

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেই পশ্চিমবঙ্গে শান্তি ফিরবে। তার মতে, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের শান্তি তখনই সম্পূর্ণভাবে স্থায়ী হবে, যখন এই অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
রবিবার পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ভারতের সবচেয়ে বড় যাত্রী টার্মিনাল ভবন এবং 'মৈত্রী দ্বার' নামে একটি কার্গো গেট উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, 'ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া' (এলপিএআই) এই অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈধ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকলে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করে।
অমিত শাহ বলেন, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে সংস্কৃতি, ভাষা ও আদান-প্রদান বাড়বে, যা এক নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা করবে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার পেট্রাপোল বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ আরও বলেন, এলপিএআই একটি ছোট প্রতিষ্ঠান হলেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক উন্নয়নে ভাষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে এলপিএআই গত দশ বছরে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, এই ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি নরেন্দ্র মোদির চারটি ‘পি’ সূত্র অনুসরণ করে কাজ করে—প্রসপারিটি (সমৃদ্ধি), পিস (শান্তি), পার্টনারশিপ (অংশীদারত্ব) এবং প্রগ্রেস (উন্নতি)।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দর প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, এলপিএআই এর চেয়ারম্যান আদিত্য মিশ্র, বিএসএফ এর ডিজি দলজিৎ সিং চৌধুরী এবং কেন্দ্রের জয়েন্ট ডিরেক্টর পৌসুমী বসু।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেন ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুন থেকে ৩৯ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বসবাস করেন এই শহরে। ইয়াঙ্গুনের সংলগ্ন অন্যান্য শহরে বসবাস করেন আরও বেশ কয়েক লাখ মানুষ।
ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে ভূমিকম্প প্রায় নিয়মিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
মন্তব্য করুন


দেশজুড়ে বাড়তে থাকা বন্দুক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে একটি দপ্তর খোলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস হবেন সেই দপ্তরের প্রধান।
গত কয়েক বছরে বন্দুক হামলায় নিহতদের স্মরণে শনিবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন এক স্বরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও বন্দুক সহিংসতায় নিহতদের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে বাইডেন বলেন, ‘ঝড়ের মতো বাড়তে থাকা বন্দুক সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ছারখার হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট নিয়ন্ত্রণে আমার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
‘এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় শিগগিরই একটি নতুন দপ্তর খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, যেটির কাজ হবে এ সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস হবেন সেই দপ্তরের প্রধান।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তার বক্তব্যে বলেন, ‘এক্ষেত্রে নষ্ট করার মতো সময় কিংবা জীবন— কোনোটাই আমাদের হাতে নেই। কারণ, প্রকৃত স্বাধীনতার সঙ্গে জনগণের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।’
প্রসঙ্গত, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে এবং নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ডাটাবেইজের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বন্দুক সহিংসতার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ৩৫টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বন্দুক সহিংসতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গত ৯ মাসে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৭১ জন।
তবে নতুন দপ্তর খোলা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান বন্দুক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কতখানি কাজে আসবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষক।
কারণ, বন্দুক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক ধাপ হলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বন্দুক বাণিজ্য, অর্থাৎ কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণ করা। বাইডেন প্রশাসন এর আগে কয়েকবার বন্দুকের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে চেয়েছে; কিন্তু প্রত্যেকবারই তা ঠেকিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনেটিটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।
বর্তমানে এটি আরও কঠিন, কারণ গত বছর কংগ্রেসের নির্বাচনে নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে রিপাবলিকান পার্টি।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই বন্দুক সহিংসতাকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জো বাইডেনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। যদি সত্যিই এমন হয়, সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনেও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কমলা হ্যারিসের দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।
মন্তব্য করুন


গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি এই চুক্তির প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এরদোগান এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখানোর কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন।
মিশরের শারম এল-শেখ শহরে তিন দিন ধরে চলা আলোচনায় তুরস্ক, কাতার, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত ছিল। এরদোগান বলেন, আমরা এই চুক্তির সূক্ষ্ম বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব এবং এই প্রক্রিয়াতে আমাদের অবদান অব্যাহত রাখব।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, কেবল চুক্তি বাস্তবায়নই যথেষ্ট নয়। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, আমরা ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে, স্বাধীন, সার্বভৌম এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্পন্ন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
বিবৃতির শেষে এরদোগান গত দুই বছর ধরে ‘চরম দুর্ভোগ’ সহ্য করা এবং ‘অমানবিক পরিস্থিতিতে’ বসবাস করা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্য করুন


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জোয়ারেও মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি কর্মীর চাহিদা কমবে না। বরং সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে। চলতি বছর প্রকাশিত এক বৈশ্বিক শ্রমশক্তি সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর জিও নিউজের।
গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন এলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবশ্রমের সামগ্রিক চাহিদা কমছে না। বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবাখাতের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই দেশে টেকসই শ্রমচাহিদা তৈরি করছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির কারণে শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, এআই থেকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে সৌদি আরবের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন হতো। অটোমেশনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার পরও আগামী বছরগুলোতে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শ্রমঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমশক্তির চাহিদা আরও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে আমিরাতের মোট শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শ্রমবাজার হতে যাচ্ছে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গবেষণাভুক্ত শ্রমবাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতেই শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে শ্রমশক্তি বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এই হার মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার কোম্পানি সার্ভিসনাও এই গবেষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো ও অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেবাখাতের ডিজিটাল রূপান্তরে আমিরাতের জোরালো মনোযোগ চাকরি কমানোর বদলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশটিতে সরকারি ডিপার্টমেন্ট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আধুনিকায়ন করার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন, শিক্ষা, খুচরা বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং প্রযুক্তি-সম্পর্কিত খাতে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে নির্মাণ, পরিবহন, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, খুচরা বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সামনের বছরগুলোতে ব্যাপকহারে বিনিয়োগ হবে। প্রযুক্তির প্রভাবে কাজের ধরন বদলালেও যারা প্রশিক্ষণ ও পুনঃদক্ষতায় বিনিয়োগ করবে, সেসব দেশ ও কর্মীরাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট (নির্বাচিত) ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল দখল নিয়ে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই দুটি জায়গা দখলে নিতে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবছেন।
৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ফ্লোরিডায় নিজের রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি পানামা খাল ও গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না? তার নিশ্চয়তা কি দিতে পারবেন? এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, "না, আমি এখনই আপনাকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তবে আমি বলতে পারি, আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রয়োজন।"
গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল উভয়কেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "ডেনমার্ক যদি গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে রাজি না হয়, তাহলে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।"
