

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনে সিইসির কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের আগে একে একে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রবেশ করেন তিন বাহিনীর প্রধানরা। প্রথমে আসেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হন।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তিন বাহিনীর প্রধানদের স্বাগত জানান। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সিইসির কক্ষে বৈঠক শুরু হয়।
এদিকে, একই দিন দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসব বৈঠকে নির্বাচনের আগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম, সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে যৌথ বাহিনীর ভূমিকা ও প্রস্তুতি, আচরণবিধি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতেই এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪৫ জন।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯২ জন এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৫১ জনে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৬৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১২ জন, খুলনা বিভাগে ১০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৪ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এবং দুজনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫৮ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬২৯ জন।
২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
মন্তব্য করুন


হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩০ টি ইউনিট করছে। আগুনের তীব্রতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে আরও ৬ টি ইউনিট রওনা দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকাগামী কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প রুটে পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম ও কলকাতায় একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করেছে। এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ট্যাক্সিওয়েতে আটকে আছে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনসহ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিট যোগ দেয়।
বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের কার্গো ভিলেজে এই আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট এবং ঘটনাস্থলে যাচ্ছে আরও ৫ টি ইউনিট।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী বাটিক এয়ারের ওডি–১৬৩ ফ্লাইট এবং ঢাকা থেকে মুম্বাইগামী ইন্ডিগোর ৬ই–১১১৬ ফ্লাইট ট্যাক্সিওয়েতে অপেক্ষা করছে। ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি অবতরণ করেছে চট্টগ্রামে। দিল্লি থেকে ঢাকা আসা ইন্ডিগোর ফ্লাইট অবতরণ করেছে কলকাতায়। এয়ার এরাবিয়ার শারজাহ থেকে ঢাকা আসা ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। হংকং থেকে ঢাকা আসা ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের বিমানটি অবতরণ না করতে পেরে আকাশে চক্কর দিচ্ছে। আগুনের পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সৈয়দপুর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ না করে চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। একইভাবে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের পর পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে গেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ জানান, কার্গো সেকশনের পাশে একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীসহ বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা কাজ করছে।
বেবিচকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার মাহমুদ বলেন, দুপুর আড়াইটার বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় হঠাৎ আগুন লাগে। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর ফায়ার সেকশন, বিমানবাহিনীর ফায়ার ইউনিট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
মন্তব্য করুন


দেশের প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও বাম ধারার বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা। তিনি জানান, ‘অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।’
বদরুদ্দীন উমর ছিলেন বামপন্থি রাজনীতিবিদ, তাত্ত্বিক, লেখক ও গবেষক। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও বিশ্লেষণ করেছেন। চলতি বছর সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে, তবে তিনি পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
তার উল্লেখযোগ্য গবেষণাধর্মী গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ (তিন খণ্ডে), ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’, ‘পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা ও সংস্কৃতি’, ‘বাঙালীর সমাজ ও সংস্কৃতির রূপান্তর’, ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ’ এবং ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাংলাদেশের কৃষক’।
তার পিতা আবুল হাশিম ছিলেন প্রগতিশীল মুসলিম লীগ নেতা ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বদরুদ্দীন উমর ও তার পিতা দুজনেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরে ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তিনি বিস্তৃত গবেষণা সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান সরকারের বৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে বিপ্লবী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৭০-৭১ সালে তিনি গণশক্তির সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পার্টির মতাদর্শ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ লেখক শিবির, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তিনি কাজ চালিয়ে যান।
নিজের আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন: ‘আমার জন্ম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর, রোববার, দুপুর দুটোয়।’
বুদ্ধিজীবী ও গবেষক হিসেবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন।
চলতি বছর লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরসহ ৮ বিশিষ্টজনকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে সরকার। তবে বদরুদ্দীন উমর পুরস্কারটি ফিরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেওয়া এই পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে আমি এটা জানিয়ে দিচ্ছি।’
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পাচ্ছে তিনটি নতুন রাজনৈতিক দল। গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর দলগুলোর বিষয়ে কোনো দাবি আপত্তি না থাকলে এ দলগুলো ইসির চূড়ান্ত নিবন্ধন পাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন দাবি-আপত্তি চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি এলে তা নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেওয়া হবে।’
ইসির নিবন্ধন পেতে ১৪৩ টি দল আবেদন করে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ২২ দলের মাঠ মাঠ পর্যায়ে তদন্ত পাঠায় নির্বাচন কমিশন।
এরপর মাঠ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এনসিপি ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে এনসিপি প্রতীক জটিলতা ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে জাতীয় লীগসহ ১০ দলের অধিকতর যাচাইয়ের জন্য আবার তদন্ত করে সংস্থাটি। এরপর অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই শেষে কয়েক দফা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।
পুনরায় মাঠপর্যায়ের তদন্তে যে ১০টি দলকে পাঠানো হবে সেগুলো হলো— আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, জনতার দল, মৌলিক বাংলা, জনতা পার্টি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।
আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে ইচ্ছুক দলের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, এক তৃতীয় জেলা ও ১০০টি উপজেলা কমিটি এবং প্রতিটি কমিটিতে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ থাকতে হয়।
মন্তব্য করুন


সরকার চলতি বছরের মাঝপথে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই সরকার ১০০টিরও বেশি পণ্যের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক আরোপ করেছে। এ সিদ্ধান্ত জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
বর্তমান রাজস্ব আদায় দিয়ে বাজেট মেটানো সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার কার্যত অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। এখন ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার টাকার অযৌক্তিক মুদ্রণ করে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এভাবে চলতে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। জ্বালানি খরচসহ দৈনন্দিন খরচও বেড়ে যাবে, যা জনগণের নাভিশ্বাস উঠাবে।’
সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাদ দিয়ে বাজেটের খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এতে অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজেটে আরও ১ কোটি টাকার সাশ্রয় করা যেতে পারে।’
আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে। তাই আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কঠিন শর্ত শিথিল করার চেষ্টা করা উচিত।’
সরকারকে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উচিত সবার আগে বাজেটের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং সঠিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা।’
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী, নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ এখন আর নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালট থাকবে, একটি গণভোটের জন্য।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যেদিন ঐকমত্যের নথি জমা দেওয়া হলো, মনে আছে, সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল ১৭ তারিখ। তার আগে আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার ঠিকঠাক করে সব রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে সেখানে স্বাক্ষর করলাম। কিন্তু যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেটা উপস্থাপন করা হলো, তখন দেখা গেলো অনেক পার্থক্য। বিশেষ করে আমরা যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি। তাই আমরা বলেছি, ‘ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট’। অথচ তারা সেই আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা যে কমিশন তৈরি করেছেন, সেই কমিশন প্রায় এক বছর আট-নয় মাস ধরে ঐকমত্যের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। সংস্কার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রে একমত হয়েছিলাম। কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ থাকায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। অর্থাৎ, আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও মূল বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, এটাই নিয়ম। যখন আমরা নির্বাচনে যাবো, তখন ম্যানিফেস্টোতে এই বিষয়গুলো থাকবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা সেসব বিষয় সামনে আনবো, পার্লামেন্টে পাস করে দেশের পরিবর্তন ঘটাবো। আর যদি ভোট না দেয়, তাহলে সেটি বাদ পড়বে।
তিনি আরও বলেন, যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। আগে ১০ দফা, পরে ২৭ দফা, এরপর ৩১ দফা দিয়েছে, সবই সংস্কারের জন্য। আমরা প্রত্যেকটি সভায় উপস্থিত থেকেছি, আলোচনা করেছি, শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যের সনদে সই করেছি। বিভ্রান্তি যদি আসে, সেটা ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসেছে।
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন করবো, নির্বাচন করতে চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু আজকে সেই নির্বাচন বানচাল করার জন্য একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ এখন আর নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালট থাকবে, একটি গণভোটের জন্য, আরেকটি জাতীয় সংসদের জন্য। এই বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা এই নিয়ে রাস্তায় নেমে গোলমাল করছেন, তাদের অনুরোধ করবো জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। এক সময় আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আজকে জনগণ যে নির্বাচন চায়, তার বিরোধিতা করবেন না। এই দেশের মানুষ দেশ বিক্রির রাজনীতি ক্ষমা করে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লড়েছি, একসঙ্গে কাজ করেছি, তাদের নিয়েই আমরা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট আসুন, সবাই মিলে নির্বাচনের সুযোগকে কাজে লাগাই। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের পার্লামেন্ট, জনগণের সরকার গঠন করি।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছে।’ কেউ কোনো পক্ষপাতিত্ব করছে না দাবি করে প্রার্থীদের অভিযোগ রাজনৈতিক বলেও মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল বিভাগে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময়সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও তাদের চাহিদা তুলে ধরেন। সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়নে নানা দিকনির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভোটের পরিবেশ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেন।
যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রস্তুত আছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু করতে ১ লাখ সেনা সদস্য থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


চিকিৎসকদের পরিবর্তনের মানসিকতা নিয়ে চিকিৎসা সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি সোমবার (১২ মে) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সিভিল সার্জন সম্মেলন - ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের প্রতি এ আহ্বান জানায়।
জেলা সিভিল সার্জনদের নিয়ে দু’দিনব্যাপী সম্মেলন আজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম বারের মত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সিভিল সার্জনদের উদ্দেশে তিনি বলেন,‘সবার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হলে অনেক জিনিস সমাধান হয়ে যায়। অনেক প্রশ্ন সমাধান হয়। আশা করি দেখা সাক্ষাতের কারণে অনেক সুফল পাবো।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা স্বাস্থ্য নিয়ে একে অপরকে দোষ দেই। দোষ দিলে সমাধান হবে না। আমাদের মধ্যে ঘাটতি আছে। সেটা নিয়ে নিজেদের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অভাব ঘাটতির মধ্য দিয়েও ভালো করা সম্ভব। অন্তবর্তী সরকার নিজেদের সীমারেখার মধ্যে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যতটুকু চিকিৎসা সরঞ্জাম বা সুযোগ সুবিধা রয়েছে, এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি আমরা পরিবর্তনের জন্য নিজের মন ঠিক করতে পারি তাহলে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার ২৫ শতাংশ উন্নতি হয়ে যাবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সিভিল সার্জন সম্মেলনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন মানসিকতার উন্মোচন করছি এবং সেইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুনভাবে পথচলা শুরু হলো। স্বাস্থ্য সেবায় কোনো কাঠামো লাগে না উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো রাজনীতি নেই।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের আবাসিক রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর, বহুমাত্রিক ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "নববর্ষে জাতির প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশবাসীর ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
সতীর্থ স্বজনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই মাসে ছাত্রদলের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় শুনেছি, তরুণদের আন্দোলন কতটা তীব্র ছিল। পুলিশ বলছে, 'একজনকে গুলি করলে আরেকজন এসে দাঁড়ায়।' এই সাহস ও প্রেরণা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও মুখোশ পরে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরা মানুষদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু দাড়ি-টুপি পরা মানুষরা কি খারাপ? না।"
রিজভী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নববর্ষে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের অধিকার হরণ করেছে, কিন্তু আমরা তা ফিরে পাবই।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটাধিকার ও সংস্কারকে এক করে দেখা উচিত নয়। গণতন্ত্র হলো প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে কর্তৃত্ববাদের স্থান নেই। অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছেন। তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু সংস্কারের কথা বলছেন—এটি আমাদের বোধগম্য নয়।"
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনমুক্ত দেশই ছাত্রদলের জন্য ঈদের মতো আনন্দের দিন বয়ে আনবে। এই নববর্ষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করি।"
এই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন