

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তেলকুপি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার ভোর ৫টায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১৮০ সাব পিলার ৭এর তেলকুপি মুড়িয়া মাঠ এলাকায়। গুলিবিদ্ধ কৃষকের নাম হাবিল উদ্দীন (৩০), তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি মোল্লাটোলা গ্রামের বেলাল উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভোরে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১৮০ সাব পিলার ৭এর কাছের তেলকুপি মুড়িয়া মাঠে গমের জমিতে কাজ করছিলেন হাবিল। ওই সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোপালনগর ক্যাম্পের জওয়ানরা হাবিলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গুলিবিদ্ধ হাবিল জানিয়েছেন, তিনি জমিতে পানি দিতে গিয়েছিলেন। ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে কাজ করার সময় বিএসএফ তাকে গুলি করে। হাবিলের ভাবি সুলেখা বেগম জানান, তাদের জমিতে সেচের মর্টার রয়েছে, যেখানে তার দেবর পানি দিচ্ছিলেন, এ সময় বিএসএফ তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তিনি দাবি করেছেন, হাবিল একজন কৃষক, মাদক চোরাকারবারি নয়।
শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য কাশেদ আলী জানিয়েছেন, বিজিবি ও স্থানীয়দের নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর সীমান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। আজ ভোরে হাবিল গুলিবিদ্ধ হন।
ইউপি চেয়ারম্যান নিজামুল হক রানা জানান, তিনি মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিবারের সদস্যরাও বলেছেন যে, হাবিল গমের জমিতে পানি দিতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বিএসএফ তাকে গুলি করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৯ বিজাটির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, তেলকুপি সীমান্তে আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন চোরাচালানকারী সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চোরাকারবারিরা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
পরে জানা যায়, হাবিল নামে এক চিহ্নিত চোরাকারবারি বিএসএফের গুলিতে আহত হয়েছেন এবং তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে, বিজিবির দাবি অনুযায়ী তেলকুপি সীমান্ত এলাকায় কোনো কৃষক অবস্থান করছিল না।
এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বিএসএফকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


টেকনাফে সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। তিনি স্থানীয় লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার (১১ জানুয়ারি) মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি গুলি করতে করতে বাংলাদেশের অংশে ঢুকে পড়েছিল। ফেরত যাওয়ার সময় তারা মাইন পুঁতে রেখেছিলো বাংলাদেশের অংশে। পরে সোমবার সকালে নিজের চিংড়িঘের দেখতে গেলে সেখানে মাইন বিস্ফোরণে ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হানিফের। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে রোববার আরাকান আর্মির গুলিতে শিশু হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সোমবার সকালে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয় স্থানীয়রা। এ সময় তারা বিজিবির গাফলতির কথা তুলে ধরে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। গুলিবিদ্ধ হুজাইফা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে দুটি পিস্তল ও বুলেটসহ সোহাগ (৩২) নামের একজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর ৬ টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কুমিল্লা ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী হোমনা উপজেলার মাথাভাঙা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে ওই এলাকার তারু মিয়ার ছেলে অস্ত্রধারী মোঃ সোহাগকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ০২ টি পিস্তল এবং ১৪ রাউন্ড এ্যামুনেশন উদ্ধার করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়।
আটক হওয়া ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র হোমনা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
মন্তব্য করুন


মানিকগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলার পলাতক আসামি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের এপিএস আমিনুর রহমান সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে দিঘি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুর রহমান সেলিম সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের রমনপুর গ্রামের আলতাফ মাস্টারের ছেলে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে দিঘি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আমিনুর রহমান সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর উপজেলার ২নং দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারের প্রতি অনাস্থা প্রদান ও অত্র ইউনিয়নে বিধি মোতাবেক প্রশাসক নিয়োগ প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) সকালে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ২ নং দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শনে যান এবং এবং কার্যালয়ের বিভিন্নজনের সাথে কথা বলেন। তবে অভিযোগকারী ওয়ার্ড সদস্য কেউই ওইদিন ইউনিয়ন পরিষদে যাননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানায়, এখানে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়ন সদস্যদের ঐদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বাধা প্রদান করে।
লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, মোঃ আসলাম খান, মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, মোঃ জাহের, রোছমত আলী, নাজমুল হাসান, খোরশেদ আলমসহ আরো অনেকে উল্লেখ করেছেন, আমরা আদর্শ সদর উপজেলার ২নং দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য। ৫ আগষ্ট প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে অত্র ইউনিয়নের ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ও ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমুল হাসানকে উপেক্ষা করা হয়, যাহা বিধি সম্মত নয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তার দায়িত্ব পাওয়ার পর হতে বিভিন্ন রকম অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন রকম ট্যাক্স টোল বৃদ্ধি করে দেয়। বিভিন্ন সরকারি অনুদানের বিষয় আমাদেরকে অবগত না করে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন নিজের ইচ্ছামত। পরবর্তীতে আমাদেরকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন। জনগণের সামনে আমাদের কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। ইউনিয়নের রিলিফ বন্টনে নানা অনিয়ম করেন। নিয়মিত অফিস করেন না, ফলে জনসাধারণ বিভিন্ন রকম ভোগান্তিতে পরেন। উল্লেখ্য যে, ইউনিয়নের হতদরিদ্র চাউলের ডিলারশীপ তার মায়ের নামে নিয়ে নিজে পরিচালনা করেন এবং বিতরণে নানা রকম অনিয়ম করেন। এহেন অবস্থায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারের প্রতি অনাস্থা প্রদান করিলাম এবং বিধি মোতাবেক একজন প্রশাসক নিয়োগ করার জন্য মহোদয়ের নিকট সদয় আবেদন করছি।
সমবায় অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, যারা অভিযোগ করেছে তারা আমার পরি পরিদর্শনের দিন ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি। ফলে আমি কথা বলতে পারিনি তাদের সাথে । তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, আমাদেরকে পথে পথে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে, হুমকি দেয়া হয়েছে। তাই আমরা আতঙ্কে ঐদিন ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারিনি। বিএনপি'র একটি শক্তিশালী মহল এর যুবলীগ নেত্রী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে এই পদে বহাল রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মুঠো ফোনে কল দিলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নে চরম অনিয়ম চলছে বলে নানা অভিযোগ রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিঠুকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। আর ভিতরে কোনরকমে যদি প্রবেশ করেও কোন কাজ পরিচালনা করতে পারছে না। আওয়ামী লীগের অপর অংশের নেতাকর্মীরা ইউপির কাজ বন্টন করছে। এমন নানা ধরণের অভিযোগ স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি টিসিবির কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চালও ভাগাভাগি করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কয়েকজন ওয়ার্ড মেম্বার। এমনই অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু সমর্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিগত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠুকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে তেমন যেতে পারেন না। উনার কাজকর্ম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। টিসিবি কার্ড ও চাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কয়েকজন মিলে ভাগ করে নিজের মত করে বন্টন করেছে। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান মিঠু সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর নানা নির্যাতন, হামলা-মারধর চলছেই। উনার জমি দখল ও কলা গাছ কেটে নিয়ে গেছে। ভয়ে-আতংকে তিনি এলাকাছাড়া।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু জানান, ইউনিয়নবাসী আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা করার জন্য। আমি বিগত সময়ে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চভাবে জনগণের সেবা করতে। জনগণও আমাকে সব কাজে সহায়তা করেছে। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনের পর আমি বেশ বিপদে আছি। আমাকে আমার কার্যালয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোন কাজকর্ম আমি করতে পারছি না। পদে পদে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে আমাকে। এই দুইদিনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউনিয়নের কয়েকজন সুবিধেভোগি ওয়ার্ড মেম্বার টিসিবি ও চাল নিজেরাই ভাগাভাগি করে বন্টন করেছে। আমাকে একবারও জিগেস করেনি। আমি সব সময় কার্যালয়ে যোতে চাই। জনগণের সেবা করতে চাই। আমি যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তা মৌখিকভাবে এসিল্যান্ড সাহেবকে এবং পুলিশ সুপার ও বিভাগীয় কমিশনারকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: তোফায়েল হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার আমির হোসেন চৌধুরী ও ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: জামাল হোসেন জানান, চেয়ারম্যান মিঠু সাহেব অনেকদিন ধরে অসুস্থ্য। তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তাই ইউনিয়ন পরিষদে আসতে পারে না। আমরা সবাই মিলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অনেককেই ১০ কেজি করে চাল না দিয়ে ২৫০/৩০০ গ্রাম করে কম দেয়া হয়েছে। এছাড়া যারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে তাদেরকে টিসিবি কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারকৃত চাল দেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বেশ কয়েকজন মহিলা জানান, আমরা গরীব মানুষ। কিন্তু টিসিবি কার্ড পাইনি। চালও পাইনি। আমাদের অপরাধ আমরা নৌকার পক্ষে কাজ করছি। চেয়ারম্যান সাহেবও নাই , আর আমরাও চাল পাই না।
এ বিষয়ে ধামতী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান সাহেবকে কার্যালয়ে আসতে কেউ বাঁধা দিচ্ছে কি না তা আমি বলতে পারবো না। আর টিসিবি ও চাল বিতরণ কে ভাগাভাগি করছে, তাও জানি না। কোন জায়গায় সমস্যা তা জানি না। চাল কম দেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন, অনেক বস্তায় চাল কম থাকে। তাই অনেককে ২০০/১০০ গ্রাম করে চাল কম দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ধামতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান সরকার জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু অনিয়মিত। বেশিরভাগ সময় ইউনিয়ন পরিষদে আসে না। আমরা উনাকে কোন বাঁধা দেইনি আসতে। আর টিসিবি ও প্রধানমন্ত্রীর চাল ভাগাভাগি ও বিতরণ আমি করিনি। সব মেম্বাররা মিলে করেছে। তারা সবাই ভাগাভাগি করে নেওয়ার পর আমাকে এসে ২৫০/৩০০ কার্ড দিয়েছে। তারা বলছে গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করে দিতে। আমি না করেছি। তারা জোর করে দিয়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ মিথ্যা। দলীয় অর্ন্তকোন্দল নিরসনে কোন ভূমিকা নিয়েছেন কিনা ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরাই মিঠুকে চেয়ারম্যান বানিয়েছি। অথচ গত সাংসদ নির্বাচনে সে এমপি সাহেবের( স্বতন্ত্র এমপি আবুল কালাম আজাদ) বিরুদ্ধে কাজ করেছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনেও সে আনারস প্রতিকের( এমপি আজাদের ছোট ভাই মামুন) বিপক্ষে কাজ করেছে। এসব কারণে এমপি সাহেবের সাথে তার দূরত্ব রয়েছে। তারপরেও এমপি সাহেব তার বিপক্ষে আজও কোন কথা বলেনি। সর্বোপরি আমরা তাকে কোন বাঁধা দেইনি।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ২৮ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।
রবিবার (২০ অক্টোবর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে র্যাব।
আটককৃত মাদক কারবারিরা হলেন, স্বপন বিশ্বাস (৩৩) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার কালিপদ বিশ্বাসের ছেলে এবং বেল্লাল হোসেন (৪৫) একই জেলার কসবা উপজেলার আকাপপুর গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ছেলে।
কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার মাহমুদুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কক্সবাজারের সীমান্ত পরিদর্শনকালে টেকনাফে হ্নীলা জাদিমুড়া পশ্চিম পাহাড় থেকে ১৭ শ্রমিকসহ ১৯ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগের জায়গায় কাজ করতে গেলে তাদেরকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন।
অপহৃতরা হলেন বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম (২২), সৈয়দ (৫০), রফিক, শ্রমিক আইয়ুব খান (১৮), আইয়ুব আলী (৫০), আনসার উল্ল্যাহ (১৮), আয়াত উল্ল্যাহ (২২), সামছু (৪৫), ইসলাম (২১),সামছু (৪০), ইসমাইল (৩৫), মোহাম্মদ হাসিম (৪০), নূর মোহাম্মদ (২১), সৈয়দ আমিন (৩০),সফি উল্ল্যাহ (৩০), আইয়ুব (৫০), মাহাতা আমিন (১৮)। এছাড়া আরও দুজনের নাম পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, হ্নীলা জাদিমুড়া এলাকা থেকে ফরেস্টসহ ১৯ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় বাগানে কাজ করতে গেলে ১৯ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ ট্রান্সফোর্স গঠন করে পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় টেকনাফে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সেপটিক ট্যাংক থেকে এক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের চুলডগি এলাকার জামালের বাড়ির বাথরুমের সেপটি ট্যাংকি থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো.রবিন হোসেন (১৬) একই ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের রাজহরিতালুক গ্রামের মাকু মিয়া সওদাগর বাড়ির মো.ইউনূসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিন পেশায় একজন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন। সে তার সৎমা রুনা আক্তারের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করত। নভেম্বর মাসে তার বাবা ঢাকা যাওয়ার সময় তার অটোরিকশা ছেলেকে চালাতে দিয়ে যান। গত ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ডিবি রোড থেকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন রবিন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে ওই দিন সন্ধ্যার দিকে একই গ্রামের জুয়েল (২৬) সহ অজ্ঞাত কয়েকজন লোককে স্থানীয়রা তার সাথে মোবাইল নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে দেখেন। এ বিষয়ে জুয়েলকে রবিনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এলামেলো কথাবার্তা বলেন। পরে জুয়েলকে স্থানীয়রা মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। নিখোঁজের ৬দিন পর সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাথরুমের সেপটি ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে রবিনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের সৎমা ৫ ডিসেম্বর প্রথমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ ভিকটিমকে না পেয়ে সেটিকে অপহরণ মামলা হিসেবে রুজু করে। এর পর পরই ভিকটিমের মোবাইলের সূত্র ধরে দুজনকে আটক করা করা হয়। তারা ভিকটিমের মোবাইল ব্যবহার করছিল।
ওসি কামরুল ইসলাম আরও বলেন, আজ সকালে বাথরুমের সেপটি ট্যাংকির সামনে গিয়ে একটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এসে বাথরুমের সেপটি ট্যাংকের স্ল্যাবের মুখ খুললে রবিনের মরদেহ দেখতে পায়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
পঞ্চগড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে প্রাণ গেল আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশির।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোমিনপাড়া এবং ভারতের শিংপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫১ এর ৮ ও ৯ নম্বর সাব পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আনোয়ার তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে ভারতে গরু আনতে যান আনোয়ার। শুক্রবার ভোরে গরু নিয়ে ফেরার পথে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা।
এদিকে গুলির শব্দ পেয়ে এবং চোরাকারবারি প্রতিহত করতে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন পঞ্চগড়ে ঘাগড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও। পরে ঘটনাস্থল থেকে আনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মো বদরুদ্দোজা বলেন, সীমান্তের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাচালানের একটি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
কুষ্টিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা, বাবা ও মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তারা হলেন, ওই এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. সালাম (৪০), তার স্ত্রী রুপা খাতুন (৩৫) ও মেয়ে সাবা খাতুন (১৩)। এ ঘটনায় তার ভাতিজা সিয়াম (১৩) আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সজীব উদ্দিন স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রুপা খাতুন বিকেল ৪টার দিকে ঘরঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় ঘরে ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান স্বামী মো. সালাম ও তার মেয়ে সাবা। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারা ৩ জন ঘটনাস্থলে মারা যান। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশে থাকা সালামের ভাতিজাও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন।
মৃত সালামের চাচাতো ভাই সাইদুল ইসলাম জানান, সালামের শহরের জেলখানা মোড়ে ফটোকপির দোকান রয়েছে। দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ওই সময় ঘরের ভেতর পরিবারের সবাই অবস্থান করছিলেন। একদিন আগে বাড়িতে ইলেকট্রিকের কাজ করিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সজীব উদ্দিন স্বাধীন বলেন, তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত আরেকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সোহেল জানান, তিনজনের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম জানান, তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন কিনা প্রাথমিকভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ খুঁজে দেখা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) তদন্ত দিপেন্দ্রনাথ জানান, মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন