। মোহাম্মদ সাইফুল আলম, আবদুস সামাদ এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কর্তৃক তা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত প্রার্থনা করছি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, "আমরা অন্তবর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যদি আপনাদের দায়িত্বে সামান্যতম গড়িমসি হয়, তাহলে এই বাংলাদেশে আপনাদের মুখ দেখানোর কোনো জায়গা থাকবে না।"
তিনি বলেন, "জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিচার করা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। যদি তারা এটি করতে না পারে, তাহলে এটি তাদের সীমাবদ্ধতা এবং ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হবে।"
আজ শুক্রবার দুপুরে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আরও বলেন, "এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, খুনী হাসিনার বিচার করা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা যারা এই হত্যাযজ্ঞের সাথে সরাসরি জড়িত, যারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে, খুনী হাসিনার সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে আমাদের ভাইবোনদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার করা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যদি আপনাদের দায়িত্ব থেকে বিন্দুমাত্র গড়িমসি করেন, তাহলে এই বাংলাদেশে আপনাদের মুখ দেখানোর আর কোনো জায়গা থাকবে না।"
তিনি আরো বলেন, "আমাদের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আগামীর প্রজন্ম- আপনাদের শুধু একটি অনুরোধ করতে চাই, আমরা দলকানা হবো না, কোনো গোষ্ঠীর পূজা করবো না। আমরা কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।"
ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলেন, "বিভিন্ন মহলের প্রোপাগান্ডার সেলগুলো বক্তব্যের খণ্ডাংশ নিয়ে ঘটনাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে কি না, তা আমাদের খেয়াল করতে হবে। এই অভ্যুত্থানের সাথে সম্পর্কিত মানুষগুলোকে বিভিন্নভাবে গুজবের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে কি না, এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করার মনোভাব আমাদের মধ্যে থাকতে হবে।"
শহীদ পরিবারগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "এটা শুধুমাত্র শুরু, অল্প কিছু টাকা দিয়ে মানুষ হারানোর শোক পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা কথা দিতে চাই, এই জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন যতদিন থাকবে এবং আপনারা যতদিন থাকবেন, আপনাদের জন্য জীবনের বিনিময়েও কাজ করে যাবো।"
শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের ৫৮ জনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, আশশেফা খাতুন, পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন, খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।
এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য এশীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ চীনের বোয়াও ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে জোরালো অভিমত প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "মিয়ানমারের সংকট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত নেই, এটি পুরো এশিয়া অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গত সাত বছরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। এখন এশীয় নেতাদের উচিত তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।"
তিনি বলেন, "গাজায় চলমান গণহত্যা বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হলেও তা থামছে না। ফিলিস্তিন ইস্যু কেবল মুসলিম বা আরব বিশ্বের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।"
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, "ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, ঋণের বোঝা অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং মানবিক সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এই অবস্থায় এশিয়াকে শক্তিশালী ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এশিয়ার উন্নয়নের জন্য এসডিজি বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, দায়িত্বশীল অর্থায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জনে বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এশিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এশিয়ার সভ্যতা বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান শুধু এশিয়াই নয়, সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে।"
তিনি এশিয়ার যুবশক্তির সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "এই অঞ্চলের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা এশিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।"
এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই পদায়ন করা হয়।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ১৮তম বিসিএস ব্যাচের একজন সদস্য। এর আগে তিনি ডিআইজি হিসেবে হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি লক্ষ্মীপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হন। ২০০২ সালে তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলি হয়ে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেন।
পরে সারদা পুলিশ একাডেমিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের জুনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয় তাকে। মিশন শেষে ২০১০ সালে চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। এরপর দ্বিতীয় দফায় লাইবেরিয়া মিশনে যান তিনি।
২০১৩ সালে শফিকুল ইসলাম পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হন। এক বছর পরই আবার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেন আইভরি কোস্টে। দেশে ফিরে তিনি হাইওয়ে পুলিশের এসপি হন। ২০১৯ সালে তাকে নৌ পুলিশের এসপির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে একই সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশে যোগ দেন।
প্রসঙ্গত, ডিবিপ্রধানের পদটি প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে শূন্য। গত ১২ এপ্রিল ডিবির তৎকালীন প্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়। তার পর থেকে যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা ডিবির এ ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন।
মন্তব্য করুন