

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আগে ছিল না। তবে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে তথ্য সংগ্রহকারী, সুপারভাইজার ও নতুন ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আগে ভোটার তালিকার তথ্য নিয়ে সমালোচনা ছিল। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি সুন্দর, স্বচ্ছ এবং বিতর্কমুক্ত ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে কমিশন এবছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি শুরু করেছে। তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সঠিক তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক ঐক্যমত্য প্রক্রিয়ার বিষয়। এছাড়াও, এটি একটি বিচারিক বিষয় হতে পারে যদি আদালতে গড়ায়। এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয় নয়। তফসিল ঘোষণার পর যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থাকবে, তখন সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল, পুলিশ সুপার সফিউল সারোয়ার, নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ মমিন ও জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিবসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনে সিইসির কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের আগে একে একে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রবেশ করেন তিন বাহিনীর প্রধানরা। প্রথমে আসেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হন।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তিন বাহিনীর প্রধানদের স্বাগত জানান। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সিইসির কক্ষে বৈঠক শুরু হয়।
এদিকে, একই দিন দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসব বৈঠকে নির্বাচনের আগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম, সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে যৌথ বাহিনীর ভূমিকা ও প্রস্তুতি, আচরণবিধি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতেই এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
মন্তব্য করুন


অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মুজিব নগর দিবস উপলক্ষ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ শীর্ষক আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সোমবার (৮ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে স্বাধীনতা একাডেমি ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ছাড়াও মোট ৮ জনকে এই পদক দেওয়া হয়।
পদক প্রাপ্তরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, প্রকৌশলী কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, প্রকৌশলী দেলোওয়ার হোসেন মজুমদার, প্রকৌশলী আবদুস সবুর।
পুরস্কার গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে ছিলেন। তিনি অনেক আগেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে গেছেন। আজ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি রূপরেখা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবনের নানান ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্তব্য করুন


গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এতে জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট, ফেরারি আসামি ভোটে অযোগ্য, মিথ্যা তথ্য দিলে এমপি পদ বাতিল এমন একগুচ্ছ নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। থাকছে ‘না’ ভোটও। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও এমপি পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়।
অনুচ্ছেদ ২ সংশোধন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী রাখা হয়েছে। এতে সেনা মোতায়েনে নির্বাচন কমিশনকে আর আগের মতো বেগ পেতে হবে না।
২০০১ ও ২০০৮ সালের ভোটে এমন বিধান ছিল।
অনুচ্ছেদ ৮ সংশোধন করে ভোটকেন্দ্র (পোলিং স্টেশন) প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জেলা নির্বাচন অফিসারের হাতে রাখা হয়েছে। আগে এ ক্ষমতা ডিসির হাতে ছিল।
অনুচ্ছেদ ৯ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার কোনো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বরখাস্ত করতে পারবেন, তবে ইসিকে অবহিত করতে হবে।
অনুচ্ছেদ ১২-তে বলা হয়েছে, কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি বা পলাতক আসামি ঘোষিত হলে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবে। তিনি আর প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা অন্য কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকলে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন।
কোনো প্রতিষ্ঠানের কাযনির্বাহী পদকে ‘লাভজনক’ পদের সংজ্ঞাভুক্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কাযনির্বাহী পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না।
হলফনামায় দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস এবং সবশেষ বছরের রিটার্ন জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ মিথ্য তথ্য দিয়ে নির্বাচিত হলে এবং তা প্রমাণিত হলে এমপি পদও বাতিল করতে পারবে ইসি।
অনুচ্ছেদ ১৩ সংশোধন করে জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১৯-এর সংশোধনীতে ‘না’ ভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি একজন থাকে, তাহলে ব্যালট পেপারে ‘না’ ভোটের বিধান থাকবে। না ভোট বেশি পড়লে পুনরায় নির্বাচন হবে। ফের একক প্রার্থী থাকলে তিনি নির্বাচিত হবেন।
অনুচ্ছেদ ২০-এর সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
অনুচ্ছেদ ২৬-এর সংশোধনীতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ২৭-এ আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং যোগ করা হয়েছে। প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী ও দেশের ভেতরে কয়েদিরা এ সুযোগ পাবেন।
অনুচ্ছেদ ৩৬-এ বলা হয়েছে, ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
এ ছাড়াও সমভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনভোট হবে। প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ভোটার প্রতি ১০ টাকা, দলের ব্যয় দেখানো, অনুদানের অর্থের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পর্যন্ত বদলিতে ইসির অনুমোদনের বিধান আনা হয়েছে। আবার মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য, গুজব ও এআই অপব্যবহার রোধে প্রার্থী ও দলের বিষয়ে অপরাধ বিবেচনা শাস্তির বিধান আনা হয়েছে।
এদিকে নিবন্ধন স্থগিত হলে প্রতীক স্থগিত, অনিয়ম হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলে ইসির হাতে ক্ষমতা, আচরণ বিধি প্রতিপালনে ইসি কর্মকর্তাদেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের দণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার বিধান আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এখন সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক ঘন ঘন হয়। ক্রয় কমিটির মিটিং করে অত্যাবশ্যকীয় জিনিস বা জরুরি বিষয় দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সরকার মোটামুটি কর্মব্যস্ত এটা তার একটা প্রমাণ। এত ঘন ঘন মিটিং আমি আগে দেখিনি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে আলুর দাম বেড়েছে, তবে অন্য কিছু পণ্যের দাম কমেছে। দাম বাড়ানোর বিষয়টি সবাই বলে, কিন্তু দাম কমানোর বিষয়ে অনেকেই কথা বলে না। বাজারের পরিস্থিতি এমন যে, এক পণ্যের দাম বাড়বে, অন্যটির দাম কমবে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, দ্রুত প্রসেস করে যে পণ্যগুলো কিনতে হবে, সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। আজকে বিভিন্ন ধরনের সার, এলএনজি, মসুর ডাল এবং সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা আরো বলেন, কিছু মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে, যা গতকাল বাণিজ্য উপদেষ্টা পরিষ্কার করেছেন। ৩০-৪০ বছরে সয়াবিন তেলের দাম এতটা বেড়েছে, যা আগে কখনো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই মুদ্রণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জেনারেল এডুকেশন ও মাদরাসার বইয়ের জন্য দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যে এসব বই মুদ্রণ করা হবে, তবে সব বই জানুয়ারির মধ্যে প্রস্তুত হবে না।
শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারি পাঠ্যবই পাবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আজ যেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর জন্য কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রেসগুলো খুব ব্যস্ত রয়েছে এবং তারা চেষ্টা করছে দ্রুত কাজ শেষ করতে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাজারে আমাদের পদক্ষেপের কিছু প্রভাব অবশ্যই পড়ছে, তবে আপনি শুধু আলুর দাম বাড়ছে বলছেন, কিন্তু অন্যান্য পণ্যের দাম সাশ্রয়ী হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে এক হাজার টাকা নিয়ে গেলে কিছু পণ্যের দাম বেশি হবে, আবার কিছু পণ্যের দাম কম হবে। সব পণ্যের দাম কমানো খুবই কঠিন।
মন্তব্য করুন


সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, যারা ভারতীয় সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেন, তাদের নিয়ম মেনে গ্রেফতার করে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি কতদিন চলবে?
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ মাঠে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উখিয়া ব্যাটালিয়নসহ (৬৪ বিজিবি) চারটি ইউনিট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সীমান্ত হত্যাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা ছিল সম্মেলনের শীর্ষ এজেন্ডায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিএসএফ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব স্থানে বিজিবির পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনের পর এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সীমান্ত রেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর পর আমরা কিছু ছবি পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, ১৫-২০ জনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বিএসএফ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত হয়।
বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, সংঘাতের সময় বিএসএফ রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে ওই যুবকের পেটে গুলি লাগে। দুর্বল স্থানে রাবার বুলেটও প্রাণঘাতী হতে পারে। আহত যুবককে বিএসএফ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করিয়েছিল, কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়ে বলেন, আমরা বলেছি, সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি আমরা এটা মেনে নেই, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ম মেনে গ্রেফতার করে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া কতদিন চলবে?
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো কারণেই হত্যা কোনো সমাধান হতে পারে না। যদি আরও কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে, আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব। এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা। বিজিবি, প্রশাসন এবং স্থানীয়রা এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারপরও কিছু ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করতে চেষ্টা করে। আমরা দুইভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাব: বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা এবং মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে। তৃতীয়ত, কেউ যেন সীমান্ত অতিক্রম না করে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী আরও বলেন, এ ঘটনায় একজন বিএসএফ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত বিএসএফ সদস্যের রক্তাক্ত অবস্থার ছবিও আমরা পেয়েছি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে যে, ঘটনাটি সত্যিই ওই স্থানে ঘটেছে কি না।
মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না জানতে চাইলে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। যদি কোনো ঝুঁকি থাকে, আমরা বিজিবি সদা প্রস্তুত রয়েছি।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতে আগামীকাল শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) থেকে মাঠে নামছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের ২ দিন পর পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯–এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য প্রতি উপজেলা/থানায় ন্যূনতম দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এজন্য আচরণবিধি প্রতিপালনার্থে প্রতি উপজেলা/থানায় ন্যূনতম দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
মন্তব্য করুন


বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুবিধা তুলে দেয়া হবে, রাখা হতে পারে অপ্রদর্শিত অর্থ হিসেবে। আজ শনিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড আয়োজিত বাজেট আলোচনায় এ কথা জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
উপদেষ্টা বলেন, এই সুযোগ (কালোটাকা সাদা করার সুযোগ) খুব একটা কাজে আসে না। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে কিনে কেউ যদি এক কোটিও দেখাতে না পারে, তাহলে এটা থাকার তো কোনো দরকার নেই। এতই যখন আলোচনা হয়েছে, তা তুলে দেয়া হোক।
এ সময় তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন একটি প্রস্তুতিহীন পরিকল্পনা। তারা এর জন্য প্রস্তুত নন। এই উত্তরণ মান-সম্মানের ইস্যু নয়, বরং বাস্তবতা।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তুতি পরিকল্পনা, আমরা কোনোমতেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত নই।’
তবে উত্তরণ পেছানোর বিপক্ষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন আমাদের হয়ে গেছে ২০২১ সালে। এখন আমরা প্রথম তিন বছরের পর দুই বছর এক ধরনের গ্রেস পিরিয়ডে আছি। এখন নতুন করে যদি তিন বা পাঁচ বছর চাওয়া হয়–এটা এক ধরনের আবদার হতে পারে।’
অর্থনীতিবিদরা বলেন, গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী প্রযুক্তির ব্যবহারে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান কমার শঙ্কা আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।
র্যাপিড চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘হেলথে যদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট বেশি হয়, এডুকেশনে যদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট বেশি করতে পারি, স্যোশাল প্রটেকশনে যদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট বেশি করতে পারি–এটা হবে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করার সবচেয়ে বড় জায়গা। এবং আগামী দিনে কৌশলে কিন্তু আমাদের সেটাই চিন্তা করতে হবে।’
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার সকাল ৯টায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
শামসুল হুদার ভগ্নিপতি আশফাক কাদেরী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টায় গুলশানের নিজ বাসা থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ মর্গে রয়েছে।’
এ টি এম শামসুল হুদা সিইসি হিসেবে ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করেন। এর আগে তিনি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পরে দেশ স্বাধীন হলে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০০ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।
চাকরি জীবনে তিনি বাগেরহাটে মহকুমা প্রশাসক (সাব ডিভিশনাল অফিসার), পানি সম্পদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (এফ-৭ বিজিআই) বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৯ জন দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন জানায়, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, 'বহু দগ্ধ রোগীর অবস্থা গুরুতর। তাদের চিকিৎসায় প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হবে। এ কারণে আশেপাশের স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'
বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও আহতদের সহযোগিতায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে পোস্ট করছেন। কেউ দোয়া করছেন, কেউ দিচ্ছেন রক্তদানের আহ্বান।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মিথ্যাচার করা হলে তা সহ্য করব না।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।
আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে লেখেন, রাজনৈতিক স্বার্থে অনেকে অনেক কিছু বলছেন। তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃত করবেন না।
উপদেষ্টা আরও লেখেন, এই প্রজন্মের রক্তের অর্জন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়ে মিথ্যাচার টলারেট করব না। সবকিছু নিয়ে চুপ থাকলেও এটা নিয়ে চুপ থাকা যায় না।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি মিথ্যাচারকারীদের প্রতি ইতিহাস দখলের নোংরা খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন