

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়াতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ইলেকশন কমিশনের বদনামের সবচেয়ে বড় কারণ হলো রাজনীতির কাছে নির্বাচন কমিশনকে সঁপে দেওয়া।
নাসির উদ্দিন বলেন, "আমরা কমিশনে যারা আছি, আমরা কোনো রাজনীতিতে জড়াতে চাই না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়াতে চাই না। আমরা নিরপেক্ষ থাকতে চাই। আপনারা আমাদেরকে সাহায্য করবেন।"
রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, "সব জায়গায় মতপার্থক্য থাকবে। ভিন্নমত মানেই বিপক্ষে নয়। একই বিষয়ে ভিন্নমত থাকবেই। এটা সহজ হিসাব। কিন্তু এই জিনিসটা অনেকে মানতে পারে না। তবে মানার বিষয়ে আমার অভ্যাস আছে। আমাকে নিয়ে সমালোচনা করলে ধরে নেব কোনো ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তখন নিজেকে শুধরে নেব।"
তিনি তালে তাল মেলানোর সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সবাই তালি বাজাতে বাজাতে দেশটার ১২টা বাজিয়েছে। তালি বাজানো আমাদের ভুলে যেতে হবে। সব বিষয় বাস্তবতার ভিত্তিতে দেখতে হবে। একজন একটা কথা বলল, আর আমি তালি বাজাতে থাকলাম—এটা যাতে না হয়।"
নাসির উদ্দিন আরও বলেন, "ইলেকশন কমিশনের এত বদনাম, এত গালি দেওয়া হয়, এটা কেন হলো? ১০০টা কারণ বলতে পারবেন, ২০০টা কারণ বলতে পারবেন। কিন্তু আমার কাছে এক নম্বর কারণ হলো—পলিটিক্যাল কন্ট্রোল অব দ্য ইলেকশন কমিশন। এটি আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে বড় কারণ। রাজনীতির কাছে নির্বাচন কমিশনকে সঁপে দেওয়া, এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ।"
নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা ফেরাতে রাজনীতিবিদদের প্রভাব বিস্তার বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিইসি। তিনি বলেন, "রাজনীতিবিদদের 'ইনফ্লুয়েন্স অন দ্য ইলেকশন কমিশন' যদি বন্ধ করা না যায়, আবার সেই পুরনো জিনিস রিপিট হবে বলে আমি মনে করি। এটি আমার কাছে সবচেয়ে বড় কারণ মনে হয়েছে অতীতে। এখান থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। আমরা যথাযথ নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেজন্য আমাদের বাংলাদেশের সবার সহযোগিতা লাগবে। আমাদের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়—যদি না আমরা সবার সহযোগিতা পাই।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শরিফ ওসমান হাদির সংগ্রামী ও সাহসী ভূমিকা এ দেশের তরুণদের জন্য চিরদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শহীদ ওসমান হাদি সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্টার অকুতোভয় যোদ্ধা ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে সমাজ ও দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
হাদির মৃত্যুর খবর দিয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আবরার, আবু সাঈদদের মতো হাদী না থেকেও আরো বেশি করে থাকবেন বাংলাদেশের বুকে। ইউ ফেইলড টু কিল ওসমান হাদী!’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদী, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা অনুভব করতে পারো না। (সূরা বাকারাহ: আয়াত ১৫৪)’
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কিছু মানুষ মরেন না, তারা রক্ত, স্বপ্ন ও বিপ্লব হয়ে মিশে যান ভবিষ্যতের ভেতরে। এ শপথ জুলাইয়ের প্রতিটি সন্তানের, এই দেশ আর ভয় পাবে না। শহীদ হাদি, আপনি আছেন, থাকবেন। ইনসাফের পথে, সাহসের কণ্ঠে, জুলাইয়ের শপথে।’
এদিকে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমাদের জুলাই আন্দোলনের ভাইকে আমরা ফ্যাসিবাদী অমানুষদের থেকে রক্ষা করতে পারলাম না। মাফ করে দিও, হাদি ভাই। আল্লাহ তোমাকে শহীদের মর্যাদায় জান্নাতবাসী করুন। আমিন।’
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম তোলেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং প্রার্থী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নানা গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক রূপান্তর অন্তত গুরুত্বপূর্ণ।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওসমান হাদি একজন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের কার্যক্রম দুই মাস আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন তিনি প্রচারণা করতেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পক্ষ ছিলেন।
আসিফ আরো বলেন, বিগত দেড় বছরে সরকারে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা নির্বাচনী আসনে জনগণের জন্য কাজে লাগাব।
মন্তব্য করুন


গত ২৬ জুন মুরাদনগরের পঞ্চকিট্রি ইউনিয়নের বাহারচর গ্রামে এক হিন্দু নারীর সাথে অশোভনীয় ঘটনা ঘটে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সময়ে একই গ্রামের এবং পূর্বপরিচিত মোঃ ফজর আলী (৩২) এর সাথে উক্ত নারী ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একই সাথে ফজর আলীর ছোট ভাই শাহপরান এর সাথেও তার (ভুক্তভোগী) সখ্যতা গড়ে উঠে।
ঘটনার দিন রাতে বড় ভাই ফজর আলী উক্ত নারীর ঘরে অবস্থানকালে ছোট ভাই শাহপরান ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাদেরকে মারধর করে এবং ভিডিও ধারণ করে।
উক্ত মারধরের ফলে ফজর আলী আহত হয়ে প্রথমত কুমিল্লা এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুন উক্ত নারী মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে তিনি (ভুক্তভোগী) ডাক্তারী পরীক্ষা করাতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে এবং মোঃ ফজর আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে সর্বমোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত এবং পারস্পারিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। এখানে বলপ্রয়োগ, দরজা ভাঙ্গা বা ধর্ষণের সরাসরি কোন সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তথাপি প্রকৃত ঘটনাটি তদন্তের পূর্বেই অশোভন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনাকাঙ্খিত। তবে আইন প্রযোগকারী সংস্থা কর্তৃক দুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন পূর্বক দোষীদের অচিরেই শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশা করা যায়।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ঈদযাত্রায় নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এ বিষয়ে জরিমানার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে অভিযুক্ত লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন নৌপথে জলযানসমূহের সুষ্ঠু চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় জুম প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকদের দেশের বিভিন্ন ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নৌপথে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ঈদে দেশের বিভিন্ন নৌপথে জলযানসমূহের সুষ্ঠু চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূরপাল্লার লঞ্চগুলোতে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি জানান। এছাড়া নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীকে নৌপথের বিশেষ অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টহল কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ও যানবাহনসমূহকে ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য বিআইডব্লিউটিসির কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনসমূহ প্রয়োজনে ০২২২৩৩৬২৭৭৯ ও ০১৪০৪৪৪৩৭০৭ নম্বরে যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারবেন।
নৌ দুর্ঘটনা রোধে ঈদের আগের ৫ দিন ও পরের ৫ দিন দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বাল্কহেড (বালুবাহী) চলাচল বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, সদরঘাট বা অন্যান্য ঘাটে যাদের ইজারা দেওয়া হয়েছে, তারা যাত্রীদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবেন না। কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতেও পারবেন না। বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপদেষ্টা যেসব জলযানের ফিটনেস নেই, তাদেরকে অবিলম্বে ফিটনেস সনদ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। লঞ্চের অনুমোদিত ভাড়ার একটি চার্ট ঘাটগুলোতে টাঙিয়ে রাখতে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেন তিনি।
উপদেষ্টা ঢাকার জিরোপয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ককে যানজটমুক্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের একপর্যায়ে বলেন, আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এ রকম—
আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছেসেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে ভোটাররা মতামত জানাতে পারবেন। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্তভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খুব বকবক করছেন, বেশি কথা বলছেন, মনে হচ্ছে বিএনপির জন্য উনার খুব মায়াকান্না। বিএনপির ভাবনায় উনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। মুরগির বাচ্চার জন্য চিল যেমন মায়াকান্না করে ওবায়দুল কাদেরের কান্নাও সে রকম।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে 'দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, সহ সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলসহ সব রাজবন্দির মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে' এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তিনি (ওবায়দুল কাদের) মাঝে মাঝে আওয়াজ দেন বিএনপি নাকি দুর্বল হয়ে গেছে, বিএনপি ক্লান্ত, হতাশ, বিদেশ চলে যাচ্ছে। তারা যে ভেতর থেকে ধ্বসে গেছে, ভেঙে গেছে- এটা চাপা দেওয়ার জন্যই তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জনগণের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করা। জনগণের মালিকানা ছিনিয়ে নেওয়া। এ কারণে তাদের (আওয়ামী লীগ) জনসমর্থন নেই। কয়েকজন সুবিধাবাদী লোক, কয়েকজন ঋণ খেলাপি, কয়েকজন বাজার সিন্ডিকেটের লোক আওয়ামী লীগকে ঘিরে আছে। এরা তো গণশত্রু, যারা বাজার সিন্ডিকেট করে দ্রব্যের দাম বাড়ায়, যারা ব্যাংক লুটপাট করে টাকা বিদেশে পাচার করে। তাদের সঙ্গে তো দেশের জনগণ থাকে না। এই সরকারের সঙ্গে জনগণের সমর্থন নাই। জনগণের সমর্থন পাবে না বলে তারা এখন ফাঁকা বুলি মারে।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার আবার একটি ডামি নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজন যাতে না দাঁড়ায় সেজন্য কেন্দ্র থেকে নিষেধ করেছে। তারপরও মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজনরা দাঁড়িয়েছে এবং তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর তো ২০ থেকে ২৫ জন আত্মীয়-স্বজন আছেন। তারা যদি ভোটে দাঁড়াতে পারেন তাহলে আমরা বাদ যাব কেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম নোমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ অর্থ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো কিছু সমস্যার সমাধান করলে এবং জনগণ সচেতন থাকলে নির্বাচন সুন্দর হবে।
রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদায়ন এবং বদলির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না দাবি করে তিনি যে কোনো অনিয়মের খবর প্রকাশ করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানায়, একক ব্যক্তির নামে সিম কার্ডের সংখ্যা ১০টি থেকে ২টিতে কমিয়ে আনতে চায় সরকার। নির্বাচনের আগে সেটি ৫-৭টিতে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
তারেক রহমানের জন্য বুলেট প্রুফ গাড়ির অনুমতি দেয়ায় তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শংকা আছে কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, অন্য কেউ চাইলেও অনুমতি দেওয়া হবে। সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্তব্য করুন


ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথে রয়েছে।
সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংবাদ লিংক শেয়ার করে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রেসসচিব বলেন, জিল্লুর রহমান নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও সরকার ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখছে। শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশন দ্রুত তফসিল ঘোষণা করবে।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। রেকর্ডসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও এবার নির্বাচনকালে সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপকভাবে মোতায়েন থাকবে। নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে, যার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আপত্তি ওঠেনি।
প্রেসসচিব জানান, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচন প্রচারণা শুরু হয়েছে। জুলাই চার্টার গৃহীত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে গণভোটের প্রস্তুতিও চলছে।
জিল্লুর রহমানের মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে নির্বাচনের সম্ভাবনা অস্বীকার করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন পূর্বের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো দলকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হলে নির্বাচন ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ হয়— এমন ধারণার সঙ্গে সরকার একমত নয়। প্রেসসচিব দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও মনে করেন ক্ষমাপ্রার্থনা ও বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না।
জিল্লুর রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও ভিডিও নিয়ে সমালোচনা করে প্রেসসচিব বলেন, এসব কনটেন্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয় এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার পায়।
সংবাদটির শেষাংশে প্রেসসচিব বলেন, “মানুষ নিজ সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে। তবে দুটি বিষয়ে আমি পরিষ্কার— আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না এবং অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করবে, ইনশাআল্লাহ।”
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, তিনি এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের বিষয়ে রিজভী বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় হলে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এজন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করবেন।
দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের যোগাযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক শারীরিক খোঁজ-খবর মেডিকেল বোর্ডই দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গোটা জাতি আজ লন্ডনের দিকে তাকিয়ে। বিশ্বাস করি এটি হবে ঐতিহাসিক বৈঠক এবং এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে ডিসেম্বরে নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে বিএনপি। যৌক্তিক সময়েই নির্বাচন হবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে। আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনসহ সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি ভয়ংকর বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে তারা হিংস্র হয়ে উঠেছে। বিদেশী তকমা দিয়ে প্রতিদিন পুশইন হচ্ছে। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা। সীমান্ত এলাকায় পুশইনের হিড়িক লেগেছে। বাংলাদেশ কি বর্জ্য ফেলার স্থান, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
দেশের লোককে বিদেশী বানিয়ে ভারত বাংলাদেশে পুশইন করতে চাইলে প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধ করবে বাংলাদেশ। ভারতকে মনে রাখতে হবে অত্যাচার-নিপীড়ন করে শেখ হাসিনাও টিকে থাকতে পারেনি।
সম্প্রতি করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারতে এরই মধ্যে ৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে একজন মারাও গেছে। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত করনীয় নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। সুরক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
‘পাশাপাশি ডেঙ্গুও মারাত্মক রূপ নিয়েছে, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এর জন্য সরকারের সঙ্গে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বা জানান।’
ঈদযাত্রা ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫৭ জন মৃত্যুর সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনা বেড়েছে। এছাড়াও ঈদে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্মও ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্ভয়ে ঈদ উদযাপন আনন্দের ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতির অবনতি দেখা গেছে। প্রশাসন আরও তৎপর হলে তা কমানো সম্ভব হতো।
মন্তব্য করুন