

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে সনাতন ধর্মবিশ্বাসী সংগঠন আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার বিকালে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে।
জানা গেছে, ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দর আসেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৫ আগস্টের পর দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নামে কয়েকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেসব সমাবেশ থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে বক্তব্য দেন। এর আগে থেকেই তিনি আলোচনায় ছিলেন, তবে ২৫ অক্টোবর বিকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বেশি আলোচিত হন।
এতে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের নামেও একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশের হিন্দুদের মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। অথচ তার বিরুদ্ধে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় তিনি উসকানিমূলক বক্তব্যও দিয়েছেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের অন্যতম সংগঠক। তিনি সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চিন্ময় প্রভু নামে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষও।
এদিকে, গত ৩০ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। কোতোয়ালী থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন ফিরোজ খান। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়, তারা হলেন রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাশ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তি পরিশ্রম করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান আছে সেগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস পরপর এসব প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে একনেকে একটি প্রতিবেদন দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম।
এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার ও পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকারসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং অন্যান্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়াতে প্রকল্প পরিচালকেরা প্রশিক্ষণ নিয়ে যাতে একই স্থানে কাজে যোগ দিতে পারেন সেজন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে পিডি পুল করতে হবে। চিকিৎসকেরা যদি পিডি হন তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রকল্পের শুরুতেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সঠিকভাবে করতে। সেজন্য যেসব প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ করে তাদের জন্য নিবন্ধন করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা যে বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছি সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করেই। আগের মতো সুতা লাগানো ঋণ নেওয়া হয় না। কারণ, ঋণ দিয়ে এটা করতে হবে ওটা করতে হবে এসব থাকলে আমরা সেই ঋণ নেই না।
আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন জানান, গত জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এনইসি বৈঠকে সব সচিবদের সামনে এ তথ্য তুলে ধরে এডিপি বাস্তবায়ন বৃদ্ধির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভোট বানচালের ক্ষমতা কারো নেই। তিনি মনে করেন, সবদল সৎ থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো বাধা নেই, দেশের মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতা করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ভালো হবে, তার একটা প্রতিফলন দেখা গেছে ডাকসুতে।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়সূচি থেকে কেউ সরে আসতে চাইলে তা জাতির জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।
তিনি জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮ লাখ পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু সরকারের ইচ্ছায় নয়, সমাজের বিভিন্ন অংশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপরও নির্ভর করে। ‘ইলেকশন করে সোসাইটি, পলিটিক্যাল পার্টিগুলো- তারা যদি চায়, তাহলে একটি ভালো নির্বাচন অবশ্যই সম্ভব, যোগ করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, জনগণ যদি বন্যার জলের মতো ভোট দিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন, তাহলে কোনো শক্তিই সুষ্ঠু নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে ডাকসু নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ভালো হবে, তার একটা প্রতিফলন দেখা গেছে ডাকসুতে। ডাকসুতে যেমন হয়েছে, ঠিক তেমনি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনও সম্ভব।’
তিনি বলেন, সবাই নিজ নিজ অবস্থানে সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করলে আগামী নির্বাচন হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান। আজ বুধবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি তথ্য জানান।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনে একটি বড় ধরনের রদবদল হয়, এটি নির্বাচন কমিশন করে। এখানে কারো কোনো তদবির কিংবা বক্তব্য থাকবে না। যাকে যেখানে দেয়া হবে সেখানে যেতে বাধ্য থাকবে।
তিনি জানান, গত ৩টি নির্বাচনে যারা জড়িত ছিলো, প্রো অ্যাক্টিভ বা ওভার অ্যাক্টিভ ছিলো তাদের কাউকে এবার রাখা হবে না। নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে সামান্যতম কাজ করলে, তাকে প্রত্যাহার করে প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং গতকালও ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে; নির্বাচন যথা সময়ে হবে, আইনশৃঙ্খলা নিয়েও কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। বিগত ৩টি নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শক্ত বার্তা দেয়া হবে। আগামী নির্বাচন একটা মডেল নির্বাচন হোক সকলেই চায়।
মন্তব্য করুন


বায়ুদূষণ রোধে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে-এজন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে বলে জানান পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ সোমবার সচিবালয়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, বায়ুদূষণ রোধে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে-এজন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দূষণ রোধে পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি পর্যায়ক্রমে সড়ক থেকে তুলে নেয়া হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে একসঙ্গে কাজ করবো। নতুন ২৫০টি বাস কেনার অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার আশেপাশে নো ব্রিক ফিল্ড জোন ঘোষণা করা হবে। ধূলা দূষণ কমানোর মাধ্যমে এবছর নগরবাসীকে স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা করবো। বায়ু দূষণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করতে হবে। শীতকালের আগে (অক্টোবরের মধ্যে) ভাঙাচুরা রাস্তা সংস্কার হবে। চীনের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে বায়ুর মান উন্নয়নে কাজ করবে সরকার।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে ভারতের কাছে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তার জবাব এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন।আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরাতে ভারতের কাছে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তার জবাব এখনো পাইনি।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে ভারত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমিও এটা পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। আমাদের কী করার আছে?’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ২৩ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে চিঠি দেয় বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতকে চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারত সরকারকে নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছি যে, তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য ফেরত চাওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য ভারতকে সরবরাহ করেছি।
এর আগে সকালে পিলখানায় বিজিবি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
কীভাবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায়ই তাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় গত ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। গত ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করার বিষয়ে প্রসিকিউশন পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে আবেদন করে।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, যতই আপনি ইসিকে স্বাধীন বলেন না কেন, সরকার ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব না। কারণ সরকারের সহযোগিতা নিয়েই আমাদের নির্বাচন করতে হবে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে, অফিসার, প্রশাসনের সহায়তা নিতে হবে। সুতরাং সরকার একটা মুখ্য ভূমিকা রাখবে তো নির্বাচনের মধ্যে। এটা ছাড়া তো সম্ভব না।
আজ শনিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সময় হলে আপনারা সবই জানতে পারবেন। এখানে আমরা লুকিয়ে কোনো কাজ করছি না।
আপনারা কেন রোডম্যাপ..., আমরা একটা কর্মপরিকল্পনা, এটাকে রোডম্যাপ বলবো না, আমাদের যে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজ করতে হবে, সেগুলো কোনোটা কোনো সময় শুরু করব, কোনো সময় শেষ করব এটাকেই অনেকে রোডম্যাপ বলে, আমরা বলছি না। সেটা অবশ্যই আছে। যে কোনো অফিসের একটা কর্মপরিকল্পনা থাকবে। এত বড় একটা নির্বাচন হবে, একটা কর্মপরিকল্পনা আমাদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য।
নট ফর শেয়ারিং এভরিবডি যে আপনারা জানুন। এটা নিজস্ব, সংশোধন হতে পারে, এদিক-ওদিক হতে পারে। একটা সম্ভাব্য একটা কর্মপরিকল্পনা প্রথম থেকেই করেছি তো।
সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের যে বিষয়টা প্রতিনিয়ত হচ্ছে বা একদম হচ্ছে না, বিষয়টা এমন না। নির্বাচনের ডেট যথাসময়ে জানতে পারবেন।
আমরা যথাসময়ে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করব। সরকারের সঙ্গে এ জন্য পরিকল্পনা করে ঘোষণা দিয়ে দেখা করতে হবে এমন না। ফরমালি, ইনফরমালি নানাভাবে যোগাযোগ হতে পারে। আমরা সরকারের ধারে কাছে নেই, একটা দ্বীপে আছি এমন তো না। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আছে, এর মধ্যে ইসি সংস্কার আছে, এর মধ্যে আমরা সম্পৃক্ত তো। এগুলোকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। সময় হলেই যোগাযোগ হবে।
মন্তব্য করুন


লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয়। সকাল সোয়া ১০টার পর গেটটি খুলে দেওয়ার কয়েক মিনিটেই তা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার হালনাগাদ কর্মসূচি উপলক্ষে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এক পরিপত্রে এই বিশেষ নির্দেশনা দেয় নির্বাচন কমিশন।
পরিপত্রে জানানো হয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি, ২০২৫-এ ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার কর্তৃক যাচাই ২০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্পন্ন করা হবে। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি অথবা তার পূর্বে যাদের জন্ম তাদের ও বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন তাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে কর্তন এবং আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের বিষয়েও কার্যক্রম গৃহীত হবে।
এ কর্মসূচিতে হিজড়া জনগোষ্ঠীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
কর্মসূচির বিশেষ নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-
১। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে যাদের জন্ম তাদের ও বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন তাদের তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা;
২। তথ্য সংগ্রহকালে কোনো ব্যক্তির তথ্য ফরম পূরণের পূর্বে তিনি ইতোপূর্বে ভোটার হয়েছেন কি না তা অবশ্যই নিশ্চিত করা;
৩। বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে বাদ পড়ার কারণ যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হওয়া;
৪। কোনো ব্যক্তির নামের আগে বা পরে কোনো পেশা, খেতাব, পদবি, অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সংযুক্ত না করা;
৫। ভোটারযোগ্য ব্যক্তির বাংলা নামের ইংরেজি বানান যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা;
৬। বাড়ি বাড়ি গমনের সময় ভোটারযোগ্য অনুপুস্থিত ব্যক্তিদের তথ্যাদি অবশ্যই রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা;
৭। নিবন্ধন কেন্দ্রে আসার জন্য নিবন্ধন স্লিপ (ফরম-৫) ফরম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে প্রদান করা;
৮। সুপারভাইজার কর্তৃক তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রতিদিনের তথ্য সংগ্রহের কাজ তদারকি ও নমুনা যাচাই করা;
৯। সুপারভাইজাররা তথ্য সংগ্রহকারীর পূরণকৃত ফরমের কিছু অংশ দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গমন করে শুদ্ধতা যাচাই করা এবং কোনো ভুল ধরা পড়লে তা শুদ্ধ করা;
১০। ভোটারযোগ্য নারীদের নিবন্ধনের বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করা, অর্থাৎ কোনোক্রমেই ভোটারযোগ্য কোনো নারী যেন বাদ না পড়েন তা তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার কর্তৃক নিশ্চিত করা;
১১। নিবন্ধন ফরম পূরণকারীদের নিবন্ধন কেন্দ্রে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা;
১২। বিশেষ এলাকার জন্য তথ্য ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেওয়া। বিশেষ তথ্য ফরম পূরণের সময় সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ এলাকাসমূহের জন্য নিবন্ধন ফরম-২ এর সঙ্গে বিশেষ তথ্য ফরমও পূরণ করা;
১৩। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভোটার স্থানান্তরের আবেদন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ ভোটার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন অফিসারের নিকট দাখিল করা;
১৪। মৃত ভোটারের নাম কর্তনের জন্য ফরম-১২ এ তথ্য সংগ্রহকালে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। কোনোক্রমেই জীবিত ভোটারের নাম মৃত হিসেবে যেন তথ্য সংগ্রহ না করা হয় সেজন্য সতর্ক থাকা;
১৫। সুপারভাইজার, তথ্য সংগ্রহকারী ও শনাক্তকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সুস্পষ্টভাবে লিখা; এবং
১৬। কোনোক্রমেই রোহিঙ্গা এবং ভিনদেশি ব্যক্তিদের তথ্য যেন সংগৃহীত না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।
বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহমর্মিতা জানান তিনি। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় আসেন দেশটির জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন