

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি উপদেষ্টা হওয়ার আগ থেকেই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ক্যান্সার চিকিৎসা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। এটি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু তিনি উপদেষ্টা হওয়ার আগ থেকেই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ক্যান্সার চিকিৎসা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। এটি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সংকটের কারণে কারো দায়িত্ব পালনে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। বরং আমরা এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে কাউকে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে না হয়।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ অবস্থার পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের সহযোগিতায় দেশে আধুনিক ও উন্নত মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জটিল রোগের চিকিৎসা দেশেই নিশ্চিত করবে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গত ১৫ বছর সরকারের অনুদান ছিল দুই কোটি টাকা, সরকার সেখান থেকে বাড়িয়ে এখন পাঁচ কোটি টাকা করেছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রমনা কালীমন্দির পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার চার কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল। এবার এক কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর সরকারের অনুদান ছিল দুই কোটি টাকা, সরকার সেখান থেকে বাড়িয়ে এখন পাঁচ কোটি টাকা করেছে।’ এর পরও কোনো প্রয়োজন থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে তা মেটানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার পূজা গতবারের চেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। এ পূজায় শুধু হিন্দুধর্মাবলম্বীরা আসেন না, সব ধর্মের লোকজন আসে। পূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের সহায়তায় যেকোনো অঘটন বা ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিক সরকারের কাছে চলে আসবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি আশা করব, এবার পূজাটা খুব উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নির্বিঘ্নে উদ্যাপিত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। কোনো হামলার আশঙ্কা নেই। তবুও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে। গুজবে কান দেবেন না।
তিনি আরো বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে একটি গোষ্ঠী নানাভাবে সনাতন ধর্মের মানুষকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা অপপ্রচার চালিয়েছে; ৫ লাখ হিন্দুধর্মালম্বী মানুষ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে এবং কান্তজীর মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।’ পূজায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি উদ্যাপন কমিটির প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দুটি সম্ভাব্য সময়সীমা রয়েছে—একটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং অন্যটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে জনগণের চাওয়া সংস্কারের মাত্রার ওপর।
শনিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য রূপা হকের সঙ্গে আলোচনার সময় ড. ইউনূস এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও আগাম সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়ে কথা হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। গত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেই সময় ভুয়া সংসদ, ভুয়া এমপি এবং ভুয়া স্পিকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণ তাদের কণ্ঠ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কণ্ঠস্বর জোরপূর্বক দমন করা হয়েছিল। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে।”
ব্রিটিশ এমপি রূপা হক বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে আমি খুবই উৎসাহিত।”
রূপা হক আলোচনায় উল্লেখ করেন, কেন গত জুলাই মাসে জনগণের বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের ঘটনাগুলোও উঠে আসে। তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ।”
আলোচনার শেষে রূপা হক বলেন, “আমি আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আবারও আসতে আগ্রহী।” সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে সৌদি আরবের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধা দিবস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “মালয়েশিয়ায় গত বছর বিমানের টিকিট এবং ভিসা থাকা সত্ত্বেও যেতে না পারা কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসংক্রান্ত বৈঠক করে যখন ঢাকায় এসে বললাম যে তাদের মালয়েশিয়া নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে, তখন তীব্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।
আমাকে ফেসবুকে গালাগাল করছে–‘বর্তমানে যারা অবৈধ হয়ে আছে তাদের বৈধ করার খবর নেই, আবার নতুন করে লোক পাঠাচ্ছে।’ গালাগালের কোনো শেষ নাই। যেটা আপনাদের এত বড় দাবি সেটা করার পরও গালি খাই।”
এ সময় তিনি বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি আশা করি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে শুনবেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে চুক্তি হচ্ছে।
এই চুক্তির চেষ্টা বিগত সরকারের আমলে অনেকবার করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু হয়নি। ভারত কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তি নেই, বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। চুক্তি হলে সৌদি আরবে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা রিইন্টিগ্রেশনে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ করেছি মন্ত্রণালয়ে যাতে আপনাদের ভোগান্তি ও হয়রানি কম হয়। সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশন করেছি, আপনারা নতুন করে বিদেশে গেলে এই সুবিধা বুঝতে পারবেন।’
প্রবাসীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রবাসী ভাই-বোনরা যারা ফিরে এসেছেন, আপনারা হয়তো আবার যাবেন। কয়েকটা কথা আপনাদের বলি অন্যভাবে নিয়েন না। আপনারা বাইরে যাওয়ার আগে নিজেরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নেবেন।
আপনাদের কি কোনো প্রতারক পাঠাচ্ছে, এটা একটু ভালো করে খোঁজখবর নেবেন। বিদেশ যেতে এত মরিয়া হয়ে যাবেন না যে খোঁজখবর নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিদেশ মানেই বেহেশত মনে করবেন না। এই সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবাসীদের জীবনযাত্রা দেখেছি, সৌদি আরবে আমি এমন অবস্থা দেখেছি, বাংলাদেশের খারাপ বস্তিতেও মানুষ এর চেয়ে ভালো থাকে। এত খারাপ জীবন আট থেকে ৯ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার পরও। কাজেই ভালোমতো খোঁজখবর নিয়ে যান। আপনার কাছে যদি ১০ লাখ টাকা থাকে বিদেশ যাওয়ার জন্য, এই টাকা দিয়ে অনেক ব্যবসা দেশে করা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ দেশে ১৮ কোটি মানুষ, কত ভোক্তা! ছোট্ট একটা দোকান দিয়ে বসলে কত লাভ হয়। আমি আপনাদের নিরুৎসাহিত করছি না, মরিয়া হয়ে বিদেশ যাবেন না।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমরা সবসময় ফিলিস্তিনের জনগণকে সমর্থন করে আসছি। কাজেই চার দেশের স্বীকৃতিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি এটা একটা সুখবর। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল থেকে স্বীকৃতি মিলল। এই স্বীকৃতি চূড়ান্ত স্বাধীনতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি পদক্ষেপ। তবে ফিলিস্তিনের জনগণকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
স্থানীয় সময় রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলে তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের আরেক প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশ ফ্রান্স শিগগিরই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে। এটি হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটিরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির আহমেদ রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ফলে ভারত শোকাহত হয়েছে। ভারত শেখ হাসিনার জন্য খুব কষ্ট পেয়েছে এবং তারা যড়ষন্ত্র করছে যাতে শেখ হাসিনাকে আবার দেশে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসানো যায়।
রবিবার বিকেলে লালমনিরহাটের বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জেল-জুলুম সহ্য করে দেশে ছিলেন এবং এখনো আছেন, কিন্তু শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের রেখে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এটিই হলো শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার মধ্যে পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় মিডিয়া স্বাধীন দেশের বিষয়ে অপ্রচার চালাচ্ছে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার জন্য। ভারতকে আমি বলব— যদি শেখ হাসিনার জন্য এত মায়া থাকে, তাহলে ভারতে তার জন্য আরেকটি তাজমহল তৈরি করুন।
তিনি বলেন, ভারতীয় যড়ষন্ত্রের কারণে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন মেয়রের বাড়ি থেকে ভাত আনতে রাষ্ট্রের মাসে ২৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে—এটা কী ভাবা যায়? এর মাধ্যমে দুর্নীতির পরিমাণ বোঝা যায়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে জনগণের গণতন্ত্র হরণ করে নিজেদের লোকজনকে লুটপাটের সুযোগ দিয়েছে। পুলিশের একজন আইজি হাজার কোটি টাকার মালিক, এবং একজন মন্ত্রীর দেশের বাইরে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছেন, বিরোধী মতের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। তিনি নিজের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করেছেন এবং ব্যাংক লুট করেছেন। শেখ হাসিনা রক্তপিপাসু, এখন ভারতে পলাতক থেকেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তাই ফ্যাসিবাদ যাতে পুনরায় ক্ষমতায় না আসে, সে জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তাহলেই ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক একেএম মমিনুল হক বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের পৃথক ছয়টি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ৭ সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম ও সুলতান মাহমুদ।
আগামী ১১ ও ১৩ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের ঠিক করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যরা হলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি)।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তরিকুল ইসলাম জানান, পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের পৃথক ছয়টি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ৭ সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়। শুনানি নিয়ে আদালত শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত।
এর আগে গত ২০ জুলাই পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ৭ সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি এই আদালতে বদলি হয়।
দুদকের পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, সম্প্রতি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের ছয়টি মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
পরে মামলাগুলো বিচারের জন্য অন্য আদালতে বদলির আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিন মামলায় গত এপ্রিলে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। তিনটি মামলায় তাদের ছাড়াও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ ১৬ জন অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করে দুদক।
পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকায় অথবা প্রতিবেশী কোনো দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ করেছেন।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে ১৫ জন প্রতিনিধি তাদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে শ্রম অধিকার, বাণিজ্য সুবিধা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে উভয়ের অঙ্গীকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে গোটা মাসজুড়ে আমরা বিজয় উদযাপন করি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সঙ্গে এমন একটি ইন্টার্যাক্টিভ আলোচনায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। ’
বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি গত ১৬ বছর ধরে অত্যাচার, শোষণ, বলপূর্বক গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্পর্কে সংক্ষেপে কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের বিষয় উল্লেখ করে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে কীভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল সেসব কথা জানান।
বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্যাপক আকারে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমরা এই মিসইনফরমেশন ঠেকাতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি জোরালো হয়েছে। এই দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
শুক্রবার (৯ মে) সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ব্যাপারে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনও সরকার বিবেচনায় রাখছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে সকলকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জনদাবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইতোমধ্যে প্রচলিত আইনের আওতায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনের ঘটনায় জনমনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়েও সরকার অবগত রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার।
মন্তব্য করুন


অন্যায়ভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো এবং ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, যারা অকারণে পণ্যের দাম বাড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
ফরিদা আখতার বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাজারে তদারকি জোরদার করতে হবে। এবারের রমজান মাস যাতে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যেসব স্থানে সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সেসব স্থানকে প্রাধান্য দিয়ে পণ্য বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
এছাড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সারাবছর ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানান ফরিদা আখতার।
মন্তব্য করুন


‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশিত হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘোষণা পত্র প্রকাশ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এটা একটি প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ। আমরা এটিকে প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ হিসেবে দেখছি। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ঘোষণা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের কাছে স্পষ্টভাবে কিছু বলা আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়।’
সচিবালয় ইস্যুতে আজাদ মজুমদার বলেন, ‘এই মুহূর্তে সচিবালয় একটি ক্রাইম সিন। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগুনের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত চালানোর জন্য আমরা সবার কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা মনে করি সাংবাদিকরা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। এটি একেবারেই তদন্তের প্রয়োজনে। ক্রাইমের যে লক্ষণগুলো সন্দেহ করা হচ্ছে সেগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য, বেশি মানুষ প্রবেশ করলে আলামত নষ্ট হতে পারে, এজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বার্থে এই তদন্ত সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।’
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ, সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন