

মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদি সংস্কারে না গিয়ে সরকার দেশে কিছু মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন, তিনি নিজেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানান।
আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং সামিট’– এ ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শাসনে এফআরসির ভূমিকা ও প্রভাব’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দীর্ঘদিন থাকছি না, খুব বেশি হলে হয়তো ৭-৮ মাস। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা এবং আমি কিছু মৌলিক সংস্কার করতে খুবই সিরিয়াস। আমরা কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদি সংস্কার করব না।’
তিনি বলেন, ‘যতটুকু সংস্কার শুরু হয়েছে, আমরা তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।
আমরা অনেক প্রতিবন্ধকতা ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। বহু জটিল বিষয় আছে যেগুলো বাইরে থেকে বুঝতে পারবেন না।’
এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ব্যবসায়ী ও ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সমর্থনের প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, ‘তারা খুব ভালো সমর্থন দিয়েছে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মানসুর, ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সোলেয়মান কুলিবালি প্রমুখ।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের লিড গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট সুরাইয়া জান্নাত।
বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের (আইসিএবি) সভাপতি এন কে এ মবিন এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএবি) সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


দেড় মাসের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ২০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা নিশ্চিত করেছেন যে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
এর আগে, ৬ নভেম্বর রিজার্ভের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারে ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা কমে গিয়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ডলারপ্রতি ১২০ টাকার মান নির্ধারণ এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে রিজার্ভ ১৯ থেকে ২০ বিলিয়নের মধ্যে স্থিতিশীল ছিল।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমদানি বৃদ্ধির কারণে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের ডলার কিনতে ১২৭.৭০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোকে নতুন এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানিতে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ১০ শতাংশ। একই সময়ে রেমিট্যান্স ৩০ শতাংশ এবং রপ্তানি ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ইতিবাচক প্রবণতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশের চলমান নানান ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ লক্ষ্যে তিনি সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আজ (বুধবার) বৈঠক করবেন।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, বুধবার তিনি সব রাজনৈতিক দল এবং পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বসবেন।
শফিকুল আলম আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সবার সঙ্গে সংলাপের আহ্বান করেছেন। তিনি তাদের সঙ্গে বসবেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্য। তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সফল করতে হলে দেশের সব ধর্মের মানুষকে একত্রে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘কোনো ধর্মকে আলাদা করে দেখা যাবে না। রাষ্ট্রকে সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দিতে বাধ্য থাকতে হবে। আমরা নিজেরা যদি বিভক্ত হই, তবে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হব। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হতে চাই না।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব নাগরিকের অধিকার সমান হবে। সেখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত হবে না, সবাই হবে সমান মর্যাদার নাগরিক।’
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনির মধ্যে নয়, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে।
রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে ধর্ম, পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য করবে না।’
প্রধান উপদেষ্টা ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকাল দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, মন্দিরের সার্বিক অবস্থা এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমদানি করা চালের প্রথম চালান আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবে। ভারত থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৬৯০ টন সেদ্ধ চাল আমদানি করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারত থেকে আমদানি করা এই চাল নিয়ে এমভি তানাইজ ড্রিম নামের জাহাজ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। চালের নমুনা সংগ্রহ করে ভৌতপরীক্ষা সম্পন্ন করার পর দ্রুত খালাস কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সেই পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানায় ইসি।
এ সময় সম্ভাব্যতা অনুযায়ী কেন্দ্রসমূহে সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করা হবে বলে জানায় ইসি।
একইসঙ্গে মাঠে ব্যবহৃত ইন্টারনেট কানেক্টেড বডি ক্যামেরা ও একটি লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সমন্বয় সেলে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানায় ইসি।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটার, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব দল ও প্রার্থী যাতে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, এর জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাঠামো অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লীড মন্ত্রণালয় হিসেবে নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাহিনী ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মাঠ পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।
পরিপত্রে আরো বলা হয়, নির্বাচনের সময় বাহিনী মোতায়েনের ধরন অনুযায়ী কেন্দ্রভিত্তিক স্থায়ী মোতায়েন, স্থায়ী/অস্থায়ী চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও আভিযানিক দল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যকর থাকবে।
নির্বাচনের আগে ৪ দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর ২ দিন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এতে আরো জানানো হয়, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, গুজব ও অপতথ্য রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কাভারেজ এবং বডি ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। ভোটারদের স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তার জন্য এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সভায় পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চ জানায়, ৪২৭৬১ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬৬৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
এর মধ্যে ৮ হাজার ২২৬ কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০৪৩৭ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বলা হয়েছে।
ইসির ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি আরও নিষ্পত্তি ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, রিটার্নিং কর্মকর্তা দ্বারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি, নির্বাচনী প্রচার চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিল করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক এবং চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্র হাতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিলে নামে এমপি মুজিবুল হকের সমর্থকেরা। এসময় আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিত নেতারা চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমানের সমর্থনে মহাসড়কে নেমে ভাঙচুর চালায়। পরে এমপি মুজিবুল হকের সমর্থকেরা তাদের প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উভয় পক্ষ মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেছে।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
মন্তব্য করুন


দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে।
বুধবার সেনাসদরে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, সদর দফতর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (জিওসি আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সে রূপরেখার মধ্যে সময়সীমাও দেওয়া আছে। আমরা আশা করি নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান আরও বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যেটুকু রূপরেখা প্রনয়ণ করেছে সেটার উপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনী যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আমাদের যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখন সীমিত আকারে চলছে তারমধ্য নির্বাচনের সময় আমাদের কী করণীয় সেটাকে ফোকাসে রেখেই প্রশিক্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের সঙ্গে একটি বিষয় সম্পর্কিত তা হলো শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমরা বলে থাকি 'উই ট্রেইন এজ উই ফাইট'।
গত ১৫ মাস সেনাবাহিনী বাইরে আছে উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত বা তার কিছুটা পরেও যদি বাইরে থাকতে হয় তাহলে আরও কিছুদিন বাইরে থাকতে হবে। এতে করে আমাদের প্রশিক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, এর পাশাপাশি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গত ১৫ মাস যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে সেনাবাহিনী; এটা সহজ পরিস্থিতি ছিল না। এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশ প্রতিদিন ফেস করেনি। এজন্য আমরাও চায় একটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এবং আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসতে পারি।
গত ১৫ মাস সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহয়তায় নিয়জিত আছে এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। এই ১৫ মাস সেনাবাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


দেশে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন করা সম্ভব বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সব দলকেও সহযোগিতা করতে হবে।
আজ সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনের ৩ নম্বর ভোটকেন্দ্র তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকা ৪০ হাজার বডিক্যামেরা সেন্টার থেকে মনিটর করা হবে।
সেই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার মোতায়েনসহ ৮০ হাজার সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য থাকবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যেকোনো অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
তিনি আরো বলেন, গত জুলাইয়ের থেকে এই জুলাইয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
থানায় কেউ আসতো না। আনসার বাহিনী বিদ্রোহ করছিল, অন্যান্য বাহিনীগুলোও অতোটা সক্রিয় ছিল না। এখনও হয়তো আমরা কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে পরিস্থিতি যে পর্যায়ে আছে আমাদের নির্বাচন করতে কোনো সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, নিরীহ নিরপরাধ ব্যক্তি যেন আইনের আওতায় না আসে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। টাকার লোভে অনেকের নামে জুলাই-আগস্টে মামলা হয়েছে। কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেই চেষ্টা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া, সঙ্গে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরনো সমস্যা। হাসপাতালে ভর্তির পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) নেয়া হয় তাকে।
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছিলেন ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর আহ্বানে খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপির রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।
বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। তার নেতৃত্বে কয়েক দশকে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন