

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের সীমানা রক্ষায় তোমরা প্রয়োজনে জীবন দেবে, তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া হতে দেবে না। সীমান্তে প্রতিপক্ষের কাছে কোনো অবস্থাতেই পিঠ প্রদর্শন করবে না।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার ও কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে প্রতিপক্ষের কাছে কোনো অবস্থাতেই পিঠ প্রদর্শন না করার জন্য আমি তোমাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ মাতৃকার রক্ষায় তোমরা প্রয়োজনে জীবন দেবে, তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া হতে দেবে না।বিজিবির নবীনদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সীমানা রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবে, ‘এক ইঞ্চি মাটি’ হাতছাড়া করবে নাতিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, তোমরা আমাদের হতাশ ও নিরাশ করবে না। জেনে রাখবা, তোমাদের দেওয়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই দেশের মানুষের নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করবে। তোমরাই হবে আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে সুপরিচিত এ বাহিনী বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৈনিকরা আজ তোমরা যে তেজোদ্দীপ্ত কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেছো তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল তোমাদের কঠোর প্রশিক্ষণ, নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও অদম্য আগ্রহের জন্য। মনে রাখবা, বৃহত্তর কর্মজীবনে কাজের ব্যাপ্তি ও পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। তোমরা যখন সীমান্তে নিয়োজিত থাকবে তখন তোমাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে এ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও গৌরব।বিজিবির নবীনদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সীমানা রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবে, ‘এক ইঞ্চি মাটি’ হাতছাড়া করবে নাএসময় অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০২তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ গত ৩০ জুলাই বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) শুরু হয়। প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে সর্বমোট ৬৯৫ জন রিক্রুটের মধ্যে ৬৪৯ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন নারী রিক্রুট মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।
দীর্ঘ ২৩ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে আজ আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের সৈনিক জীবনের সূচনা হলো।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা আমাদের জাতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিবে। শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিবে- জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ছাত্রজনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন দিশা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে গ্রাফিতি অঙ্কনের এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে। আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের এ ত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং একইসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ ও তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে মূল উপজীব্য করে ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টার নির্দেশনা এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, আজকের এ আয়োজন কেবল নিছক একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়, এটি ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক অনন্য প্রয়াস।
গ্রাফিতি অঙ্কন শিল্পীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত এই শিল্পকর্ম আমাদের ইতিহাসের অমূল্য সাক্ষী হয়ে থাকবে। তিনি এসময় আয়োজনকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা-তুল-জান্নাত ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা পরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতির উদ্বোধন করেন। তাছাড়া তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের হলদিয়ায় পদ্মা নদীর পাশে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত পার্কের জায়গা পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ এবং অনলাইন বৈঠক ঠেকাতে দুটি অ্যাপ—টেলিগ্রাম ও বোটিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর এ দুটি অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ বিষয় তুলে ধরা হয়।
জানা যায়, রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে গত বুধবার ২৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে দেড় শতাধিক ব্যক্তি দুটি অ্যাপ ব্যবহার করে ভারতে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
রোববারের বৈঠকে আলোচনায় আপাতত রাতে ওই অ্যাপ দুটির (টেলিগ্রাম ও বোটিম) ব্যবহারে গতি কমিয়ে দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই দুটি অ্যাপ বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার যে ২৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এতে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে দেড়শ জনের বেশি টেলিগ্রাম ও বোটিম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও সভায় যোগ দিতেন।
বৈঠকে দুটি সংস্থার প্রতিনিধি জানান, সারা দেশে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তফসিল ঘোষণার পর তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারেন। এসব আলোচনা শেষে টেলিগ্রাম ও বোটিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
মন্তব্য করুন


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আদালত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজিব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।
মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম আদালতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নামে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। এই অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা সপরিবারে গোপনে দেশ ত্যাগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা যদি দেশ ত্যাগ করে বিদেশে চলে যান, তাহলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও রেকর্ড সংগ্রহে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা অপরিহার্য বলে আদালতকে জানানো হয়।
এই প্রেক্ষাপটে আদালত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মন্তব্য করুন


পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ করেছেন।
পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের নিবিড় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ গৃহীত সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করবেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন। শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো আমরা শীঘ্রই বাস্তবায়ন করতে চাই। এ জন্য আমি চাইব, সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেগুলো আলাদাভাবে আমাদের কাছে পেশ করুক।"
তিনি আরও বলেন, "গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের এই কাজ অমূল্য। এই প্রতিবেদন যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য মানুষ পড়তে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।"
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একটি নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট ব্যবহারে বাধ্য থাকায় বিদেশ থেকে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল দেখা যায় না। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এবং আগ্রহী বিদেশিরা যাতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল দেখতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গত বছরের ১৮ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদকে প্রধান করে 'গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন' গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, দ্য ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি শামসুল হক জাহিদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) প্রতিনিধি, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক সাংবাদিক জিমি আমির, ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মন্তব্য করুন


কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৮০ ভাগ সমস্যা দেশ থেকেই তৈরি হয়। পরে সৃষ্ট সমস্যা সামলাতে হয় দূতাবাসকে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ফরেন সার্ভিস ডে উপলক্ষে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি জানান, প্রবাসীদের সমস্যা সবার আগে সমাধান করতে হবে। দূতাবাসের সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষকে আগে সেবা দিতে হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৮০ ভাগ সমস্যা দেশ থেকেই তৈরি হয়। পরে সৃষ্ট সমস্যা সামলাতে হয় দূতাবাসকে। সুতরাং প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দিয়েই কর্মী পাঠানো গেলে প্রবাসীদের সমস্যা কম হবে। একইসঙ্গে মিশনগুলোর ওপর চাপ কমবে।
রেমিটেন্সের ব্যাপারে তৌহিদ হোসেন জানায়, ১৯৮০ এর দশকে এক বিলিয়ন ডলার রফতানি ছিল। এখন (বর্তমান) ৬০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে কিছুটা হলেও দূতাবাসের ভূমিকা আছে। এছাড়া সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এক কোটি প্রবাসী দেশে রেমিটেন্স পাঠান।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরাকান আর্মি বড় সমস্যার জায়গা। বাংলাদেশ না পারছে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে, না পারছে তাদেরকে এড়িয়ে যেতে।
এ সময় তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধে বৈশ্বিক জনমত সৃষ্টিতে ফরেন সার্ভিসের কর্মকর্তারা কলকাতা থেকে কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল তখন ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশন গঠন হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের কয়েক দিন পর আমি জেলা ও থানার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেছিলাম। আপনাদের অনেকে সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম—স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, পালিয়ে গেছে কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তি ধীরে ধীরে মাথা তুলছে। এক বছর আগে আপনাদের সামনে আমি এ কথাটি বহুবার বলেছিলাম। আজ সেই কথাই সত্য হয়ে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।’
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজকের এ কাউন্সিলে প্রার্থীরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের জনগণ আমাদের মূল শক্তি। বিএনপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ। জনগণের পাশে থাকতে হবে, জনগণকে আমাদের পাশে রাখতে হবে। যে কোনো মূল্যে এটিই নিশ্চিত করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। কাউকে ব্যক্তি স্বার্থে দল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল পরিবার। নীতি-নির্ধারকেরা এ পরিবারের অভিভাবক। তারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন সবাইকে সেটি মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল না করতে পারে বা জনগণের কাছে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে সমবেত হন। হাজারো কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় সম্মেলন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল।
মন্তব্য করুন


অবৈধভাবে যেসব ভারতীয় বাংলাদেশে আছেন তাদের ভারতের মতো পুশব্যাক করা হবে না বলে জানায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অবৈধ ভারতীয়দের প্রোপার চ্যানেলে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৭ মে) সুন্দরবনে বিজিবির ‘বয়েসিং ভাসমান বিওপি’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সুন্দরবনের জল সীমানায় বিজিবির যশোর রিজিয়নের আওতাধীন রিভারাইন বর্ডার গার্ড (আরবিজি) কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় জলসীমান্ত রক্ষায় কাজ করবে বিজিবির ভাসমান বিওপি।
ভারত সুন্দরবনের জলসীমাসহ বিভিন্ন সীমান্তে পুশইন করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভারত মান্দারবারি সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইন করেছিল, সেখানে আমি পরিদর্শন করেছি। ভারতকে আমরা জানিয়েছি- আমাদের কোনো বাংলাদেশি যদি তাদের (ভারতে) ওখানে থেকে থাকে তাহলে প্রোপার চ্যানেলে পাঠান। যেমন ভারতের যারা বাংলাদেশে আছে তাদের আমরাও প্রোপার চ্যানেলে পাঠাই। আমরা কাউকে পুশইন করি না।
তিনি জানায়, গতকাল আপনারা দেখেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবির সঙ্গে আনসার এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধে ভারত পুশইন করতে পারেনি। আপনারা সবাই যদি সহযোগিতা করেন তাহলে ভারত পুশইন করতে পারবে না। বিজিবির সঙ্গে জনগণ এবং সাংবাদিক ভাই-বোনদের সহযোগিতা দরকার।
পুশইন ঠেকাতে প্রতিবাদমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ডিপ্লোমেটিক সল্যুশনের (কূটনৈতিক সমাধান) জন্য এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের জন্য এ বিষয়ে আমাদের রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমার কাছে এটা (পুশইন) ওরকম উসকানি মনে হচ্ছে না। যেহেতু এর আগেও উনারা (ভারত) পুশইন করেছিল অনেক আগে; যে সময় পুশইন করেছিল সে সময় আমি বিজিবির ডিজি ছিলাম।
হঠাৎ এই সময় আবার কেন ভারত পুশইন করছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কিছুদিন আগে শুনেছেন গুজরাটে বাঙালি কলোনির মতো ছিল (বাঙালি বস্তি)। গুজরাটে সেটা ভেঙে দেওয়ার পরেই এটা (পুশইন) শুরু হয়েছে।
ইউএনএসিআরের কার্ড হোল্ডারদেও পুশইন করা হয়েছে কেন জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এটা আমরা অলরেডি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি। এর ভেতর কিছু রোহিঙ্গা চলে আসে। যেসব রোহিঙ্গা আমাদের দেশে ছিল তাদেরও পাঠিয়েছে, আবার ভারতীয় রোহিঙ্গাদেরও পাঠিয়ে দিচ্ছে। এজন্য আমরা এটার প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি।
বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় আছে কি না, যাদের পুশব্যাক করা হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় একেবারেই নাই আমি বলবো না। আপনাদের অনুরোধ করবো যদি থাকে জানান, আমরাও যেন প্রোপার ওয়েতে (নিয়ম মাফিক) পাঠাতে পারি।
ভারত যেহেতু পুশইন করছে বাংলাদেশও ভবিষ্যতে পুশব্যাক করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমার দেশের নাগরিক হলে পুশব্যাক করার কোনো অধিকার নেই। অবৈধভাবে ভারতীয় যারা বাংলাদেশে আছে তাদেরকে ভারতের মতো পুশব্যাক করবো না, তাদের প্রোপার চ্যানেলে পাঠাবো। অবৈধভাবে পাঠানো আইনসিদ্ধ নয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিবির যশোর রিজিয়ন কমান্ডার, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, আরবিজি কোম্পানির অধিনায়ক, বিজিবির অন্যান্য পদবীর কর্মকর্তা ও সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ছয়তলা ভবনসহ ৮টি ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি জব্দ (ক্রোক) ও অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসন এ আদেশ দেন। মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম এ আবেদন করেন।
আজ জব্দ ও অবরুদ্ধ হওয়া সম্পদ ও ফ্ল্যাটের মধ্যে রয়েছে রুপগঞ্জে ২৪ কাঠা জমি, উত্তরায় ৩ কাঠা, বাড্ডায় ৩৯ দশমিক ৩০ কাঠা জমির ওপর দুটি ফ্ল্যাট, বান্দরবান জেলায় ২৫ একর জমি, স্ত্রী জিসানের নামে আদাবর থানার পিসিকালচার এলাকায় ৬টি ফ্ল্যাট, গুলশানে বাবার কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তিতে থাকা ৬ তলা ভবন, সিটিজেন টিভির শেয়ার ও টাইগার এপারেলসের শেয়ার।
দুদকের উপপরিচালক বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে, স্ত্রী জীশান মীর্জা ও মেয়েদের নামে দেশে-বিদেশে শতশত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে জানা যাচ্ছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মালিকানাধীন ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। যা করতে পারলে মামলার অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা দায়ের, চার্জশিট দাখিল, আদালতে বিচার শেষে সাজা অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় থেকে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকরণসহ সকল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
তাই অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের, তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল, এরপর আদালতে বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের সুবিধার্থে তথা সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্থাবর সম্পত্তিসমূহ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিক করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৩ ও ২৬ মে দুই দফায় বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ৬২১ বিঘা জমি এবং ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছেন একই আদালত। খুঁজে পাওয়া সম্পদের মধ্যে ৫২১ বিঘা জমি জমির মালিক বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জা। বাকি ১০০ বিঘার মতো জমি রয়েছে বেনজীর, তার তিন মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর, তাহসিন রাইশা বিনতে বেনজীর ও জারা জেরিন বিনতে বেনজীর এবং স্বজন আবু সাঈদ মো. খালেদের নামে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে "চোরতন্ত্র" প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে বড় বড় প্রকল্পের কাজ দেওয়া এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচার করা সেই সময়ের নিয়মিত ঘটনা ছিল। সে সময় পাচার করা অর্থ দিয়েই এখন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে পাচারকারীরা।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “যারা এই বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এখানে কোনো গণঅভ্যুত্থান হয়নি বরং মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে। এ ধরনের অপপ্রচার করে পরাজিত শক্তি আপনাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, "জুলাই বিপ্লবের সময় অনেক গণমাধ্যম আন্দোলনকারীদের 'জাতির শত্রু' হিসেবে চিত্রিত করেছিল। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল যা শাসকদের কাছে আন্দোলনকারীদের দমন করার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। যদি ফ্যাসিস্ট শক্তি জয়ী হতো, তবে হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হতো এবং আন্দোলনকে 'অরাজকতা সৃষ্টিকারী' হিসেবে দেখানো হতো।"
সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, "জুলাই বিপ্লবে কার কী ভূমিকা ছিল তা আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সবাইকে তাদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ লিখে রাখার আহ্বান জানাই।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “যদি ফ্যাসিস্ট সরকার আরও এক মাস সময় পেত, তাহলে ২৫ মার্চের মতো আরও একটি কালরাত দেখা যেত। সেই রাতে শিক্ষক, সাংবাদিক এবং তরুণদের টার্গেট করে হত্যা করা হতো। ফ্যাসিস্ট সরকার টিকে গেলে যুবসমাজের চাকরির অধিকারও হরণ করা হতো।”
মন্তব্য করুন