

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত, এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন বিলম্বিত করার অপচেষ্টা থাকতে পারে।
আজ সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষায়, ‘মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক কি না, তা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। এই ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন প্রভাবিত বা বিলম্বিত করার কোনো অপচেষ্টা চলছে কি না—সে সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটিকে এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা তীব্রভাবে এর নিন্দা জানাই। বিএনপির যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল বহন করে না। মামলায় যাদের নাম এসেছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘মিটফোর্ডের এই ঘটনা কোনো চাদাবাজি বা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক। এই ঘটনার পেছনে একটি চিহ্নিত মহলের হাত রয়েছে, যারা বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে সুনির্দিষ্ট সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে। এসব ইঙ্গিত দেয়, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে চাইছে এবং বিএনপিকে টার্গেট করছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পথে দেশকে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। সরকারের উদাসীনতা ও একপেশে অবস্থান আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে সংঘাত-উসকানিতে না পা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সোহাগ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে দুর্ভিক্ষের আলামত দেখছে বিএনপি। দেশের চলমান এই সংকট নিরসনে নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ ভোটের অধিকার ফিরে পেলে সব সমস্যার সমাধান হবে। আর দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে মানুষ কাউকে ছেড়ে দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপি সিনিয়রর যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিবিসি হাসিনার খুনের হুকুমের তথ্য প্রমাণ করেছে। এর আগে ৭৫ এর ২৫ জানুয়ারি বাকশালের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল। এখন একটি ভিন্ন চক্র ভোট নিয়ে টালবাহানা করছে।
রিজভী বলেন, ১৮-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে হাসিনার অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ নানা ছিদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করছে, এখনও সচিবালয়ে প্রশাসনে ফ্যাসিবাদ বহাল আছে তারা মাথাচারা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বিএনপিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সেইফ এক্সিট চাইলে নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেইফ এক্সিট কারা নেবে জনগণই তা নির্ধারণ করবে।
শনিবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ মিনারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন। বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশিরা আমাদের বন্ধু। তারা পরামর্শ দিতে পারে, ক্ষমতায় বসাতে পারে না। ক্ষমতায় বসাবে দেশের জনগণ।
নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি, জনগণ যদি আপনাদের (বিএনপি) চায়, আপনারা ক্ষমতায় যান। জনগণ না চাইলে আমরা সেইফ এক্সিট নেব। দ্যাট উইল বি ডিসাইডেড ইন আওয়ার জেনারেল ইলেকশন। তার আগে নয়। ওইটা ডিসাইড করার ক্ষমতা আর কারও নাই, ক্ষমতা আছে জনগণের।
নির্বাচন সবার জন্য সেইফ এক্সিট উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা (বিএনপি) যদি ক্ষমতায় আসতে চান, পরিবর্তন চান, নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচনে যদি আসতে চান, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেইভাবে নির্বাচন হবে। যাদের কাছে নালিশ করেন, তাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক আছে?
তিনি বলেন, ফখরুল সাহেবের সেইফ এক্সিট দরকার। যেভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে নেমেছেন। আবারও অগ্নিসন্ত্রাসের আভাস দিচ্ছেন। এটা ভালো নয়। এর পরিণাম শুভ হবে না। আমরা এক্সিট করব না। আমরা ফাইটার। ফাইট করে এসেছি। বন্দুকের নল আমাদের ক্ষমতার উৎস নয়। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে ষড়যন্ত্র নেই।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, অপরাধী যত বড়ই হোক, ‘মব জাস্টিস’ বা উশৃঙ্খল জনতার বিচার সমর্থনযোগ্য নয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতা–কর্মীদের নিয়ে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনার একক নাটকীয় নির্বাচন। এসব নির্বাচনের সময়কার সকল নির্বাচন কমিশনারই ফ্যাসিবাদের অংশ। তবে তারা যত বড় অপরাধীই হোক, বিচার হবে আইনের মাধ্যমেই, মব জাস্টিসের মাধ্যমে নয়। মব জাস্টিস সমর্থনযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা এবং মব জাস্টিসের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
রিজভী অভিযোগ করেন, দেশে আবারও করোনার ভয়াবহতা বাড়ছে, কিন্তু সরকার কোনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একইভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৬ জুন) যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনেক দীর্ঘ সময়। বিচার চলমান প্রক্রিয়া।
সংস্কার হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে। সেটা হতে এক থেকে দেড় মাসের বেশি লাগবে না।
আমীর খসরু বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে। মানুষ ২০ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।
তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মাধ্যমে অচিরেই দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পাবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
মন্তব্য করুন


গণতন্ত্রের উত্তরণের সময়কে বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে। আশা করি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায় ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে বিএনপির চারটি আসনে সমঝোতা হয়েছে। এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং সারা দেশে অন্য কোনো আসনে জমিয়তে উলামায় ইসলামের প্রার্থী থাকবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'বাংলাদেশ এখন একটা ট্রাজিশনাল পিরিয়ডে আছে। ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন, যে শাসন আমাদের সমস্ত মূল্যবোধগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল। সেই ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি এবং নির্বাচনের পরে একটা নির্বাচিত সরকার, নির্বাচিত সংসদ, আমাদের দেশকে, জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা আমরা সবাই করছি।
কিছু সংখ্যক ব্যক্তি, মহল তারা এই ট্রাজিশনাল প্রসেসকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ভয়ংকরভাবে চক্রান্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
আগামীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ জরুরি নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, যদি জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে শেখ হাসিনা দণ্ডিত হন, তবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন।
শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, শেখ হাসিনার পরিণতি যদি নির্মম হয়, তবে তার পাশে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা দাঁড়াতে সাহস পাবেন না। যারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, সংবিধানকে ছিঁড়ে মানুষের অধিকার লুণ্ঠন করেছে, তারা ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং বিচারের মাধ্যমে তারা কারাগারে যাবে। জুলাই বিপ্লবে শহিদরা ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে চিহ্নিত হবেন। এই বিপ্লব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংঘটিত হয়েছিল। এ বিপ্লবের অর্জনকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রকারী এর বিরোধিতা করতে পারবে না। বিপ্লবীরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আওয়ামী লীগ ভোটাধিকার হরণ করেছিল, যা ফ্যাসিস্ট শাসনের একটি উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা থেকে হেলিকপ্টারে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে ঢাকায় এনে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার ধারাবাহিকতায় বিগত তিনটি নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। যারা এসব নির্বাচনের মাধ্যমে কলঙ্কিত করেছেন, তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।
এদিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিলেন, যা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির দায়ে খায়রুল হকের গ্রেফতার এবং বিচার হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য একতরফা, মধ্যরাতের নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ, রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নির্বাচনি অপরাধে অভিযুক্ত করা উচিত। যারা নির্বাচনি অপরাধে জড়িত ছিলেন তাদের বিচার হওয়া উচিত।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন:
১. বিগত নির্বাচনকে বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ করে যারা নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনি অপরাধ করেছে, তাদের বিচার করা।
২. সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করা।
৩. আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন পরিবেশ না থাকলে যে কোনো সময় ভোট বন্ধের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে ফিরিয়ে দেওয়া।
৪. নির্বাচনকালীন সন্ত্রাস, ভীতি সঞ্চার, বা অন্য যেকোনো নির্বাচনি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. দুর্নীতিবাজ, টাকা পাচারকারী, ব্যাংক লুটেরা এবং ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাধা দেওয়া।
৬. আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া।
৭. নির্বাচনি গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনে বাধা সৃষ্টি করা আইন বাতিল করা।
৮. নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সংলাপের ব্যবস্থা করা।
৯. নির্বাচনী মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ করার উপায় বের করা।
১০. নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করার আহ্বান জানানো।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "নববর্ষে জাতির প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশবাসীর ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
সতীর্থ স্বজনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই মাসে ছাত্রদলের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় শুনেছি, তরুণদের আন্দোলন কতটা তীব্র ছিল। পুলিশ বলছে, 'একজনকে গুলি করলে আরেকজন এসে দাঁড়ায়।' এই সাহস ও প্রেরণা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও মুখোশ পরে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরা মানুষদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু দাড়ি-টুপি পরা মানুষরা কি খারাপ? না।"
রিজভী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নববর্ষে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের অধিকার হরণ করেছে, কিন্তু আমরা তা ফিরে পাবই।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটাধিকার ও সংস্কারকে এক করে দেখা উচিত নয়। গণতন্ত্র হলো প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে কর্তৃত্ববাদের স্থান নেই। অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছেন। তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু সংস্কারের কথা বলছেন—এটি আমাদের বোধগম্য নয়।"
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনমুক্ত দেশই ছাত্রদলের জন্য ঈদের মতো আনন্দের দিন বয়ে আনবে। এই নববর্ষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করি।"
এই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ২০০৭-২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনের সময় সবক্ষেত্রে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সুইডেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. ফরহাদ আলী খান, সহ-সভাপতি সিরাজুল হক খান রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন দুলু, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক আফসার আহমেদসহ সুইডেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ নরডিক শাখার নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী, নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ এখন আর নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালট থাকবে, একটি গণভোটের জন্য।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যেদিন ঐকমত্যের নথি জমা দেওয়া হলো, মনে আছে, সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল ১৭ তারিখ। তার আগে আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার ঠিকঠাক করে সব রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে সেখানে স্বাক্ষর করলাম। কিন্তু যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেটা উপস্থাপন করা হলো, তখন দেখা গেলো অনেক পার্থক্য। বিশেষ করে আমরা যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি। তাই আমরা বলেছি, ‘ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট’। অথচ তারা সেই আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা যে কমিশন তৈরি করেছেন, সেই কমিশন প্রায় এক বছর আট-নয় মাস ধরে ঐকমত্যের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। সংস্কার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রে একমত হয়েছিলাম। কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ থাকায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। অর্থাৎ, আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও মূল বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, এটাই নিয়ম। যখন আমরা নির্বাচনে যাবো, তখন ম্যানিফেস্টোতে এই বিষয়গুলো থাকবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা সেসব বিষয় সামনে আনবো, পার্লামেন্টে পাস করে দেশের পরিবর্তন ঘটাবো। আর যদি ভোট না দেয়, তাহলে সেটি বাদ পড়বে।
তিনি আরও বলেন, যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। আগে ১০ দফা, পরে ২৭ দফা, এরপর ৩১ দফা দিয়েছে, সবই সংস্কারের জন্য। আমরা প্রত্যেকটি সভায় উপস্থিত থেকেছি, আলোচনা করেছি, শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যের সনদে সই করেছি। বিভ্রান্তি যদি আসে, সেটা ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসেছে।
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন করবো, নির্বাচন করতে চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু আজকে সেই নির্বাচন বানচাল করার জন্য একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ এখন আর নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালট থাকবে, একটি গণভোটের জন্য, আরেকটি জাতীয় সংসদের জন্য। এই বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা এই নিয়ে রাস্তায় নেমে গোলমাল করছেন, তাদের অনুরোধ করবো জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। এক সময় আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আজকে জনগণ যে নির্বাচন চায়, তার বিরোধিতা করবেন না। এই দেশের মানুষ দেশ বিক্রির রাজনীতি ক্ষমা করে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লড়েছি, একসঙ্গে কাজ করেছি, তাদের নিয়েই আমরা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট আসুন, সবাই মিলে নির্বাচনের সুযোগকে কাজে লাগাই। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের পার্লামেন্ট, জনগণের সরকার গঠন করি।
মন্তব্য করুন


মাজার ভাঙা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ভেতর থেকে গভীর চক্রান্ত চলছে। পাকিস্তান আমলেও মাজার ভাঙা ও লাশ পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ তৌহিদী জনতার নামে কারা এখন এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন