

পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের প্রশ্নে রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। রায় ঘোষণা এখনও চলমান রয়েছে।
এর আগে, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, এ বিষয়ে রুল জারি করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী রায় ঘোষণা শুরু করেন। রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
গত ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রুলের রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিল। দীর্ঘ ২৩ কার্যদিবসের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, চার আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রুলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পক্ষভুক্ত হন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম, চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।
মন্তব্য করুন


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৬০ হাজার সেনাসদস্য নির্বাচনী ডিউটিতে থাকবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রেসসচিব বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি মিডিয়া সেন্টার খোলার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, অনেক সময় পুলিশ বাহিনী ভালো কাজ করলেও তা প্রচারের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। মিডিয়া সেন্টার থাকলে সেই ঘাটতি দূর হবে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে। তবে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে এখনও পদত্যাগ করেননি তিনি।
অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে নাজমুলকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
এর আগে এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তার দত্যাগের দাবি করে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি বলেন, ‘মাঠে যাবো একটাই শর্তে, বিসিবি থেকে এসে যদি কমিটমেন্ট করে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই লোক বিসিবিতে থাকবে না। যদি থাকে, তাহলে খেলা বন্ধের দায় ক্রিকেটাররা নেবে না। যদি বিসিবি থেকে অফিশিয়াল ডিক্লেয়ার করে।’
তবে নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে পরিচালকের পদ থেকে নাজমুলকে সরাতে পারবে না বিসিবি। ক্রিকেট বোর্ডের গঠণতন্ত্র অনুযায়ী শুধুমাত্র মৃত্যু হলে, মানসিক ভারসাম্য হারালে, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি হলে, অর্থনৈতিভাবে দেওলিয়া হলে, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকলে অথবা নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে কারো পরিচালক পদ বাতিল হয় না। এখানে প্রথম পাঁচটি কারণ নাজমুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে তিনি নিজ থেকে পদত্যাগ করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিসিবির দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন নাজমুল। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা (ক্রিকেটাররা) গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাইছি নাকি!’
আরেক প্রশ্নের জবাবে বিসিবির এই পরিচালক আরও বলেন, ‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’
মন্তব্য করুন


গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ফেরত না দিলে সেটি প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে, এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইনসহ অন্যান্য সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি কতদূর জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যর্পণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। এরপর ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না নেয়, তবে সেটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে। এই ব্যাপারে আমরা কী পদক্ষেপ নেবো, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আমরা যা কিছু করণীয়, তা করেছি এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হলে আমরা তা প্রয়োজনে গ্রহণ করবো।"
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এদিকে, তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগী হয়ে রয়েছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে ভারতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ওইদিনই কূটনৈতিক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার মহেশ সাচদেব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, "যেমন ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ ভারতের প্রত্যর্পণ অনুরোধ বিভিন্ন শর্তে প্রত্যাখ্যান করেছে, শেখ হাসিনাও একইভাবে বলতে পারেন যে, তিনি তার দেশের সরকারের ওপর আস্থা রাখেন না এবং তার বিরুদ্ধে অবিচারের আশঙ্কা রয়েছে।"
মন্তব্য করুন


দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এসকে) সুর চৌধুরীর ধানমন্ডির বাসায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে তার বাসা থেকে নগদ সোয়া ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুদক পরিচালক মো. সাইমুজ্জামান।
দুদক মহাপরিচালক জানান, ‘এসকে সুরের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।’
এর আগে, ১৪ জানুয়ারি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তায় সংস্থাটির উপপরিচালক নাজমুল হোসাইনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে ২৩ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর এসকে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়।
এছাড়াও, আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার নাম জড়ানোর পর ২০২২ সালে দুদক এসকে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। ওই বছরের মার্চে তাকে দুদকে তলব করা হয়। এসকে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক অন্তবর্তীকালীন সরকাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখবেননা। বরং আপনাদের যে দায়িত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গুলোর জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। আগামী নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করুন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনে নোয়াখালী খেলাফত মজলিসের গণ সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগস্টের বিপ্লব প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আগস্টের বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আগে দেশ বাঁচান, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখুন। আগস্টের বিপ্লব ব্যর্থ হলে কোনো বাংলাদেশী বাংলাদেশে থাকতে পারবেনা। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী মাফিয়া হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জবাবদিহিতা করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল গুলোকে এক সাথ হয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, সব জায়গায় ষড়যন্ত্রের জাল উঠছে। তাই এখনো গোটা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখনো আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ ও প্রতিযোগিতার সময় তৈরী হয়নি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউছুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির খুরশিদ আলম কাশেম,যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী প্রমূখ।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ উপলক্ষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টায়) প্রথমবারের মতো বিতর্কে অংশ নিয়েছেন তারা। বিতর্কের আয়োজন করে সিএনএন ও এবিসি। সিএনএনের আটলান্টা স্টুডিওতে বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিএনএন এর জরিপ অনুযায়ী এই বিতর্কে হেরে গেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার একটি সম্পাদকীয়তে প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনকে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অন্য ডেমোক্র্যাটকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বাইডেনকে ‘একজন মহান সরকারি কর্মচারীর ছায়া’ হিসেবে বর্ণনা করে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় পরিষদ বলেছে, “প্রেসিডেন্ট এবং ট্রাম্পের মধ্যে বৃহস্পতিবারের বিতর্ক প্রমাণ করেছে ৮১ বছর বয়সী বাইডেন- তার নিজের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি কী করবেন, তার ব্যাখা দিতে হিমশিম খেয়েছেন। হিমশিম খেয়েছেন ট্রাম্পের উসকানির জবাব দিতে। হিমশিম খেয়েছেন ট্রাম্পকে তার মিথ্যা কথা, ব্যর্থতা ও ভয়ানক সব পরিকল্পনার জন্য জবাবদিহি করাতে। একাধিকবার তিনি একটা বাক্য শেষ করতে গিয়ে সংগ্রাম করেছেন।”
বাইডেন এখন যা করতে পারেন, তা হলো, তিনি পুনরায় নির্বাচন করছেন না—এই ঘোষণা দেওয়া। দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এক বেপরোয়া জুয়ায় লিপ্ত আছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়া ঠেকাতে ডেমোক্র্যাট নেতাদের মধ্যে নিজেকে স্পষ্টবাদী, বাধ্যকারী ও উদ্যোমী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার মতো অধিকতর যোগ্য বিকল্প রয়েছেন।
ট্রাম্প ও বাইডেনের ঘাটতিগুলোর মধ্যে এর যেকোনোটি বেছে নিতে ভোটারদের বাধ্য করার মধ্য দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রহণ করার কোনও কারণ দলের নেই। আমেরিকানরা যা নিজেদের চোখে দেখেছেন, বাইডেনের সেই বয়স ও দুর্বলতা তারা এড়িয়ে যাবেন বা হিসেবে নেবেন না— সরলভাবে এটা আশা করা হবে এক বড় জুয়া’, বলেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
মন্তব্য করুন


দেশে আবারও বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২১ মে) সকাল ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন বিভাজনের রাজনীতি আবার শুরু হয়েছে। এখানে গোত্রে গোত্রে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনগুলোকে পরস্পরের মুখোমুখি করার একটা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পারছি, কিছু মানুষ সরকারের মধ্যে অনুপ্রেবশ ঘটিয়ে বাংলাদেশকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওপরে সবসময় গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার, সেই দায়িত্ব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার কাজ করতে শুরু করেছিলেন, এখন যে তরুণ নেতা নতুন স্বপ্নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’
‘তাদের স্বপ্নগুলোকে বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে অত্যন্ত সজাগ ও সচেতনভাবে তাদের কাজ করতে হবে এবং রুখে দাঁড়াতে হবে যে কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে আমি অনুরোধ করবো, যে যেখানে আছেন অত্যন্ত সচেতনভাবে আমরা যেন এই বিষয়গুলো মনে রাখি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেন কেউ কখনো কেড়ে নিতে না পারে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যেন কেউ কখনো বিনষ্ট করতে না পারে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আর কেউ যেন কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার দিয়ে দাবিয়ে রাখতে না পারে, সেজন্য বিএনপির প্রতিটি কর্মীকে সেই অতন্দ্র ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও আধুনিক করার যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, সেই কর্মযজ্ঞের সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দুর্ভাগ্য আমাদের এই জাতির আমরা এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি।’
‘আজ যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, যারা বাংলাদেশকে ১৫ বছর ধরে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের মধ্যে রেখেছিল, যারা এখনো ষড়যন্ত্র করে চলেছে সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশকে আবারও জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবার জন্য, বাংলাদেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করর জন্য, এ রকম সময়ে আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বারবার মনে রাখতে হবে।’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে, ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, প্রায় ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে এনফোর্স ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের মধ্যনিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরির সাহস এই গুণগুলো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া জরুরি।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল চাকরির উপযোগী জনশক্তি তৈরি করা নয় বরং সৃজনশীল, স্বাধীন চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ গড়ে তোলা।
মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় সেই সৃজনশীলতাকে দমন করে কেবল চাকরির প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো।’
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো অনেক সময় কাজে লাগানো যায় না।’ শিক্ষা হতে পারে সেই শক্তি, যা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে গেলে নির্বাচনের উত্তাপের দেখা মিলছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি তো দেখছি, সাধারণ মানুষ খুব ভালোভাবে নিচ্ছে যে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে। আমি তো কনফিউশন দেখছি দুয়েকজন তথাকথিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মধ্যে। তারা দুয়েকটা সময় টেলিভিশনে আসেন, এসে বলেন। আমরা দেখি যে সোজা বাংলায় যাকে বলে তারা মার্কেট গরম করতে চান।
ভোট প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, আমরা দেখছি বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আর আমি বলব, নির্বাচনের ট্রেন তো ছেড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে গেলে নির্বাচনের উত্তাপের দেখা মিলছে। আজকেই তো একটা দল নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অন্তর্র্বতীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ মোখবারের নাম ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি দুই মাস এ দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির সংবিধানে বলা আছে- ইরানের কোনো প্রেসিডেন্ট অসুস্থতা, মৃত্যু, অভিশংসন বা সংসদ কর্তৃক অপসারণের ফলে দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে সংসদ এবং বিচার বিভাগের প্রধানদের সাথে যৌথভাবে আলোচনা শেষে সর্বাচ্চ ৫০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
আর এসব কিছুই হতে হবে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুমোদনসাপেক্ষে। কারণ ইরানের যেকোনো বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
রোববার আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে ইরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সেখানেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন।
তাবরিজ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি; কিন্তু ভারি কুয়াশা থাকায় অনুসন্ধান অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে।
পূর্ব আজারবাইজানের ডেপুটি গভর্নর ফর ডেভেলপমেন্ট আলি জাকারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ‘ওই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল এবং অন্য দুটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। একটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’
নিরাপদে ফেরা হেলিকপ্টারে থাকা জ্বালানি মন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ান এবং আবাসন ও পরিবহণমন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ ছিলেন।
মন্তব্য করুন