এদিকে, ট্রাম্প কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ব্যয় ও কানাডাকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থাকা সীমান্তকে "কৃত্রিমভাবে আঁকা রেখা" বলেও অভিহিত করেন।
তবে ডেনমার্ক ও পানামা ট্রাম্পের ধারণা অস্বীকার করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটা ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং আমরা একে অন্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অংশীদার হিসেবে কাজ করছি।"
পানামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিয়ের মার্টিনেজ-আচা সাংবাদিকদের জানান, "পানামা খাল এখনো ও ভবিষ্যতেও শুধুমাত্র পানামার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।"
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন, "ট্রাম্পের মন্তব্য কানাডার শক্তির প্রতি পূর্ণ অবহেলা প্রকাশ করে। আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী, আমাদের জনগণ শক্তিশালী, এবং আমরা কখনো হুমকির সামনে নতজানু হবো না।"
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের সাবেক কূটনীতিক ড্যানিয়েল ফ্রিড ট্রাম্পের মন্তব্যকে জাতীয় ক্ষমতার আঞ্চলিক সম্প্রসারণ হিসেবে চিত্রিত করে বলেন, "ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করেন, তাহলে ন্যাটো ধ্বংস হয়ে যাবে, কারণ আমরা তখন আর ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য কোনো হুমকি থাকবো না।"
গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজার। তবে এটি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় স্পেস ফ্যাসিলিটি রয়েছে, এবং সেখানে পৃথিবীর বিরল কিছু পদার্থ ও উপাদানের বৃহত্তম মজুত রয়েছে, যা ব্যাটারি ও হাই-টেক ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, এটি স্পষ্ট নয় যে ট্রাম্প কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কতটা সিরিয়াস। তবে তার এসব বক্তব্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন লেখিকা ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন যে তিনি টেসলার সিইও ইলন মাস্কের সন্তানের মা। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নীরবতা ভেঙে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন এই বিলিয়নিয়ার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ৩১ বছর বয়সী অ্যাশলে এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্টে জানান, মাস্কের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে। আর পাঁচ মাস আগে তিনি ইলন মাস্কের সন্তানের মা হয়েছেন।
অ্যাশলে লিখেছেন, ‘পাঁচ মাস আগে আমি একটি শিশুর জন্ম দিয়েছি। আর ইলন মাস্ক সেই সন্তানের বাবা।’
অ্যাশলে বলেন, তিনি নিজের ও তার সন্তানের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার কথা চিন্তা করে এতদিন সন্তানের বাবার পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তবে কিছু ট্যাবলয়েড পত্রিকা মনগড়া খবর প্রকাশ করায় তিনি সত্যি কথা সামনে আনলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই, আমাদের সন্তান একটি স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে বড় হোক। আমি গণমাধ্যমকে অনুরোধ করব, আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। এই নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পেছনে না ছোটার জন্য অনুরোধ করছি।’
তবে অ্যাশলের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় ইলন মাস্ক সরাসরি কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেননি। তিনি এ সম্পর্কিত একটি পোস্ট শেয়ার করে মাত্র একটি শব্দ লিখেছেন, ‘হোয়া’। সাধারণত আশ্চর্য বা মজাদার কোনো অনুভূতি প্রকাশ করতে তিনি এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন।
ইলন মাস্ক যে পোস্টটি শেয়ার করেছেন, সেই পোস্টে লেখা ছিল, অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার ইলন মাস্ককে ফাঁসাতে পাঁচ বছর সময় নিয়েছেন।
যদি এই পুরো ঘটনা সত্যি হয়, তাহলে অ্যাশলে ইলন মাস্কের ১৩তম সন্তানের মা হবেন। এর আগে ইলন মাস্ক চারটি বিয়ে করেছেন এবং তার বেশ কয়েকটি সন্তান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করেছিল, তবে এটি তাদের জন্য ছিল ব্যবসা। এমনটাই মনে করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নকে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হয়েছিল। হ্যাঁ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করেছিল, তবে তাদের জন্য এটি ছিল ব্যবসা।
দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়লাভের সবচেয়ে বড় মূল্য আমাদের সোভিয়েত ইউনিয়নকে দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিঃসন্দেহে আমাদের সাহায্য করেছে। গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে আমেরিকা সর্বদা সবখান থেকে অর্থ উপার্জন করে, আমেরিকার জন্য এটি সর্বদা ব্যবসায়ের বিষয়।
বর্তমানের সময়েও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরণের ব্যবসা করছে বলেও মন্তব্য করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র। বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সাহায্য করে এবং ইউরোপীয়দের কাছে তার ব্যয়বহুল সম্পদ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে। সুতরাং আপনি যেভাবেই বিশ্লেষণ করেন না কেন, এটি একটি সফল ব্যবসা।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সহায়তার জন্য ওয়াশিংটন ঋণ পরিশোধও বন্ধ করে দেয়। এটিও ব্যবসা ছিল!
যদিও এর আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পেজে এক পোস্টে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয়, রাশিয়া আমাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিততে সহায়তা করেছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬ কোটি প্রাণ হারিয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, মোট ক্ষতির মধ্যে অপূরণীয় ছিল ২৬.৬ মিলিয়ন মানুষ। এদের মধ্যে প্রায় ১৮ মিলিয়ন বেসামরিক এবং প্রায় ৮.৭ মিলিয়ন সামরিক সৈনিক ছিল। এদের মধ্যে ১০ লাখ সোভিয়েত সৈন্য ও অফিসার রয়েছেন যারা ইউরোপের মুক্তির জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই দিন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশ থেকে দলে দলে পালিয়ে ভারতে যাচ্ছেন।
তবে ভারতের প্রসিদ্ধ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এ ধরনের খবরকে ভুয়া বলে আখ্যা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটছে না। হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মানুষের ভারতে পালিয়ে যাওয়া বা ভারতে ঢোকার কোনও চেষ্টা হয়নি।
রবিবার প্রকাশিত দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এমনটাই বলা হয়েছে।
দ্য হিন্দু বলছে, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সীমান্তে এক হাজার ৩৯৩ বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। এর আগে জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত (আওয়ামী লীগ সরকারের সময়) ১ হাজার ১৪৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। যার অর্থ আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কোনও চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তে মোট ৩ হাজার ৯০৭ অনথিভুক্ত ব্যক্তি আটক হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশি, ভারতীয়, এবং অন্যান্য জাতীয়তার মানুষ। ২০২৩ সালে এ সময় পর্যন্ত আটক হওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৭, যা ২০২২ সালের ৩ হাজার ৭৪ জনের কাছাকাছি।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ জানিয়েছে, গত আগস্ট মাস থেকে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সীমান্ত। এমএইচএ’র নির্দেশে বৈধ নথি ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত কোনও কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৮৭৩ ভারতীয়কে আটক করা হয়েছে।
বিএসএফের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার ভয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চাইতে পারে। কিন্তু রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এমন কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি। উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর থেকে কয়েকটি খবর পাওয়া গেলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতে আশ্রয়ের জন্য কোনও বড় ধরনের গণ-অভিবাসনের খবর পাওয়া যায়নি।
বিএসএফ আরও বলেছে, ৫ আগস্ট থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন এমন ভারতীয়র সংখ্যা ৩৮৮ জন। এ বছর মিয়ানমারসহ অন্যান্য জাতিসত্তার ১০৯ জনকেও সীমান্তে আটক করা হয়েছে।
২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালে সীমান্তে আটক বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৯৯৫ জন, ২ হাজার ৪৮০ জন, তিন হাজার ২৯৫ জন, দুই হাজার ৪৫১ জন এবং তিন হাজার ৭৪ জন।
অর্থাৎ ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সীমান্তে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২,৪৮০ থেকে ৩,২৯৫-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই ধারাবাহিকতা থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাউকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
৫ আগস্টের পর বিএসএফ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনেক বার বৈঠক করেছে। সূত্র: দ্য হিন্দু
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি মোকাবিলা নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার, ট্রুডোর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। চিঠিতে তিনি কানাডার জন্য সর্বোত্তম পথ নিয়ে ট্রুডোর সঙ্গে মতবিরোধ এবং ট্রাম্পের ‘আগ্রাসী অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ’ নীতির ‘গুরুতর চ্যালেঞ্জ’ তুলে ধরেন।
ফ্রিল্যান্ড বলেন, ট্রুডো যখন তাকে জানান যে, তিনি আর ফ্রিল্যান্ডকে তার সরকারের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চান না, তার এক সপ্তাহ পরেই পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত আসে। ফ্রিল্যান্ডের ধারণা ছিল যে, তিনি পার্লামেন্টে সরকারের বার্ষিক আর্থিক আপডেট উপস্থাপন করবেন, কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগের এই ঘোষণা ট্রুডোর প্রশাসনকে সংকটে ফেলতে পারে, কারণ এটি ইতিমধ্যেই নড়বড়ে সংখ্যালঘু সরকারের দিকে চলে যাচ্ছে।
নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পর, জাস্টিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে একের পর এক পদত্যাগের আহ্বান আসছে। অনেকের ধারণা, তিনি তার দলের ভবিষ্যতের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এক জরিপের ফল অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময় ট্রুডোর গ্রহণযোগ্যতা ছিল ৬৩ শতাংশ, কিন্তু ২০২৪ সালের জুন মাসে তা কমে ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
সোমবার ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগের পর পাঁচজন লিবারেল সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে ট্রুডোর পদত্যাগের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


ফিলিপাইনে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে দেশটির মধ্যাঞ্চলে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। বুধবার (১ অক্টোবর) এসব তথ্য জানায় ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বোগো শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ও আহত হয়েছেন অন্তত ১১৯ জন।
বোগো ছাড়াও সেবুসহ একাধিক শহর ও পৌরসভায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে এসব শহরের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের পর সেবু প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে সেখানকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিবিসি বলছে, সান রেমিজিও পৌরসভাতেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়ায় উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় সেখানে বাস্কেটবল খেলা চলছিল। দুর্যোগের পর প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি শহর ও পৌরসভা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এসব এলাকাতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বোগো, সান রেমিজিও ও দানবান্তায়ান এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি। সংস্থাটি জানায়, সমুদ্রপৃষ্ঠে সামান্য পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব কেটে গেছে।
মন্তব্য করুন