

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারও পক্ষে অন্যায় বা বেআইনিভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, নির্বাচনে আমাদের নির্দেশনা হবে সম্পূর্ণ আইনের বিধি মোতাবেক। বেআইনি নির্দেশনা, কারও পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেবো না। সঠিক কাজটি, সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেবো।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় মিলনায়তনে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, আমাদের ওপর আস্থা আছে বলেই প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলছেন- ঐতিহাসিক নির্বাচন করবো। আমরা অনুরাগ, বিরাগের বশবর্তী না হয়ে, আইন মেনে কাজ করবো।
কারাবন্দি ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভোটে আনার (ভোটাধিকার প্রয়োগের) কথা ভাবছেন জানিয়ে সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচন বিশেষ পরিস্থিতিতে হচ্ছে। তাই আমাদের বিশেষভাবে এটা মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষভাবে এটাকে ফেইস করতে হবে। যারা বিদেশে আছেন তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবো। যারা জেলখানায় আছেন, যারা সরকারি কর্মকর্তা তাদের ভোটে আনার কথা ভাবছি। এই কাজগুলো নতুন। আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ নিয়ে ফেললাম।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা যে শপথ করেছি সেটা আপনাদের কাছে ছড়িয়ে দিলাম। আমরা আমাদের শপথ রক্ষা করতে পারবো যদি আপনারা সঠিকভাবে কাজ করেন। দায়িত্ব আপনাদের কাছে দিয়ে দিলাম। আমাদের মাসুদ সাহেব (নির্বাচন কমিশনার) শপথের কথা বলেছেন, এখানে কোরআনের আয়াত আলোচনা হয়েছে। আমি অত বিস্তারিত আর যাবো না। আমরা শপথ নিয়েছি পাঁচজন। শপথ নিয়েছি, কিসের শপথ? একটা সঠিক নির্বাচনের শপথ।
সিইসি আরও বলেন, আমি কিন্তু গত বছরের ২ মার্চ পহেলা রমজানে আপনাদের শপথ করিয়েছিলাম। আপনারা কিন্তু ওয়াদা করেছিলেন যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন এবং প্রফেশনালি কাজ করবেন, আইন মেনে কাজ করবেন। আমাদের ব্রিগেডিয়ার ফজল সাহেব (নির্বাচন কমিশনরা) বলেছেন যে আমরা কোনো রকমের কোনো অন্যায় ইন্সট্রাকশন এখান থেকে দেবো না। আমরা কিন্তু বেআইনি কোনো ইন্সট্রাকশন দেবো না। আমরা কাউকে ফেভার করার জন্য ইন্সট্রাকশন দেবো না। আমরা কারও পক্ষে কাজ করার জন্য ইন্সট্রাকশন দেবো না। আমাদের ইন্সট্রাকশন হবে সম্পূর্ণ আইনের বিধি মোতাবেক। আইন মোতাবেক, সঠিক কাজটি সঠিকভাবে করার নির্দেশনা আমরা দেবো। সঠিকভাবে আপনারা কাজ করবেন এটা নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা কাজটা সঠিকভাবে করছেন এটা শুধু আপনাদের জন্য না, এটা দেশের জন্য করতে হবে।
নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য এ সময় সিইসি কর্মকর্তাদের হাত তুলে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে শপথ করতে বলেন। কর্মকর্তারা হাত তুলে সে শপথ করেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, কাজ আদায় করা ডিফিকাল্ট- এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি, যার কিছু অদৃশ্য। আমি পজিটিভ মানুষ, নেগেটিভ কিছু দেখতে চাই না।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিনা আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ বছর ও তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথক এক মামলায় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর সাত বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সাজা দেয়া হয়েছে।
দুই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের চার বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের সাজা হয়েছে। এছাড়া দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বাদে অন্যরা হলেন— সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন এবং সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.)।
পৃথক এক মামলায় ছয়জনের ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন— রাজউকের সাবেক পরিচালক কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. অলিউল্লাহ, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ে সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা। তবে কারাগারে আটক রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের দুই মামলায় এক বছর করে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দুই মামলার সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার পৃথক দুটি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে রূপন্তীসহ ১৬ জন এবং ববিসহ ১৬ জনের নামে দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে দুই মামলায় ওই বছরের ১০ মার্চ সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উদ্দিনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগ পত্র জমা দেয় দুদক।
পরে একই বছরের ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রূপন্তীসহ ১৮ জনের মামলার রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। পরবর্তীতে গত ১৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ববিসহ ১৮ জনের মামলার রায়ের জন্যও ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। এর আগে দুদকের করা আরও চারটি মামলার বিচার শেষে শেখ হাসিনার ২৬ বছর এবং পৃথক এক মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পাঁচ বছর, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর, শেখ রেহানার সাত বছর ও টিউলিপের দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ থেকে ফিরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দেশটির সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে ব্রিফ করেছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি কংগ্রেস নেতা শশী থারুর।
বিক্রম মিশ্রি কমিটিকে জানান, সোমবার ঢাকা সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় এবং যে কোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন তা ভারত সমর্থন করে না। এটি দুই দেশের সম্পর্কের একটি ক্ষুদ্র প্রতিবন্ধক।’
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, শেখ হাসিনা তার মন্তব্যের জন্য ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগ ডিভাইস’ ব্যবহার করছেন। ভারত সরকার তাকে (শেখ হাসিনা) এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ–সুবিধা দেয়নি, যা দিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন। এটি তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ না করার ঐতিহ্যগত রীতির অংশ।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগের স্বীকৃতির নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন ছিল। তবে সবশেষ খবর হলো, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এ সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনায় ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। এ খবরকে ভারত স্বাগত জানায়।
সূত্র : দ্য হিন্দু
মন্তব্য করুন


ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথে রয়েছে।
সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংবাদ লিংক শেয়ার করে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রেসসচিব বলেন, জিল্লুর রহমান নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও সরকার ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখছে। শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশন দ্রুত তফসিল ঘোষণা করবে।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। রেকর্ডসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও এবার নির্বাচনকালে সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপকভাবে মোতায়েন থাকবে। নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে, যার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আপত্তি ওঠেনি।
প্রেসসচিব জানান, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচন প্রচারণা শুরু হয়েছে। জুলাই চার্টার গৃহীত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে গণভোটের প্রস্তুতিও চলছে।
জিল্লুর রহমানের মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে নির্বাচনের সম্ভাবনা অস্বীকার করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন পূর্বের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো দলকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হলে নির্বাচন ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ হয়— এমন ধারণার সঙ্গে সরকার একমত নয়। প্রেসসচিব দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও মনে করেন ক্ষমাপ্রার্থনা ও বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না।
জিল্লুর রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও ভিডিও নিয়ে সমালোচনা করে প্রেসসচিব বলেন, এসব কনটেন্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয় এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার পায়।
সংবাদটির শেষাংশে প্রেসসচিব বলেন, “মানুষ নিজ সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে। তবে দুটি বিষয়ে আমি পরিষ্কার— আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না এবং অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করবে, ইনশাআল্লাহ।”
মন্তব্য করুন


অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক আব্দুল মালেককে পৃথক দুটি ধারায় ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৩ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত।
২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি আব্দুল মালেক দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া, তিনি তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে এক কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৮১০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখল করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে, ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও জাল টাকাসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন মালেক। তার বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত তাকে উভয় ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এদিকে, আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার ইসকনের সাবেক নেতা ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। শুনানির জন্য আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে।এ ছাড়া প্রবেশমুখগুলোতে জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে আজও বিক্ষোভ হয়েছে চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায়। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় একদল আইনজীবী আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আলিফ হত্যার বিচার চান। আইনজীবীরা আলিফ হত্যাকাণ্ড ও আদালত প্রাঙ্গণে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় চিন্ময়কে আসামি করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর চিন্ময়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভরত হাজারখানেক অনুসারীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। পরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবীকে। সম্প্রতি যিনি সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
আইনজীবী আলিফ খুন এবং আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেন তার বাবা ও ভাই। বাবার করা হত্যা মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হলেও ভাইয়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয় ১১৬ জনকে। সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী শুভাশিস শর্মাও ৩৩ নম্বর আসামি।
এ ছাড়া তার অনুসারী আরও ৫০ জনের অধিক আইনজীবীকে আসামি করা হয়েছে। মোট পাঁচটি মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৩৯ জন। এর মধ্যে গতকাল সোমবার আইনজীবী সাইফুল হত্যায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আয়নাঘর সারা বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যমান। এর সঠিক সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
জানা গেছে, এর আগে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেল এবং র্যাব-২ এর সিপিসি-৩ এর ভেতরের সেলগুলো পরিদর্শন করেছেন। এরপর তারা র্যাব সদর দপ্তরের টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স সেন্টারে যান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এ ধরনের ইন্টারোগেশন সেল, টর্চার সেল সারা বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে; আজকে সেগুলো সম্পর্কে শুনলাম। আগে আমার ধারণা ছিল যে, এখানে আয়নাঘর বলতে কয়েকটি স্থানকেই বোঝায়। কিন্তু এখন জানলাম, আয়নাঘরের মতো স্থান সারা দেশজুড়ে বিদ্যমান। কেউ বলছে ৭০০, কেউ বলছে ৮০০। সঠিক সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা যায়নি। কতটা জানা আছে, কতটা অজানা রয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যা ঘটেছে তা নৃশংস। প্রতিটি ঘটনা শুনে অবিশ্বাস্য মনে হয়। এটা কি আমাদেরই জগত, আমাদেরই সমাজ? আমরা কি এটা করলাম? যারা নিগৃহীত হয়েছে, যারা এটার শিকার হয়েছে তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের মুখ থেকে শুনলাম- এটা কীভাবে হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত বলে একটা কথা আছে। গত সরকার সর্বক্ষেত্রে আইয়ামে জাহেলিয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে। এটা (আয়নাঘর) এর একটি নমুনা।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আয়নাঘর পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ‘বিশেষ’ স্থানে রাখা হতো। এ নিয়ে সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এসব স্থান ‘আয়নাঘর’ নামে প্রকাশ্যে আসে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে আয়নাঘরের ভয়াবহতা।
১৯ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। সে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে গুমের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়। গুম করে বন্দিদের যেখানে রাখা হতো তা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা আয়নাঘর নামে পরিচিত। কমিশনের সদস্যদের আহ্বানেই সেসব স্থাপনা পরিদর্শনে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনকালে ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০৫ জনকে গোপনে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অন্য আরেকটি তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৪৪ ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৪০ জনকে। আর ৬৬ জনকে সরকারি হেফাজতে গ্রেপ্তার অবস্থায় পাওয়া গেছে।
যেসব ব্যক্তি দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে এসেছেন, তারা গুমের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেছেন। ধারণা করা হয়, এসব মানুষদের গুম করে রাখা হয় আয়নাঘরে। অভিযোগ রয়েছে, আয়নাঘরেই বন্দি ছিলেন- অধ্যাপক মোবাশার হাসন, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, মাইকেল চাকমা ও মীর আহমদ বিন কাসেমসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন


তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, মামলাটি বিদ্বেষ্পূর্ণ, রায়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে বিচারিক আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতকে বলেন, শেখ হাসিনাকে খুশি করতেই ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ৯ জনকে ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এরা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। মামলা চলাকালীন পাঁচ আসামি মারা গেছেন। ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন তিনি। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।
মন্তব্য করুন


ইসলামী শরিয়াবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ইসলামবিরোধী কেউ কোনো কথা না বলাসহ ১০ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে পল্টনস্থ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।
যেসব বিষয়ে দুই দল একমত হয়েছে-
১. আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ-মুক্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম টেকসই রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
২. দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও টাকা পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৩. ভোটাধিকারসহ সকল মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
৪. নূন্যতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
৫. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সকল অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করে নিয়ে আসা।
৬. আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
৭. ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে কথা বলবে না।
৮. আগামীতে যাতে আওয়ামী লীগের মতো আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
৯. ইসলামী শরিয়াবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না এবং ইসলামবিরোধী কোনো কথা কেউ বলবে না।
১০. প্রশাসনে এখনো বিদ্যমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ার বরকতউল্লাহ বুলু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম কোমারসেন্ট জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের ব্রায়ান্সকে রুশ সেনাদের একটি সুখোই এসইউ-৩৪, একটি এসইউ-৩৫ এবং দু’টি এমআই-৮ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন।
যদি এ প্রতিবেদনটি সঠিক হয় তাহলে এটি কিয়েভের জন্য বিশাল সামরিক সাফল্য হবে বলে রোববার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
শনিবার (১৩ মে) কোমারসেন্ট ওই প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, হামলার প্রস্তুতি নেওয়া রুশ এ যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো একইসঙ্গে ভূপাতিত করা হয়। যেখানে এ আকাশযানগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে সেটি ইউক্রেনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী… যুদ্ধবিমানগুলো ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ও বোমা হামলা চালানোর জন্য যাচ্ছিল। অপরদিকে হেলিকপ্টারগুলোর এ হামলার সহায়ক হিসেবে পাশে পাশে যাচ্ছিল।’
কোমারসেন্ট এ প্রতিবেদনের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। তবে এ সংবাদমাধ্যমটিতে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সামরিক ব্লগাররাও সেই একই কথা বলেছেন।
সামরিক আকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইউক্রেনও মুখ চেপে বসে আছে। দেশটি সাধারণত রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতর চালানো কোনো হামলা নিয়ে কিছু বলে না।
তবে ইউক্রেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা এবং আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন একসঙ্গে চারটি এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইল পোদোলায়েক অবশ্য এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার বিমানগুলো ইউক্রেনের চেরনিহিভে ক্ষেপণাস্ত্র-বোমা হামলা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এগুলো ধ্বংস হয়েছে। এটি তাৎক্ষণিক বিচার।’
রাশিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা টাস নিউজ শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্রায়ান্সকে একটি এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু এর বেশি আর কিছু জানায়নি টাস।
মন্তব্য করুন


বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। কোথাও বিচ্যুতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
তফসিলের আগে নিয়োগ দেওয়া ডিসিদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এই প্রশাসন নিয়ে আপনি কি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমি তো এখনো আশাবাদী, করা যাবে, ইনশাআল্লাহ্।’
তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা তো সবাই নিয়ে আসে না। অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়। অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তারা সঠিক পথে চলবেন, চলতে পারবেন—এটি যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তাদের মনোভাব যদি সঠিক থাকে, তাহলে তারা সফল হবেন, ১০০ ভাগ সফল হবেন, ইনশাআল্লাহ্।’
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তাহলে সেভাবে ব্যবস্থা নেবো। ঢালাওভাবে তো কিছু নয়। আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তারা (মাঠ প্রশাসন) প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় অবশ্যই সেটা তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করবো।
মন্তব্য করুন