

সরেজমিনে রাজধানীর পল্টন এলাকায় দেখা গেছে, বিএনপির সমাবেশ দুপুর ২টায় শুরুর কথা থাকলেও সকাল থেকেই দলে দলে আসতে শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। উপস্থিতি বাড়ার শঙ্কা থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের জনবলও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের আর্মড ভেহিক্যাল, এসকর্ট ভেহিক্যাল, সাঁজোয়া যান এপিসি, জলকামান।
নিরাপত্তায় নিয়োজিত ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৬ দলের সমাবেশ আজ। সেজন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে।
আজ বিএনপিসহ ৩৬ রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে কি না– জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তারা আমাদের কাছে অনুমতি নিয়েই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি অপচেষ্টা হতে পারে। তবে সেটা যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে প্রস্তুতি আমাদের আছে।
মন্তব্য করুন


সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে এবং এতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্কার কমিশনগুলো যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তা দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ঐকমত্য ছাড়া কোনো সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব নয়।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
জুলাই-আগস্টে নির্বাচন হওয়া নিয়ে সন্দেহের বিষয়ে তিনি বলেন, "সংস্কার চলবে, নির্বাচনও চলবে। নির্বাচনের পর যে সরকার দায়িত্ব নেবে, তারা সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেবে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা প্রতিটি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে চলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।"
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার শুরু করেন। তিনি একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন এবং বদ্ধ অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেন। তার হাত ধরে কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব ঘটে।"
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই দল আজ বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।"
তিনি বলেন, "জিয়াউর রহমানের পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া দলের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। আমরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। তার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান এখন দেশকে হাসিনা-ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।"
মন্তব্য করুন


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শায়রুল কবির জানান, দুপুরে গুলশানের এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সেখানে তিনি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত মেডিকেল বোর্ডের কাছে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা চলছে বলে জানান।
দলের পক্ষ থেকে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশবাসীর কাছে বিএনপি চেয়ারপারসনের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন শায়রুল কবির খান।
এর আগে গত রোববার (২৩ নভেম্বর) রাত ৮টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। সবশেষ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানান শায়রুল কবির খান। সেই সঙ্গে তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কেবিনে তার চিকিৎসা চলছে।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। কিছুদিন পরপরই নানা জটিলতায় তাকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, শেখ হাসিনা সুবিধা দেওয়ায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ১৬০টি জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটোরিকশাচালক শ্রমিক দল এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনা ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারতকে নানা সুবিধা দিয়েছেন। এই সুযোগে ভারত সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা বা উন্নয়নকাজ নিতে হলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করতে হয়। কিন্তু ভারত তা না মেনে একতরফাভাবে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।
রিজভী বলেন, “৪ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ভারত ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। শেখ হাসিনা এই বেআইনি কার্যক্রম ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং ভারতের প্রতি নতজানু থেকে সীমান্তরক্ষীদের প্রতিরোধ করার সুযোগ দেননি।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা সবসময় দাবি করেন, তাঁকে নাকি কেনা যায় না। কিন্তু ভারত তাঁকে সবার আগে কিনেছে। আর সেই কারণেই তিনি নিজের দেশের স্বাধীনতা ও গৌরবকে পদদলিত করে ভারতের অন্যায্য কার্যক্রমে সুযোগ করে দিয়েছেন।”
দোয়া মাহফিলে রিজভী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রিকশা-ভ্যান-অটোরিকশাচালকদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। আহতদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন


বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের মালিকানা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২টি মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। বাকীগুলো ঐকমত্যের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, তা বাদ দিয়ে শুধু মৌলিক বিষয়গুলোই সংস্কার করা উচিত।
গণতন্ত্রে সীমা থাকা উচিত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলেও সেখানে সীমা থাকা উচিত। এমনটা না হলে ভবিষ্যতে তিক্ততা তৈরি হবে।
এ সময় জুলাই-আগস্টে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে রেখে সবাইকে দেশ গঠনে ঐকবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ২০০৭-২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনের সময় সবক্ষেত্রে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সুইডেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. ফরহাদ আলী খান, সহ-সভাপতি সিরাজুল হক খান রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন দুলু, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক আফসার আহমেদসহ সুইডেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ নরডিক শাখার নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচন তো নির্বাচনের জায়গায়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নাই। সবচেয়ে বেশি নির্বাচন যিনি চাইবেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না উল্লেখ করে খসরু বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণ যেন নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পারে সেই চাওয়া সবচেয়ে বেশি ছিল বেগম জিয়ার।
বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে নির্বাচন পেছানোর সম্পর্ক নেই, কারণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনিই সব সময় সংগ্রাম করেছেন। তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পেলেই তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘উনি যে অবস্থায় থাকুক, উনি চাইবেন বাংলাদেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করুক, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, বাংলাদেশের মানুষ আবার তাদের তাদের মালিকানা ফিরে পাক। যদি সবচেয়ে বেশি কেউ চেয়ে থাকে (নির্বাচন) সেটা হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্নটা আসছে কোথা থেকে?’
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশ একপেশে এবং তা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অযৌক্তিক, অবিবেচনাপ্রসূত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবিত সুপারিশ নিয়ে প্রয়োজনে বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাবে বলেও জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে প্রস্তাবিত গণভোট অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সময় স্বল্পতা, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ব্যয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ব্যাপক লোকবল নিয়োগ—এই কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনের বিবেচনায় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট অনুষ্ঠান অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক এবং অবিবেচনা প্রসূত।’
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশ একপেশে এবং তা জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার খুব দুর্বল। কার, এদের পেছনে কোনো দল ও জনমত নেই।
বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ভুল্লি ইউনিয়নের কুমারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যে ধ্বংসস্তূপ রেখে গিয়েছিল এই ধ্বংসস্তূপকে তুলে ধরেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকার রাস্তায় এত দাবি দাওয়ায় এই সরকার ভারাক্রান্ত। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হবে।
মির্জা ফখরুল আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, এই দাবি দাওয়ার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই আগে নির্বাচন হোক, পরে সকল দাবি-দাওয়া পূরণ। পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত নয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলিসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিদেশের মাটিতে একটি দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরকার প্রধানের এমন বৈঠক পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে আমরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কিছুটা বিব্রত। এ কারণেই ঐকমত্য কমিশনের গতকালের (মঙ্গলবার) বৈঠকে আমরা অংশগ্রহণ করিনি। তবে প্রধান উপদেষ্টাসহ কমিশনের অনুরোধে আজকে এসেছি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের তৃতীয় দিনের সংলাপের মধ্যাহ্নে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতি সাপেক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। একটি দলের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন অভিযোগ করে প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সংলাপ বয়কট করে জামায়াত।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদ সংলাপে অংশ নিতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আসেন।
মধ্যাহ্নের বিরতিতে ডা. তাহের সাংবাদিকদের জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের। প্রধান উপদেষ্টা সরকারের নিরপেক্ষতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
সরকার ও বিএনপির বৈঠকের যৌথ বিবৃতিকে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল আখ্যা দিয়ে ডা. তাহের জানান, বিভিন্ন দেশে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বা সংসদের প্রতিনিধিত্বকারীদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি হয়। দেশে শতাধিক দল আছে। তাহলে তো এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হবে, প্রধান উপদেষ্টা যার সঙ্গে কথা বলবেন, একটা যৌথ বিবৃতি দিতে হবে। এতে অন্যান্য দল বিব্রত হয়েছে। তবে বিএনপির ব্যাপারে জামায়াতের বক্তব্য নেই।
তিনি জানান, প্রথমত সাংবিধানিক কাউন্সিলের পক্ষে জামায়াত। তবে এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সম্পৃক্ততা চাই না। কারণ তারা দুই জনই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়াও কোনও বিষয়ে বিরোধ হলে সমাধান করবেন কে? তাই সেখানে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও স্পিকার থাকবেন।
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর এ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে জামায়াত।
এছাড়া মেয়র পদের জন্য নগর ভবন তালাবদ্ধ করে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেন, যিনি একমাসেও একটি ভবনের তালা খুলতে পারেন না, ৩০০ সংসদীয় আসনের কিভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবেন, সেটাও বিস্ময়ের ব্যাপার। আমি উনাকে সংযতভাবে কথা বলার অনুরোধ করছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কী হবে, এটা বুঝার জন্য অনুরোধ করছি।
মন্তব্য করুন


জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজার ভ্রমণ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি এনসিপির ৫ নেতাকে পাঠানো হয়।
শোকজ হওয়া এই পাঁচজন হলেন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ।
চিঠিতে বলা হয়, গতকাল ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যান। এই সফর সংক্রান্ত কোনো তথ্য কিংবা ব্যাখ্যা ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ এর নিকট পূর্বে অবগত করা হয়নি।
এমতাবস্থায়, আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নিকট সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য আপনাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তির দিনে পূর্বঘোষণা ছাড়াই রহস্যজনকভাবে কক্সবাজারে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং-বিজি-৪৩৩ যোগে তারা কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। নির্ধারিত কোনো গাড়ির পরিবর্তে বিমানবন্দর পার্কিং এলাকা থেকে একটি নোয়াহ মাইক্রো ভাড়া করে এনসিপির এই নেতারা মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইনানীর হোটেল সি পার্ল অ্যান্ড স্পাতে ওঠেন বলে জানান ভাড়ায় যাওয়া সেই গাড়িচালক। তবে ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পূর্তির দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে কেন তারা কক্সবাজারে তার কোনো সঠিক বিবরণ মিলছে না।
মন্তব্য করুন