

কচুয়া প্রতিনিধি:
রফিক হোসেন বয়স ৬০ বছর। পথে প্রান্তর কিংবা স্কুল-কলেজ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন রফিক। পরিবার পরিজন নিয়ে বাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সংসারে স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছেন।
প্রায় ৩০ বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদাম বিক্রি করে থাকেন তিনি। বলছি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার খলাগাঁর গ্রামের মৃত আয়াত আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলামের কথা।
জীবন সংগ্রামে নিজের স্বল্প পূজিঁ নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন তিনি। কারো কাছে হাত না পেতে কিংবা করুনা বেচেঁ না থেকে নিজের পরিশ্রমের আয় দিয়ে চলে তার সংসার। ছেলেরা বর্তমানে সবাই যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অপর দিকে রফিক হোসেন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে পাড়া-মহল্লা,হাট-বাজারে প্রতিনিয়ত দেখা যায় বাদাম বিক্রি করতে।
বাদাম বিক্রেতা মো. রফিক হোসেন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমি বাদাম বিক্রি করে আসছি। তবে এতে করে আমি যে টাকা রোজগার করি তাতেই আমার সংসার চলে যায়। বয়সের ভারে এখন আর তেমন একটা হাটা-চলা করতে পারছেন না তিনি। সকলের দোয়া কামনা করেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন


এক অন্যরকম আবেগের শব্দ মা। এর সাথে জড়িয়ে থাকে একটি মানুষের হৃদস্পন্দন। মায়ের মতো দুনিয়াতে কেউ হয় না।
এবার সেই কথাকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করলেন এক ছেলে। করলেন ইক অকল্পনীয় কাজ ।
নিজের গায়ের চামড়া কেটে মায়ের জন্য জুতা বানালেন। শুধু তাই নয়, নিজের হাতে সে জুতো পরিয়েও দিলেন এই ছেলে।
এই যুবকের নাম রৌনক গুর্জর। ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বাসিন্দা সে। রৌনক গুর্জর জানান, তিনি রামায়ণের ভক্ত। রোজ একবার করে রামায়ণ পাঠ করেন। রাম তার আদর্শ। সেই গ্রন্থ পাঠ করেই মায়ের জন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগে তার মনে। এজন্য নিজের গায়ের চামড়া দিয়ে মায়ের জুতা তৈরির পরিকল্পনা করেন।
জানা গেছে, অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের সাথে যুক্ত ছিলেন রৌনক। একবার পায়ে পুলিশের গুলিও খান তিনি। পরে সেই পায়ের অংশ থেকে অস্ত্রপচারের মাধ্ম্যমে কিছুটা চামড়া কেটে মায়ের জন্য জুতা বানান এই ছেলে। শুধু তাই নয়, নিজের হাতে মায়ের পায়ে পরিয়ে দেন সেই জুতা। আর এতে আবেগে মা কেঁদে ফেলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রামায়ণ অনুযায়ী, ভগবান রাম একবার বলেছিলেন, নিজের চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। সেখান থেকেই এই ভাবনাটি মাথায় আসে বলে জানায় ওই যুবক।
অন্যদিকে, জুতা পেয়ে উচ্ছ্বসিত বৃদ্ধা মা বলেন,এমন ছেলে যেন ঈশ্বর সব মাকেই দেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় তিনদিন ব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে কান্দিরপাড় টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানটি প্রতিদিন বিকেল তিন টা থেকে রাত নয় টা পর্যন্ত চলবে।
মন্তব্য করুন


২ সেপ্টেম্বর শনিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের দক্ষিণ অসুরখাই গ্রামের এক মসজিদ থেকে ১০টি সিলিং ফ্যান চুরির হয়েছে।
শনিবার দিনগত গভীর রাতে মসজিদের তালা ভেঙে এসব ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে।
কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক ও আতঙ্কের। থানায় চুরির ঘটনার কথা জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, মসজিদের কোনো ওয়াকফ নেই। মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে মসজিদটি। প্রচণ্ড গরমে মুসল্লিদের সামান্য আরামের জন্য অন্যের সহযোগিতায় লাগানো হয়েছিল এসব সিলিং ফ্যান।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার আলেখারচর-আমড়াতলী-ক্যান্টনমেন্ট-কালাকচুয়া বিশ্বরোড এলাকার হাইওয়ে হোটেলগুলোর সামনের কনফেকশনারির দোকানগুলোতে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এ রোডে চলাচলকারী ভোক্তারা অভিযোগ করে সামনের এ সকল দোকানে পানি, বিস্কুট, চিপস প্রভৃতি পণ্যের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে রাখা হয়।
আজ ছদ্মবেশে সত্যতা পাওয়ায় ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া টিকটকের বার্ষিক আয়োজন ইয়ার অন টিকটক-২০২৩ উদযাপিত হয়েছে।
আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহীদ দম্পতি ভিডিও তৈরিতে বর্ষসেরা ক্রিয়েটরের পুরস্কার পেয়েছেন । দুই ক্যাটাগরিতে তারা দুজনে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে “ইয়ার অন টিকটক-২০২৩” অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। দেশের অনেক পরিচিত ভিডিও নির্মাতারা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।
ভিডিও ক্রিয়েটরদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ইয়ার অন টিকটক-২০২৩ পুরস্কার দেয়া হয়। ক্রিয়েটর অব দ্য ইয়ার ২০২৩ পুরস্কার পেয়েছেন টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক আর এডুকেশন বা শিক্ষণীয় ভিডিও শ্রেণিতে পুরস্কার জিতেছেন মুনজেরিন শহীদ।
এছাড়া, স্পোর্টস শ্রেণিতে নিয়ন অন, ফ্যাশন ক্রিয়েটর অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছে স্টাইল হাট। ফুড ক্রিয়েশনে ফুডখোর, ব্যতিক্রমধর্মী ভিডিওর জন্য আমার বাংলাদেশ শ্রেণিতে দ্য মাহিম মেইকস, লং ফর্ম কনটেন্ট ক্রিয়েটর শ্রেণিতে রবিন রাফান পুরস্কার পেয়েছেন। বিউটি ক্রিয়েশন অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছে লাইফ ইজ মেও এবং বেস্ট ইউজ অব লোকেশন ট্যাগিং বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তানহা ইসলাম।
চলতি বছর এই আয়োজনের জন্য ১২ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলে।
এখানে টিকটক ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ডস অপশনে মোট ৮টি ক্যাটাগরিতে ভোট নেয়া হয়। পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা এতে প্রায় ১ মিলিয়নেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণি মাত্র তিন বছর বয়সে মাতৃহারা হন। ২০১২ সালে তার বাবাও না ফেরার দেশে চলে যান।
মাতৃহারা হওয়ার পর থেকেই নানার কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। তবে এবার প্রিয় সেই নানা শামসুল হক গাজীকে হারালেন তিনি।
নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১১ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ।
এই নির্মাতা আরো জানান, পরীমণির নানার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালীতে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই পরীর নানির কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হবে।
গেল অক্টোবর মাসের ছিল পরীমণির জন্মদিন। প্রতিবার ঘটা করে দিনটি উদযাপন করলেও এবার নানার অসুস্থতার কারণে আয়োজন থেকে বিরত ছিলেন তিনি।
তখন পরীমণি বলেছিলেন, বেশ কদিন ধরেই নানা বেশ অসুস্থ। তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি। আপনারা জানেন প্রতিবার জন্মদিনে নানুর হাত ধরে কেক কাটি। আমার নানু আমার জন্য কী সেটা সবাই জানেন। তিনি কদিন ধরেই অসুস্থ। তার অসুস্থতার জন্য আমি শুটিংও বাদ দিয়েছিলাম। তাই এবার জন্মদিনটি পালন করছিনা।
মন্তব্য করুন


সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে
মুক্তির এক মাস পর এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিকেরা অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে
ফিরেছেন ।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বন্দরের
নিউমুরিং টার্মিনালে পৌঁছেন নাবিকেরা।
মুক্তি পাওয়া জাহাজের ২৩ নাবিককে
নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে এসে পৌঁছায় এমভি জাহান মনি-৩ আর এর মধ্যদিয়ে শেষ হলো
২৩ পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার পালা।
এক মাস আগে সোমালিয়ার দস্যুদের
হাত থেকে মুক্তি পেলেও এতদিন নাবিকদের দেখা পাননি স্বজনেরা। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি
আরব আমিরাত ঘুরে চট্টগ্রামে আসার পর প্রথমবার নাবিকদের দেখা পেলেন স্বজনেরা। নাবিকদের
দীর্ঘদিন পর কাছে পেয়ে অনেক স্বজন কেঁদে ফেলেন। নাবিকদের বরণ করতে তাদের কারও হাতে
ছিল ফুল, কারও হাতে কেক।
কেএসআরএম গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা
পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেছেন, জিম্মি দশা থেকে মুক্ত নাবিকরা এখন আরও সাহসী।
কারণ তারা ভয়কে জয় করে দেশে ফিরেছে। তাদের আরও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। বাঙালি সাহসী
বীরের জাতি। তারা এসব জিম্মি দশাকে ভয় পায় না। তারা ভয়কে জয় করেছে। আজকে আমাদের আনন্দের
দিন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ৪৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও অটোরিক্সা সহ ৩ মাদক কারবারি আটক করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লার একটি টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানাধীন ছাতিপট্টি এলাকায় লাল রংয়ের একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা (ইজি বাইক) সহ মোঃ লিমন হোসেন (২৩), মোঃ সুজন (২২) ও মোঃ গিয়াস উদ্দিন (২২) কে আটক করে। আসামীদের দেহ ও তাদের বহনকৃত অটোরক্সাটি তল্লাশী করে ৪৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।
গ্রেফতাকৃত আসামীরা হলো: মোঃ লিমন হোসেন (২৩), পিতা- নুরু মিয়া, গ্রাম- মতিনগর (উত্তর পাড়া-কুদ্দুস হুজুরের বাড়ীর উত্তর পাশে), থানা- কোতয়ালী মডেল, ২। মোঃ সুজন (২২), পিতা- আবু তাহের, সাং- ধানসিড়ি, বউ বাজার (রুবিনার বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা- কোতয়ালী মডেল, ৩। মোঃ গিয়াস উদ্দিন (২২), পিতা- মোঃ সফিক, সাং- ধানসিড়ি, বউ বাজার (মনিরের বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা- কোতয়ালী মডেল, সর্ব জেলা কুমিল্লা।
উক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সোমবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হাজিদের নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি বছর পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফিরতি প্রথম হজ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৪১৯ হাজি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাতে সৌদি আরবের মদিনা মনোয়ারা বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের এই ফিরতি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। আজ ভোরে বিমানের ওই ফ্লাইটে দেশে আসেন হাজিরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৭টার দিকে তারা বিমানবন্দর থেকে বের হন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ফিরতি প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ৩৩৩ হাজি। তখন বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান হাজিদের অভ্যর্থনা জানান।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালনে সৌদি আরব যান। এসব হজযাত্রী বহন করতে মোট ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ৩২৫টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৫৯টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ১৮০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১১৩টি ফ্লাইটে ৪১ হাজার ৪৬৮ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী বহন করে।
মন্তব্য করুন


১২ বছর বয়সী নুরে জারিন নুদার। বর্তমান সময়েরর ছেলে-মেয়েদের থেকে একটু আলাদা। যে বয়সে মেয়েরা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। ওই বয়সে ক্ষুদে এ শিক্ষার্থী হাতে কোরআন লিখে পার করছে ব্যস্ত সময়। তার গল্প শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এই মাদরাসা শিক্ষার্থীর কোনো ক্লাসে পড়তে হয়নি প্রাইভেট। মাত্র ১০ মাসে নির্ভুল ভাবে সে পুরো আল-কোরআন হাতে লিখেছেন। তার দৃষ্টিনন্দন হাতের লেখা দেখলে যে কারো চোখ আটকাবে। মনে হবে এটি কম্পিউটারে ছাপা লেখা। চোখ জুড়ানো হাতের লেখায় পবিত্র কোরআন লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সে।
বর্তমানে নুদার বসুরহাট দারুল ইহসান গার্লস মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের সেপ্টম্বর মাসের ঘটনা। তখন ১০ বছর বয়সী নুদার বাড়ির পাশের ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন হঠাৎ মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা চোখে পড়ে বাবার। এরপর তিনি মেয়েকে উদ্বুদ্ধ করেন পবিত্র কোরআন হাতে লিখতে। যে কথা, সেই কাজ। মেয়েকে প্রথমে এক রিম খোলা সাদা কাগজ এনে দেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর আস্তে আস্তে ১০ মাসে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নুদার কোরআন লিখে শেষ করেন। এরপর তার বাবা হাতে লিখা কোরআন শরীফ নিয়ে নুদারের মাদরাসার আরবী শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান শরনাপন্ন হন। সেই থেকে নুদারের লেখা শেষে তিনি বানান সংশোধন করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতেন। তার উৎসাহে ও সহযোগিতায় নুদারের লেখা আরও গতি পায়। পরবর্তীতে পান্ডুলিপি থেকে ১০ পারা করে তিন ভাগে পুর্ণাঙ্গ কোরআন বাঁধাই করা হয়। কোরআন লিখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬১১টি এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ ও ৫৫টি বলপেন কলম। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-বাবা,দাদা-দাদী সহ এলাকাবাসী। মা-বাবার আশা মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশবাসীর কল্যাণে দ্বীনি শিক্ষা প্রসারে কাজ করবে। নুরে জারিন নুদার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল এলাকার ছেলামত মঞ্জিলের মো.নুরুল হুদা মামুনের মেয়ে।
নুরে জারিন নুদার বলেন, বাবা-মায়ের উৎসাহে আমি চতুর্থ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পবিত্র কোরআন মাজিদ লেখা শুরু করি। এরপর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে আমার লেখা শেষ হয়। আমার এ লেখা দেখে মা-বাবা আমাকে মাদরাসায় পড়া লেখার পাশাপাশি এখন হিফজ বিভাগে ভর্তি করে দেয়। আমি দেশ বাসীর কাছে দোয়া চাই।
নুদারের বাবা মো.নুরুল হুদা, আমি প্রথমে আমার মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা দেখে খুব আনন্দিত হই। আমারও তার শিক্ষকদের উৎসাহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সে কোরআন নিজ হাতে লেখা শুরু করে। যখন এক পারা লেখা সম্পন্ন হতো তখন ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান আরবি বানান গুলো যাচাই বাচাই করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতে। এভাবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পুরো কোরআন লিখে শেষ হয়। পরে পুনরায় আবার বানান পুনঃনিরীক্ষণ করে ১০ পারা করে তিন ভাগে বাধাই করা হয়। মেয়ের এমন কাজে আমি গর্বিত। এমন কাজে অন্য ছেলে মেয়েরা উদ্ধুদ্ধ হবে বলেও আমি আশা করি।
মা বিবি ফাতেমা বলেন, আমার মেয়ে নিজ হাতে কোরআন লিখেছে, আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। লেখার সময় অনেক সময় মনমানসিকতা অন্য রকম হয়ে যেত, তো লিখবো, লিখেনা। আবার মনমানসিকতা ঠিক করে আগ্রহ দিয়ে লিখতে বসত। বিশেষ করে ভালো কাজে শয়তানের প্ররোচনা থাকে। খাতা-কলমে দাগ টানা সহ বিভিন্ন ভাবে তাকে আমি সহযোগিতা করেছি। চার বছর বয়স থেকে সে নিয়মিত নামাজ পড়ে।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার নাজেমে তালিমাত, মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোরআন লেখার যে প্রাচীন নিয়ম রয়েছে। সে অক্ষরে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে নুদার ১০ মাসের প্রচেষ্ঠায় কোরআন হাতে লিখে সম্পন্ন করেন। ওই সময় আমি তার লেখার তত্বাবধান করি। বোঝার উপায় নেই, এটি হাতে লিখা না, না কম্পিউটারে লিখা। তার লেখা কোরআন পুরোটাই আমি পুনঃনিরীক্ষণ করি।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসা মোহতামিম মাওলানা মোতালেব হোসেন পারভেজ বলেন,নুরানী বোর্ডের সমাপনী পরীক্ষায় নুদার পুরো বাংলাদেশে দশম স্থান অর্জন করে। সে একজন মেধাবী ছাত্রী। তার স্বহস্তে কোরআন লেখার এ কৃতিত্বকে আমরা স্বগত জানাই।
বসুরহাট পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম ছিদ্দিক বলেন, পবিত্র কোরআন হাতে লেখার উদ্যোগ নিয়ে সম্পন্ন করার কাজটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এতো সুন্দর ভাবে কোরআন লিখলেন সেটি আসলেই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। আমি তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
মন্তব্য করুন