

রমজান মাস মুসলিমদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বিশেষ সময়। এই মাসে মুসলিমরা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সিয়াম পালন করেন। শুধু সাধারণ মানুষই নন, পেশাদার ক্রীড়াবিদরাও রোজা রেখে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। রোজা রেখে ফুটবলের মতো শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং খেলা খেলা সহজ কাজ নয়। তবুও বিশ্বের অনেক মুসলিম ফুটবলার সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে রোজা রাখেন এবং মাঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল।
লামিন ইয়ামালের বাবা মরক্কোর এবং মা গিনির বংশোদ্ভূত। তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্পেনে। মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ফুটবলার ইতিমধ্যেই বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাসে তিনি অন্যান্য মুসলিমদের মতোই রোজা রাখছেন এবং রোজা অবস্থায়ই লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলছেন।
সম্প্রতি কিছু গুঞ্জন উঠেছিল যে, ক্লাবের পক্ষ থেকে লামিন ইয়ামালের রোজা রাখার বিষয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনের প্রথম লেগে তাকে দ্রুত বদলি করে নেওয়ার পেছনেও রোজা রাখাকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যম ডিয়ারিও এএস জানিয়েছে, ট্যাকটিকাল কারণেই সেদিন ইয়ামালকে বদলি করেছিলেন বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোজা রাখার ক্ষেত্রে ইয়ামালকে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বরং ক্লাবের মেডিক্যাল টিম তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্লাবের পুষ্টিবিদরা ইয়ামালের সাহরি ও ইফতারের মেন্যু ঠিক করে দিচ্ছেন, যাতে তিনি রোজা রাখার পাশাপাশি খেলায় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারেন।
চলতি মাসে ইয়ামাল বার্সেলোনার নিজস্ব আবাসন প্রকল্প লা মাসিয়া ত্যাগ করে তার দাদি ফাতিমা ও চাচা আব্দুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে ইফতার ও সাহরি করছেন তিনি। ক্লাবের পক্ষ থেকে ম্যাচের দিন তার ইফতারের সময়সূচির দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এই উদ্যোগগুলো দেখায় যে, ক্লাব লামিন ইয়ামালের ধর্মীয় বিশ্বাস ও রোজা রাখার সিদ্ধান্তকে সম্মান করছে এবং তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। রোজা রেখেও মাঠে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার মাধ্যমে ইয়ামাল তার ধর্মীয় ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
মন্তব্য করুন


বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা কিংবদন্তি অ্যাগনেস কেলেতি ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা তামাস রোখ। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কেলেতি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
এছাড়া কেলেতির ছেলে রাফায়েল বলেন, 'মায়ের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। তার জীবনীশক্তি ছিল অসাধারণ।' হাঙ্গেরির গণমাধ্যম নেমজেতি স্পোর্টের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি তাকে সমাহিত করা হবে। কারণ এই দিনটি অ্যাগনেসের জন্য বিশেষ দিন, তার জন্মদিন, বেঁচে থাকলে তিনি এ দিনটিতে ১০৪ বছর বয়সে পা রাখতেন।
এ কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'জাতির শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি শান্তিতে থাকুন।'
এদিকে অ্যাগনেস শুধু ক্রীড়াবিদ হিসেবেই বিখ্যাত নন; বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃসময়ে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, তারপর অলিম্পিক গৌরব অর্জন করে জীবনে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন। হেলসিঙ্কি (১৯৫২) এবং মেলবোর্ন (১৯৫৬) অলিম্পিকে তিনি মোট ১০টি পদক জেতেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল সোনা। তবে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন গেমসে চারটি স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক নারী জিমন্যাস্ট হিসেবে স্বর্ণ জেতার রেকর্ড গড়েন। এছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপেও রয়েছে তার তিনটি পদক। সেই সময় তিনি 'দ্য কুইন অফ জিমনাস্টিকস' অর্থাৎ 'জিমনাস্টিকসের রানী' হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন। তবে খেলোয়াড়ি জীবনে তার সাফল্য যেমন অনন্য, তেমনি তার জীবনসংগ্রামও অনুপ্রেরণাদায়ক।
বুদাপেস্টের একটি ইহুদি পরিবারে ১৯২১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম হয় অ্যাগনেস কেলেতির। মাত্র চার বছর বয়সে জিমন্যাস্টিকসের সঙ্গে তার শুরু হয় পথচলা। ১৬ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন এবং ১৯৩৯ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান। কিন্তু ইহুদি হওয়ার কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৪ সালে হাঙ্গেরি জার্মান নাৎসি বাহিনীর দখলে চলে যায়, ঐ সময় নিজের পরিচয় লুকিয়ে খ্রিষ্টান নারীর ছদ্মবেশে বেঁচে থাকেন অ্যাগনেস। বাঁচার জন্য জাল নথি তৈরি করে একটি গ্রামে লুকিয়ে থেকে কাজ করতেন। তবে গোপনে ঠিকই অনুশীলন চালিয়ে যান। কিন্তু অ্যাগনেস বেঁচে গেলেও তার বাবা এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হলোকাস্টের নির্মমতার শিকার হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সব খারাপ অতীত পেছনে ফেলে ফের খেলাধুলায় ফেরেন অ্যাগনেস। তার পরের গল্পতো সবারই জানা। তার অর্জনের শুরুটা হয় ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরির হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ জেতার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে তিনি সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জিমন্যাস্টিকস শিরোপা জয় করেন। ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করলেও, গোড়ালিতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ১৯৪৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এ দিকে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক শেষে হাঙ্গেরিতে না ফিরে তিনি ইসরাইলে স্থায়ী হন। সেখানে তিনি জিমন্যাস্টিকস কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন। যদিও পরে খেলাধুলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা কেলেতি জীবনের শেষ পর্যায়ে হাঙ্গেরিতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক সাইক্লিস্ট চার্লস কন্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ১০০ বছর বয়সী।
মন্তব্য করুন


নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় আরেকটি নতুন মাইলফলকের ঘোষণা দিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ পরিচালনা করবেন নারীরা। এবারই প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অফিসিয়ালই থাকছেন নারীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আসন্ন নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। যেখানে ১৪ আম্পায়ারের মধ্যে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের সাথিরা জাকির জেসি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম নারী আম্পায়ার হবেন তিনি।
সব নারী ম্যাচ অফিসিয়াল দিয়ে এর আগে কমনওয়েলথ গেমস ও দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিচালনা করা হয়েছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেই ধারার সূচনা হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এবারের আসর থেকে। যা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তার মতে, অল-উইমেন ম্যাচ অফিসিয়াল প্যানেলের অন্তর্ভুক্তি বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের সফলতা অর্জনের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
তিনি বলেন, ‘নারী ক্রিকেটের যাত্রায় এটি একটি দারুণ মুহূর্ত, যা আমরা আশা করি ভবিষ্যতে খেলাধুলার সব ক্ষেত্রেই পথপ্রদর্শক হবে। শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত ম্যাচ অফিসিয়াল প্যানেল অন্তর্ভুক্ত করা এক বিশাল মাইলফলক। এটি আইসিসির নারী-পুরুষ সমতা অর্জনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারেরই একটি শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি।’
এবারের উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রাইজমানিতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে আইসিসি। নারী বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানিসহ সামগ্রিক অর্থ পুরস্কার রাখা হয়েছে ছেলেদের গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের চেয়েও কয়েক গুন বেশি।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সাথিরা কদিন আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটেও গড়েছেন একটি ইতিহাস। দেশের প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ছেলেদের ক্রিকেটে। সম্প্রতি সিলেটে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজে টিভি আম্পায়ার ছিলেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী সাবেক এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরুর দিকের সেনানিদের একজন। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ হয়নি, খেলেছেন দুটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি। তবে দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি আরও নানা টুর্নামেন্টে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সময়ই তিনি কোচিং কোর্স করে কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটার, কোচ ও ক্লাব কর্মকর্তার ভূমিকাতেও দেখা গেছে তাকে। পরে তিনি পা রাখেন আম্পায়ারিংয়ে। এখানে এগিয়ে যান দ্রুত পায়ে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ করে নেন দ্রুতই। গত বছর আইসিসি ডেভেলপমেন্ট প্যানেলের আম্পায়ার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন সাথিরা। পরে উইমেন’স এশিয়া কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ উইমেন’স এশিয়া কাপে আম্পায়ারিং করেন। ছেলেদের একটি ম্যাচের পাশাপাশি মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠের আম্পায়ার ও টিভি আম্পায়ার মিলিয়ে ৮ ওয়ানডে ও ২২টি টি-টোয়েন্টি পরিচালনা করেছেন সাথিরা।
এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে হাইব্রিড মডেলে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে আসরটি। রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তান নারী দল ভারতে না গিয়ে তাদের ম্যাচ খেলবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।
আট দলের আসরে ৩৩ দিনে হবে ৩১টি ম্যাচ। বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপে।
মন্তব্য করুন


ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) পারফর্ম করা তরুণ ক্রিকেটারদের চান রবি শাস্ত্রী। এদের গড়ে তুলতে রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের সাময়িক সময়ের জন্য দলের বাইরে চান ভারতের সাবেক এই কোচ। অবশ্য ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যদি রোহিত-কোহলিরা ফর্মে না থাকেন বা ধারাবাহিক না হন- সেক্ষেত্রে ওই সময়ে এগিয়ে থাকা ক্রিকেটারকেই দলে চান তিনি।
এবারের আইপিএলে দারুণ পারফর্ম করছেন ইয়াশভি জয়সাওয়াল, জিতেশ শর্মা, তিলক ভার্মা, নেহাল ওয়াধেরা, রিঙ্কু সিং, প্রভসিমরান সিং, আনমলপ্রীত সিংদের মতো ক্রিকেটাররা। জয়সাওয়াল, রিঙ্কু, জিতেশরা যেমন আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়মিত রান করে দল জেতাচ্ছেন, বাকিরাও প্রয়োজন অনুযায়ী দারুণ খেলছেন।
বিশেষ করে ১২০-৩০ বা ১৭০-৮০, এমনকি দুইশর বেশি স্ট্রাইক রেটেও রান করছেন অনেকেই। এসব প্রতিভাবানদের হারাতে চান না শাস্ত্রী। দ্রুতই তাদের ভারতীয় দলে চান সাবেক এই ক্রিকেটার।
শাস্ত্রী বলেন, 'এরপর প্রথম যে টি-টোয়েন্টি সিরিজই আসে, এই তরুণদের খেলানো উচিত। এদের সামনে আনা উচিত। তাদের এখনই প্রস্তুত করা উচিত। রোহিত, কোহলির মতো ক্রিকেটাররা আগেই প্রমাণিত। আপনি জানেন তারা কী করতে পারে।'
'আমি আইপিএলে পারফর্ম করাদেরই দলে চাইব যেন তারা সুযোগ পায়। এতে তারাও যেমন সুযোগ পাবে, রোহিত-কোহলিরাও ওয়ানডে আর টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নিজেদের সতেজ রাখতে পারবে।'
ক্রিকইনফোর সেই অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীর এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয়, 'তাহলে রোহিত, কোহলি বা লোকেশ রাহুলরা কি জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন না?'
জবাবে শাস্ত্রী বলেন, 'এক বছর অনেক লম্বা সময়। কেউ ফর্মে থাকতে পারে। ফর্ম হারাতেও পারে। আপনার ওই সময়ের সেরা ক্রিকেটারকে খুঁজে বের করতে হবে। অবশ্যই অভিজ্ঞতা বা ফিটনেস- এসবও বিবেচনায় আসবে। কে সেই মুহূর্তে ধারাবাহিক, রান করছে কিনা, কোথায় রান করছে- এসবও দেখতে হবে।'
'দলে সঠিক পজিশনের জন্য সঠিক ক্রিকেটারকে দরকার। কেউ যদি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তিন-চারে ব্যাটিং করে তাহলে জাতীয় দলে তাকে দিয়ে আপনি ওপেন করাবেন বা ছয়ে নামাবেন- ব্যাপারটা কিন্তু তেমন নয়।'
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
সারা জীবন যে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন না এটা তিনি ভালই জানেন। সেটা চাইছেনও না। তাই বিরাট কোহলির ইচ্ছা, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগে সব কাজ শেষ করে ফেলার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-আরসিবির একটি পডকাস্টে এমনই কথা বলেছেন কোহলি। বেশ কিছু দিন পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের মুখে আবার অবসরের কথা শোনা গেল।
রানের প্রতি কোহলির খিদে এখনও আগের মতোই আছে। এ বারের আইপিএলে শতরান করেছেন। মোট আটটি শতরান হয়ে গিয়েছে আইপিএলে। ১৩টি ম্যাচে ৬৬১ রান করে কমলা টুপির দৌড়ে রয়েছেন।
আরসিবির একটি ভিডিওতে কোহলি বলেছেন, ‘কোনও কাজ অসমাপ্ত রেখে যেতে চাই না। আমি চাই না কোনও আক্ষেপ রাখতে। আমি নিশ্চিত যে সেটা হয়তো থাকবেও না। তবে এক বার আমার কাজ শেষ হয়ে গেলেই চলে যাব। তারপর অনেক দিন আমাকে দেখতে পাবেন না।’
কোহলির সংযোজন, ‘যতদিন খেলছি তত দিন নিজের সেরাটা দিতে চাই। এই বিষয়টাই আমাকে সর্বক্ষণ তাড়িয়ে বেড়ায়।’
২০০৮ সালে ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানোর পরেই কোহলিকে আইপিএল নিলামে কেনে আরসিবি। সেই থেকে একটি দলের হয়েই খেলে চলেছেন তিনি।
কোহলি বলেছেন, ‘ক্রীড়াবিদ হিসাবে আমাদের একটা মেয়াদ থাকে। আমি তাই পিছনের দিকে তাকাচ্ছি না। কোনও নির্দিষ্ট দিনে আমি কী করতে পারতাম সেটা ভাবতে ভাবতে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই না। কারণ সারা জীবন খেলা চালিয়ে যেতে পারব না।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
ফিফা বর্ষসেরা কোচের প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদের এই কোচ ছাড়াও সেরা পাঁচে রয়েছেন লিওনেল স্কালোনি, লুইস দে লা ফুয়েন্তে, জাবি আলোন্সো এবং পেপ গুয়ার্দিওলা।
গতকাল শুক্রবার ফিফা বর্ষসেরা কোচ ও খেলোয়াড়ের জন্য মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে। এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।
ফিফার এই পুরস্কারে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে ভক্ত-সমর্থকদেরও। সেরা খেলোয়াড়, সেরা কোচ এবং সেরা গোলকিপারের জন্য দর্শকদের ভোট মোট ভোটের ২৫ শতাংশ দেবে। বাকি ৭৫ শতাংশ ভোট দেবেন ফিফা সদস্যদেশগুলোর অধিনায়ক, কোচ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফিফার ওয়েবসাইটে ভোট দেওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন


ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টির (আইএলটি২০) প্রথম নিলামে শুরুতেই অবিক্রীত থাকার পর শেষ মুহূর্তে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং তাসকিন আহমেদ।
ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির দল এমআই এমিরেটস বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে কিনে নিয়েছে। অন্যদিকে, ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদকে দলে নিয়েছে শারজা ওয়ারিয়র্স, যেখানে তার দাম উঠেছে সাকিবের দ্বিগুণ—৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা আইএলটি২০-এর নিলাম এবারই প্রথম দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হলো। নিলামে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যের খেলোয়াড় ছিলেন ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন (১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার), তবে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির কেউই তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসার সুখবর পাওয়ার দিনেও দল পাননি পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব। এছাড়া মোহাম্মদ আমির, জেসন রয়, টেম্বা বাভুমা, জিমি অ্যান্ডারসন এবং মোহাম্মদ নেওয়াজের মতো পরিচিত ক্রিকেটাররাও অবিক্রীত রয়েছেন।
অশ্বিন আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার জন্য গত আগস্টে ভারতের সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। নিলামে প্রথম ডাকে অবিক্রীত থাকার পর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহের ভিত্তিতে আবার যখন নিলাম ডাকা হয়, তখনই সাকিবকে এমআই এমিরেটস এবং তাসকিনকে শারজা ওয়ারিয়র্স কিনে নেয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাসকিন আহমেদকে খেলার অনুমতি দিলে, এটি হবে দেশের বাইরে তার দ্বিতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অভিষেক। এর আগে তিনি গত বছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলেছিলেন। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে প্রায় সব টি-টোয়েন্টি লিগে খেললেও সাকিব আল হাসানের আইএলটি২০-তে খেলা হয়নি। তবে তিনি এই লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে গত জুলাইয়ে গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল) খেলেছেন। এবার এমআই এমিরেটসের হয়ে আগামী বছর ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া আইএলটি২০-এর চতুর্থ আসরে তার অভিষেক হবে।
২০২৬ আইএলটি২০-এর নিলাম ১ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, দুবাইয়ের ফোর সিজনস হোটেল, জুমেইরাহ বিচে অনুষ্ঠিত হয়। নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সর্বনিম্ন ১৫ লাখ ডলার খরচ করতে হবে, তবে ২০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না। প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ১৯ থেকে ২১ জন খেলোয়াড় থাকবেন। এর মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলো থেকে কমপক্ষে ১১ জন, স্বাগতিক আরব আমিরাতের ৪ জন, কুয়েতের ১ জন, সৌদি আরবের ১ জন এবং আইসিসির অন্যান্য সহযোগী দেশ থেকে অন্তত ২ জন খেলোয়াড় রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া ওয়াইল্ড কার্ড চুক্তির মাধ্যমে নিলামের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ ২ জন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো যাবে, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ করার সুযোগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন


পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবার শোবিজ জগতে প্রবেশ করছেন! তবে অভিনয় নয়, ব্যবসায়িক উদ্যোগে তিনি নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। তিনি এখন চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন। ব্রিটিশ পরিচালক ম্যাথু ভন-এর সাথে যৌথভাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি নতুন প্রযোজনা সংস্থা, যার নাম ইউআর-মার্ভ!
এই প্রযোজনা সংস্থার মূল লক্ষ্য হল প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণের পদ্ধতির সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করে শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করা।
রোনালদো এবং ম্যাথু ভনের এই অংশীদারিত্ব ইতিমধ্যেই সফলতার মুখ দেখছে। তারা একসাথে দুটি অ্যাকশন চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। প্রথম ছবিটি সম্পর্কে শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে রোনালদো বলেন, "এটি আমার জন্য একটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়, কারণ আমি সবসময় নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বেড়াই।"
অন্যদিকে, কিক-অ্যাস ও কিংসম্যান-এর মতো ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রের পরিচালক ম্যাথু ভনও রোনালদোর সাথে কাজ করতে খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, "ক্রিশ্চিয়ানো ফুটবল মাঠে এমন কিছু গল্প তৈরি করেছেন, যা কল্পনাতীত। এবার আমরা একসাথে দর্শকদের জন্য অনুরূপ অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প নিয়ে আসতে চাই।"
ফুটবলের বাইরেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। ২০২৪ সালে তিনি ইউআর ক্রিস্টিয়ানো নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন এবং পর্তুগালের বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান মিডিয়ালিভ্রে-তে বিনিয়োগ করেন। তার লক্ষ্য পরিষ্কার—বিনোদন শিল্পেও একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা।
এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে রোনালদো শোবিজ জগতে কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে ফ্যানদের মধ্যে এখনই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে!
মন্তব্য করুন


সফট সিগন্যালের বিপক্ষে মন্তব্য করেছিলেন বিরাট কোহলি, বেন স্টোকস, মার্নাস ল্যাবুশেনের মতো ক্রিকেটারও। এই নিয়মের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে জরিমানাও গুনতে হয়েছিল বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে। অবশেষে এই নিয়ম বাতিল করতে চলেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
আসন্ন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল দিয়েই এই নিয়মের ইতি টানতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরই মধ্যে এই বিষয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দুই দল ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এমনটাই নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় পোর্টাল ক্রিকবাজ। তাদের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে আইসিসির ক্রিকেট কমিটি সফট সিগন্যালের নিয়ম বাতিল করে আইন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি।
সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলে মাঠের আম্পায়াররা থার্ড আম্পায়ারের সহায়তা চান। সে সময় নিজেদের একটি মত জানিয়ে দেন আম্পায়াররা। তৃতীয় আম্পায়ার অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে দোটানায় ভুগলে মাঠের আম্পায়ারের মতকেই গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এই নিয়ম বাতিলের ফলে থার্ড আম্পায়ারের গুরুত্ব আরও বাড়বে। এখন থেকে মাঠের আম্পায়ারদের মতামত ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন থার্ড আম্পায়ার। ফলে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে আসতে পারে।
সফট সিগন্যালের নিয়মের সঙ্গে আরও দুটি নিয়মের পরিবর্তন আনতে চলেছে আইসিসি। এর মধ্যে একটি হলো দিনের আলো কমে গেলে ফ্ল্যাড লাইটের আলোয় ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। সেই সঙ্গে টেস্ট ম্যাচেও রিজার্ভ ডের প্রচলন হতে যাচ্ছে। যদিও সবগুলো বিষয়ই চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্কঃ
সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তাইতো তাকে দলে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়তে হতে পারে, তাই সাকিবকে পরে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আগামী ২১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া মিরপুর টেস্টে সাকিবের কারণে ফাঁকা হয়ে যাওয়া জায়গায় কে আসবেন, সেটি নিয়ে অনেক কৌতুহল ছিল। ধোঁয়াশায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাও। অবশেষে সাকিবের বদলি ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করল বিসিবি। এই জায়গায় তরুণ স্পিনার হাসান মুরাদের নাম ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের হয়ে সাদা পোশাকে এখনো নামা হয়নি হাসান মুরাদের। তবে দুইটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। যদিও গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। ২০২০ যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য এই মুরাদ। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে আসছেন তিনি।
ভারতে বসেই টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব। তখন ইচ্ছা প্রকাশ করেন, ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি মিরপুরে খেলতে চান তিনি। সবকিছু ঠিকমতোই চলছিল, দলেও জায়গা পান তিনি। দেশের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে রওনাও দিয়েছিলেন। তবে দুবাইয়ে ট্রানজিট নেওয়ার সময়ই তাকে দেশে না ফিরতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাকিবকে দেশে না ফিরতে পরামর্শ দিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সাকিবের দেশে না আসার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমকে গতকাল জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাতে না পড়তে হয় তাই তাকে দেশে না আসার পরামর্শ দিয়েছি। বিদায়ী টেস্ট খেলতে মিরপুর আসবেন না সাকিব আল হাসান।
সাকিব যাতে দেশে ফিরতে না পারেন সেজন্য অনেক আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছেন কিছু লোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাকিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। মিরপুরে স্টেডিয়াম এলাকায় হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন।
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের স্কোয়াড
নাজমুল হোসেন শান্ত(অধিনায়ক), সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, জাকির হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা ও হাসান মুরাদ।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
কোপা আমেরিকা শেষে জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন আনহেল ডি মারিয়া- ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। আগামীকালের ফাইনালটাই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার উইঙ্গার।
যাদের হাত ধরে আর্জেন্টিনা ২৯ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছে, ডি মারিয়া তাদের একজন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে জিতেছেন অলিম্পিক, কোপা আমেরিকা, লা ফিনালিসিমা ও অধরা বিশ্বকাপ। এখন আরেকটা ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে গুনছেন বিদায়ের দিনক্ষণ।
তাইতো বিদায়ের আগে ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন ডি মারিয়া।
জানিয়েছেন তার চাওয়া আর পাওয়ার হিসাব। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘জীবনে আমি যা চাইতাম, এই জীবন আমাকে তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছে।’
প্রিয় বন্ধুর শেষ ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া মেসিও। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ডি মারিয়া আগেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। ওর সঙ্গ আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। জয়ের আনন্দ নিয়ে সে যাতে মাঠ ছাড়তে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ফাইনাল খেলতে নামব।’
মন্তব্য করুন