

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। ইচ্ছে করলে যেকোনো সময় তিনি দেশে ফিরতে পারেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে গাজীপুরের সালনা হাইওয়ে থানা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারত থেকে যাদের পুশ ইন করা হচ্ছে; তারা প্রোপার চ্যানেলে আসছে না।
অমানবিকভাবে তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ভারতের হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে।’
যাদের পুশ-ইন করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এয়ারপোর্ট, ল্যান্ডপোর্টে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বলা হয়েছে।
তবে সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, নিজেদের সচেতনতা। এখন সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং সচেতনভাবে চলাফেরা করতে হবে।’
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাইলে অনুমতি দেয়া হবে। যারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন তাদের অস্ত্রও ফেরত দেয়া হবে।
শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ওসমান হাদিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তাতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। হাদির ওপর হামলা আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস। এ ধরনের চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
এ সময় হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেও জানান জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুইজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্রপচার শেষে হাদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণ এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য আশা করে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত শেষ করে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।
বুধবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য অস্পষ্ট ছিল এবং তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন, যা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ২০২৬ সালের জুনের কথা বলেছেন, যা পরস্পরবিরোধী এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
মন্তব্য করুন


তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, মামলাটি বিদ্বেষ্পূর্ণ, রায়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে বিচারিক আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতকে বলেন, শেখ হাসিনাকে খুশি করতেই ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ৯ জনকে ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এরা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। মামলা চলাকালীন পাঁচ আসামি মারা গেছেন। ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন তিনি। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সোমবার রাত কিংবা মঙ্গলবার সকালের মধ্যে এই বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
রোববার (৫ জানুয়ারি) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে কাতারের আমির রাজকীয় বহরের বিশেষ এই বিমান পাঠিয়েছেন। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।
লন্ডন যাত্রার আগে রোববার রাত ৯টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, “বেগম খালেদা জিয়া তার চিকিৎসার জন্য আগামী মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেই কারণেই আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।”
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। লন্ডনে পৌঁছানোর পর তিনি কিছুদিন তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থাকবেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কেয়ার ইউনিটে যাবেন। সেখানেই তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার যাবতীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মেডিকেল রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর, জন হপকিন্স হাসপাতালের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার লিভার এবং পেটের ফ্লুইড জমা ও রক্তক্ষরণ রোধে বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি ট্রান্সজুগুলার ইনট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (TIPSS) সম্পন্ন করেছিলেন।
এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলই যুক্তরাষ্ট্রে তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
মন্তব্য করুন


আমরা নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর সিইসি’র কাছে একজন সংবাদিক জানতে চান-‘আমরা কি স্যার তাহলে নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি? এর প্রত্যুত্তরে সিইসি বলেন, হ্যা, ট্রেনে উঠে গেছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি জানান, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। সেজন্য উনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’
তিনি জানান, ‘উনারা ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি (নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি) ডেপ্লয় করবেন। আমাদের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে উনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
প্রধান বিচারপতি আশ্বাস দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’
এর আগে, দুপুর দেড়টার দিকে সিইসিকে সুপ্রিম কোর্টে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে সিইসি’র ভাষণ চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) অথবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও মানবাধিকারকর্মী চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি. আর. আবরার)। বুধবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টা ৬ মিনিটে রাজধানীর রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও কার্যালয় বঙ্গভবনে তাকে উপদেষ্টা হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১১টায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত এই উপদেষ্টা শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এতদিন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের পর তিনি শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন। নতুন একজন উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়াল ২৩ জন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই দিনই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। এরপর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই সময় ১৬ জন উপদেষ্টা নিয়োগ পান। তবে ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকায় তিনজন উপদেষ্টা ওই দিন শপথ নিতে পারেননি। তারা পরে শপথ নেন। এরপর আরও চারজন উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হন। সর্বশেষ ১০ নভেম্বর তিনজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিমান ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ মারা যান। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেন। এরপর সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ জন।
মন্তব্য করুন


প্রতিদিন জনস্বার্থে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অন্যের কল্যাণে কাজ করার প্রবণতা রয়েছে। সেই ইচ্ছাকে জাগ্রত করতে হবে। নিজের জন্য কাজ করার চেয়ে অন্যের কল্যাণে কাজ করায় বেশি আনন্দ পাওয়া যায়।
জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ওয়াকাথন ও সমাজসেবা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, সরকারের চেয়ে ব্যক্তির ক্ষমতা বেশি, আর ব্যক্তির আত্মশক্তি জাগ্রত হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, জনস্বার্থে ব্যবসা করা উচিত এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অন্যের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সমাজসেবা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সবাইকে এই দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া। যেন কেউ এই দায়িত্ব ভুলে না যায় বা এড়িয়ে না চলে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্যই হলো সমাজের সবাইকে তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই জনস্বার্থে কাজ করার প্রবণতা লুকিয়ে থাকে। সেই ইচ্ছাকে জাগিয়ে তুলতে হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের উন্নয়নে এটাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
মন্তব্য করুন


নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাবেক স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের শপথ পড়ানোর সুযোগ নেই। তাই প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি থেকে কর্তৃক কোনো মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ পড়াবেন। না হলে নির্বাচনের ৩ দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা আসলে ওয়েট করতে চাই না। নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ছয়জন অদম্য নারীকে বিশেষ সম্মাননা তুলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (০৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা তুলে দেন।
সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যেসব নারী এই সম্মাননা পেয়েছেন, তারা হলেন— অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য শরিফা সুলতানা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য হালিমা বেগম, সফল জননী হিসেবে মেরিনা বেসরা, জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে লিপি বেগম, সমাজ উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য মো. মুহিন (মোহনা) এবং বিশেষ সম্মাননা হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।
এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে তাদের অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ এ ধরনের সম্মাননা ভবিষ্যতেও চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


আগামী জানুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব নির্বাচনী উপকরণ ক্রয় ও মাঠ পর্যায়ে বিতরণ সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে এমন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তার দুই মাস আগে ঘোষণা হবে সংসদ নির্বাচনের তফসিল। আর নির্বাচনের সেই কর্মপরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করে একটি সময়সীমা করেছে নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মধ্যে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হবে। পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চলতি বছরের ২২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করে ১৫ নভেম্বর নিবন্ধন সনদ দেওয়া দেওয়া হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদানে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হবে একই সময়ের মধ্যে।
নির্বাচনী তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টিঅ্যান্ডটি, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে সভা আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে আগামীকাল থেকে শুরু হবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, যা শেষ হবে ভোটের কয়েকদিন আগে। নির্বাচনী ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা, পোস্টার ইত্যাদি মুদ্রণ ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যে, নির্বাচনের সকল প্রকার মালামাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ব্যবহার উপযোগী স্বচ্ছ ব্যালট চূড়ান্ত করা হবে ৩০ নভেম্বর মধ্যে, ১৫ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাজেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য বৈঠক ১৬ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। আবার নির্বাচনের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ৩১ অক্টোবর হবে। একই সময়ের মধ্যে ৩১ আইসিটি সংক্রান্ত সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে।
রোডম্যাপে মোট ২৪ ধরনের কার্যাবলি ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এক-এগার সরকারের সময়কার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রথমবারের মতো রোডম্যাপ ঘোষণা করে। এরপর প্রতিটি কমিশন সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে আসছে।
মন্তব্য করুন