

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ১৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ১৮৩ টাকা রয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিলেন না। এরপর গত ১৮ নভেম্বর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৯ নভেম্বর তাকে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০০৮ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা। এরপর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৯ সালে নবম সংসদে জয়ের পর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় তিনি আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য পরবর্তীতে ২০১৪ সালে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে পরের দুই মেয়াদে মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি।
মন্তব্য করুন


ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ৬,৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার (৩ মার্চ) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে, ২ মার্চ মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ৬,৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনের শুনানি নির্ধারণ করেছিলেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬,৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের তৃতীয় ধাপে তিন পার্বত্য জেলা বাদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই ফলাফলে ৬,৫৩১ জন উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তীতে এক রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬,৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।
এ আদেশ স্থগিতের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ লিভ টু আপিলের আবেদন করলে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। একপর্যায়ে এ সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬,৫৩১ সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা পাবেন। পাশাপাশি তাদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।
২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড করার পাশাপাশি গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ক্ষেত্রেই প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে বলা হয়।
তবে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল খারিজ করে দিয়ে রায় দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় দীর্ঘ তিন মাসেও কার্যকর না করায় প্রধান শিক্ষকরা আদালত অবমাননার মামলা করেন।
এরপর একই বছরের ২৭ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কেন সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর না করে আদালতকে অবজ্ঞা করার অপরাধে বিবাদীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, মর্মে এক মাসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে দুই দিন আগের তারিখে সিভিল রিভিউ পিটিশন দায়ের করে মন্ত্রণালয়।
পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে সিভিল রিভিউ পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় কার্যকর করতে আর কোনো বাধা রইলো না। এদিকে, এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিটকারী প্রধান শিক্ষকরা।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ সোমবার আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম পৃথক আবেদনে আয়কর নথি জব্দের জন্য আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন।
এর আগে ৮ জানুয়ারি আদালত বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জিশান মির্জা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন।
এছাড়া, গত ১৫ ডিসেম্বর দুদক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জিশান মির্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। তাদের বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এবং মেজ মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
মন্তব্য করুন


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা গাজীপুরের গাছা থানার মামলায় ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৭ মে) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন কোনো সাক্ষী না আসায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এদিন রফিকুল আদালতে হাজিরা দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতে বেঞ্চ সহকারী শামীম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রফিকুলের বিরুদ্ধে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন র্যাব-১ এর নায়েব সুবেদার আব্দুল খালেক। ২০২১ সালের ৩০ জুন মাদানীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন র্যাব-১ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রফিকুল ইসলাম মাদানী ইউটিউব এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। দেশের সাধারণ মানুষ এসব বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বিভ্রান্ত হয়ে তারা দেশের সম্পত্তির ক্ষতি করছেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৯ টা। খাসকামরা থেকে বেরিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এজলাসে পৌঁছান বিচারক।
বিচারকের ঠিক সামনেই ছিল আসামিদের কাঠগড়া। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, শাজাহান খান, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, জুনায়েদ আহমেদ পলক ও উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তাদের সবার বাঁ হাতে ছিল হাতকড়া।
বুধবার সকালে আদালতকক্ষে বিচারের কার্যক্রম শুরু হলে এক পুলিশ কর্মকর্তা উচ্চস্বরে ডাকেন, ‘জনাব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব’। তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জ্যাকব ডান হাত উঁচু করে সাড়া দেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতকে জানান, রাজধানীর রূপনগরে গত ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শামীম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যা মামলার এক আসামি হিসেবে জ্যাকবকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।
জ্যাকবের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। এরপর জ্যাকব নিজেই আদালতে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি ভোলার চরফ্যাশনের এমপি ছিলাম। আমি কখনো ঢাকায় রাজনীতি করিনি। জন্মের পর কখনো ঢাকার রূপনগরে যাইনি। অথচ আমার বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক মামলা। আমি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত এই হত্যা মামলায় জ্যাকবকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
এরপর আনিসুল হকের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন ফজলুল করিম নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যার অন্যতম আসামি আনিসুল। এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
এ সময় আনিসুলের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আনিসুল এই হত্যার ঘটনায় জড়িত নন।
আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আনিসুলকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। তখন আনিসুল বিমর্ষ হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আনিসুলের বিরুদ্ধে মোট ৫৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলায় এখন পর্যন্ত তার মোট ৪৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
জ্যাকব ও আনিসুলের রিমান্ড শুনানির সময় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন কাঠগড়ার এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা ‘জনাব রাশেদ খান মেনন’, ‘জনাব শাজাহান খান’ ও ‘জনাব আনিসুল হক’ বলে ডাক দেন। তারা সাড়া দেন। তখন মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নারী পুলিশ সদস্যরা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে এজলাসে নিয়ে আসেন। মাথা থেকে হেলমেট খোলার পর দীপু মনির সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সালমান। তাদের মধ্যে ২-৩ মিনিট কথা হয়। এরপর পল্টন থানার একটি হত্যা মামলায় দীপু মনিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে দীপু মনির সঙ্গে কথা বলেন জুনায়েদ, মেনন ও আনিসুল।
এরপর মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
প্রায় ৪৫ মিনিট শুনানি শেষে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।
শুনানির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আদালতে দেখা যায়, আনিসুল, মেনন, শাজাহানসহ অন্যরা প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন।
বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর প্রথমে মেননের মাথায় পুলিশের হেলমেট পরানো হয়। এরপর একে একে আনিসুল, শাজাহান, দীপু মনি ও জুনায়েদের মাথায় হেলমেট পরানো হয়। তারপর তাদের এজলাস কক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় আদালতের হাজতখানায়।
বুধবার সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্যদের উপস্থিতি ছিল।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ২৫৩টি মামলা হয়েছে। সালমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৮টি। রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২২টি। জুনাইদ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৭টি। দীপু মনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২০টি।
মন্তব্য করুন


মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কাজে চুক্তিগত অনিয়ম, দরপত্রে কারসাজি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল ও ইবনে আলম হাসান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান ও আবদুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১২ অক্টোবর দুদক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৬ সালে সিএনএসকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে আগের দরপত্র ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল’ করা হয়। এরপর ‘একক উৎসভিত্তিক’ দরপত্র আহ্বান করে কেবল সিএনএসের সঙ্গে আলোচনা করে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করা হয়।
টাকার অঙ্ক নির্ধারণের পরিবর্তে মোট টোল আদায়ের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে (ভ্যাট ও আয়কর বাদে) সার্ভিস চার্জ ধার্য করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০-১৫ মেয়াদে একই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্বে ছিল এমবিইএল-এটিটি। তারা টোল আদায়ের কাজটির জন্য মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নিয়েছিল। এরপর সিএনএসের পর ২০২২-২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় টোল আদায়ের কাজটি দেওয়া হয়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এর তুলনায় সিএনএস একই মেয়াদের জন্য প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বিল তোলে এবং তথাকথিত ‘নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয়’ বাবদ আরো ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দাবি করে। এভাবেই সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কীভাবে দেশ ছাড়লেন, এ বিষয়ে পুলিশকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি জানান, 'আমরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, ওবায়দুল কাদের গত তিন মাস বাংলাদেশে ছিলেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে তিনি পালিয়েছেন এবং কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।'
তিনি আরও বলেন, 'আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কাউকে পালাতে সাহায্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।'
তাজুল ইসলাম আরও জানান, 'গুমের ঘটনার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে গুম কমিশন। গুম কমিশনের রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ছিলেন জুলাই-আগস্ট গণহত্যার নিউক্লিয়াস।'
'তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনাল দুই মাস সময় দিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের অগ্রগতি সম্পর্কে আইজিপির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে,' যোগ করেন তিনি।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত শেষ করে আজ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।
এই ৪৬ জনের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলম।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার পারভেজ মিয়া হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম ফারহান ইসতিয়াক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মহানগর দায়রা জজ আদালতে সরকারি কৌসুলি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সকালে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হাসান।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন।
এরআগে আসামিদের গ্রেফতার করে বিভিন্ন মামলায় তাদের কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চৌরাস্তার ওপরে পারভেজ মিয়া আসামিদের ছোড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শুরুতর জখম হয়। পরে তাকে মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পারভেজ মিয়ার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ১৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ১৮৩ টাকা রয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিলেন না। এরপর গত ১৮ নভেম্বর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৯ নভেম্বর তাকে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০০৮ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা। এরপর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৯ সালে নবম সংসদে জয়ের পর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় তিনি আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য পরবর্তীতে ২০১৪ সালে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে পরের দুই মেয়াদে মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি।
মন্তব্য করুন


তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, মামলাটি বিদ্বেষ্পূর্ণ, রায়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে বিচারিক আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতকে বলেন, শেখ হাসিনাকে খুশি করতেই ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ৯ জনকে ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এরা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। মামলা চলাকালীন পাঁচ আসামি মারা গেছেন। ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন তিনি। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।
মন্তব্য করুন