

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের নিজেদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য পোষণ করতে পারিনি। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সে অনুযায়ী কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা জাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ : সফল নির্বাচন আয়োজনে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ নামের একটি সংগঠন। এতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখনো সময় আছে আশা করি, এর ভেতরে সবাই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং মুক্ত গণমাধ্যম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রক্ষাকবচ।
এগুলো নিশ্চিত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আগামীতে আর কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না। যে সংস্কারগুলো আশু বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় তা করা হচ্ছে। যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সরকার যদি সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না করতে পারে, তাহলে পরবর্তী সরকার সেটা করবে।’
সংবিধান সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করার বৈধ ফোরাম হলো জাতীয় সংসদ।
এর বাইরে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া আছে কি না, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছে। যদি থাকে তাহলে তারা একমত হবেন। কিন্তু এমন কোনো উদাহরণ সৃষ্টি চাই না যেটি পরবর্তী সময়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে। প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হবে।’
একই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে, ডাকসু নির্বাচন তার একটি বড় টেস্ট ছিল।
এই টেস্টে রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে উত্তরণ করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি ঘটনাও ডাকসু নির্বাচনে ঘটেনি।’
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই সরকারের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। তবে ভালো নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর জনগণ যদি ভোট দিতে যায়, তাহলে কারো সাধ্য নেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী পরিবেশ, পর্যবেক্ষণ সমন্বয় কমিটি গঠন করা উচিত। দেশের কোথাও কোনো দলের সঙ্গে অন্য দলের সংঘাত হলে, অগণতান্ত্রিক আচরণ হলে, সেই প্রশ্নগুলো এখন থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং হওয়া দরকার। আসন্ন নির্বাচনে যে দল সরকার গঠন করবে, সেই দলের সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়ার মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কাজ করলে হবে না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটালিস্ট হিসেবে বিবেচনা করছি। যেটা নিয়ে নাগরিক পরিষদে এবং সিভিল সোসাইটিতে যারা নীতি নির্ধারন করছেন তাদের এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা পুলিশ সংস্কার কমিশন করার কথা বলেছিলাম, যাতে করে তাদের পোস্টিং-প্রমোশনের ক্ষেত্রে একটা স্বতন্ত্র বোর্ড কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রি-ইলেকশন চ্যালেঞ্জের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোল অব এজেন্সি এবং আর্মি। এটা কিন্তু এখন পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এখনো দেখছি যে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি বিগত সময় যেভাবে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে, এখনো পর্যন্ত করছে। আমরা এটাকে কতটা ডিসঅ্যাসোসিয়েট করতে পারি, এটা আমাদের জন্য কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ইলেকশনের জন্য স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ মনে করেন যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায় না। কিন্তু অত্যন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল বলতে হবে, যারা ৩০০ আসনের নির্বাচনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে কাজ শুরু করছে। নির্বাচন কমিশনের যে দায় দায়িত্বের প্রশ্ন আসে সেগুলো আমাদের সামনে রাখা দরকার। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা এখন যেটা বুঝি, সেটা হলো আপনি যদি প্রভাব থাকে ক্ষমতা থাকে তাহলে থাকবেন। আর না হলে আপনি থাকবেন না। হলে আপনি ভোট দিতে যেতে পারবেন না হলে আপনার ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে। না হলে আপনি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। আমরা মনে করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশ্নে আমাদের আরো অনেক ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। সেই জায়গাটায় আমাদের নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অহেতুক প্রলাপে প্রতীয়মান হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ সুকৌশলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে অনিরাপদ করে তুলতে চায়। অবিলম্বে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশে-বিদেশে তার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেশের জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনি এমন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বানিয়েছেন দেশের জন্য যার কোনো দৃশ্যমান অবদান নেই। তিনি তো বাংলাদেশের জন্য নন, বিদেশের জন্য কাজ করবেন।
গত বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, খলিলুর রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গটি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক। ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গাওয়ার মতো ড. খলিলুর রহমান বলেন, কেবল আমি আমেরিকায় থেকেছি বলে আমাকে যদি বলা হয় আপনি বিদেশি নাগরিক, তাহলে কাল তারেক রহমান সাহেবকেও সে কথা বলতে হবে। আমাকে ঢিল নিক্ষেপ করলে সেই ঢিল কিন্তু অন্যের ওপর গিয়েও পড়তে পারে।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এহেন বক্তব্য নিঃসন্দেহে আত্মগরিমার প্রদর্শন এবং দুরভিসন্ধিমূলক। খলিলুর রহমান তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বিনষ্ট, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত এবং মানুষের মাঝে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার হীন উদ্দেশ্য নিয়েই এই বক্তব্য রেখেছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক বিভ্রান্তিকর।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণসংবর্ধনার আয়োজন করেন গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে- গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম, জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম লিটু, সাধারণ সম্পাদক শাহ-আলম, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিপি নুর বলেন, অনেকে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন- আমি ঢাকা থেকে নির্বাচন করব; কিন্তু মা-মাটিকে তো ভুলে যাওয়া যায় না। এই চরের কাদামাটি, এই নদীর পানি গায়ে মেখে বড় হয়েছি, এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাই কী করে। আপনারা যদি সমর্থন করেন তাহলে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) থেকেই নির্বাচন করব।
তিনি বলেন, এক বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে। এই সরকারকে রাষ্ট্র ঠিক করতে বেগ পেতে হচ্ছে। হয়ত আগামী ২-১ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা না করে সংহতি এবং সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পুরনো দল পুরনো নেতৃত্ব দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব না। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন রাজনীতি, নতুন নেতৃত্ব দরকার। গণঅধিকার পরিষদের যে গণজোয়ার উঠেছে, আমরা এ রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার চাই।
ভিপি নুর বলেন, একক কোনো দল যেন সরকার গঠন করে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি না করতে পারে তাই দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন, সংসদের মেয়াদ চার বছর করার দাবি করেছি। সব দলের যেন সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকে এ প্রস্তাবে অধিকাংশ দল একমত হয়েছে। কোনো অপরাজনীতি নতুন বাংলাদেশে চলবে না।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। এজন্য দলের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচনী রোডম্যাপ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে, তা পরিষ্কারের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে রোডম্যাপ চাইবে বিএনপি। দল মনে করে জুনের আগে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
বিএনপির এই নেতা জানায়, সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে কিছু বিষয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে, পঞ্চাদশ সংশোধনীর পূর্ববস্থা বহাল চায় বিএনপি। ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা দেওয়া হয়নি, এটা নিয়ে ভুল ব্যখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে প্রধান উপদেষ্টার যে আলোচনা হয়েছে তা জনগণের দাবি। এটাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিম্নমানের জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ নামের শিক্ষাবিষয়ক ম্যাগাজিনের আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু অতি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষা রাখা উচিত আর সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগের জন্য ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ট্রেনিং ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বিএ বা এমএ পাস করার পর ছাত্রছাত্রীরা কাজ পান না, কারণ, এই ডিগ্রিগুলো চাকরি দিতে পারে না। কিন্তু যদি কেউ বিএসসি পাস করতেন বা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা নিতে পারতেন, তবে তার চাকরি কেউ আটকাতে পারত না। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা, ইনস্টিটিউট বা ভোকেশনাল সেন্টারগুলোর অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরাই একটি দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। একজন রাজনৈতিক নেতা যেমন জাতিকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যান বা পথ তৈরি করেন, আবার কেউ নিচে নিয়ে যান বা পথ নষ্ট করেন। দেখার বিষয় কে জ্ঞানে গরিমায় রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করতে চায় আর কে কেবল নিজের স্বার্থে রাজনীতিকে ব্যবহার করতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে দেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের বিভাজনে সেটি নষ্ট হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


এক চেতনার বদলে আরেক চেতনার উদ্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ কেন? তাহলে কি নতুন করে শেখ হাসিনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে?
আজ শনিবার প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জুলাই আন্দোলনে আবাবিল পাখির মতো বাচ্চারা রাস্তায় নেমে আসে। আমরা মুক্তি পেলাম। গণতন্ত্র মুক্তি পেল। তবে অভ্যুত্থান পরবর্তী তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমালোচনা করেন তিনি।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, একটি সংগঠনের লোক সব জায়গায় বসে থাকে। শেখ হাসিনার আত্মারা আবার নতুন করে দেশের ওপর ভর করেছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমাদের এই দেশটি বহু যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এমন একটি দেশ পৃথিবীতে খুব কমই রয়েছে। তবে, যারা গত ১৫ বছর ধরে এই দেশ শাসন করেছেন, তারা এই দেশকে নিজেদের ইচ্ছেমতো সাজাতে পারেননি।"
তিনি আরো বলেন, "তারা দেশের জন্য কিছু করেনি, বরং নিজেদের সাজানোর কাজ করেছে। দেশের মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার পরিবর্তে, তারা জনগণের রিজিক ছিনিয়ে নিয়েছে। লাখ লাখ বেকারের মিছিলে জনগণ পিষ্ট হয়ে গেছে। এই সর্বনাশের জন্য বিগত সরকার দায়ী।"
তিনি বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল মোড়ে জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের হাতে কলমের পরিবর্তে গুন্ডাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষের খাটুনির টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন অনেকে প্রশ্ন করছে, আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে আসবে? আমি বলি, যারা গণহত্যা করেছে, যারা দেশের মানুষের কেনা অস্ত্র দিয়ে তাদের বুকে গুলি করেছে, তারা কি এই দেশের রাজনীতি করার অধিকার রাখে? স্বৈরাচারী শাসক পালিয়ে গেলেও শান্তি দিতে চায় না। তারা সমাজ এবং দেশকে অস্থির করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এই দেশকে ভালোবাসি এবং এটি গড়ে তুলতে চাই। আমরা এমন একটি সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে দুর্নীতিবাজ ও দখলদারদের স্থান থাকবে না। এমন সমাজ চাই যেখানে আমাদের মা-বোনেরা সম্মানের সাথে ঘর ও বাইরে চলতে পারবে।"
জামায়াতের আমির বলেন, "আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে যুবকরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। আমরা এই সমাজ গড়তে হাত মিলিয়ে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য মানুষকে আদালতের দরজায় কাঁদতে হবে না। বরং আদালত তাদের দায়িত্ব নিয়ে ন্যায়বিচার প্রদান করবে।"
তিনি আরও বলেন, "এ জন্য আপনাদের বৃহত্তর কোরবানির জন্য, জিহাদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মানুষের মুক্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত, সাম্যের ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি দেশ এবং জাতি গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।" তিনি ন্যায়সঙ্গত কাজে সকলকে পাশে থাকার এবং সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "আপনারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করেছেন, যেখানে অনেকের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করলে, জনগণ তো কথা বলবেই। কেন এতো জটিলতার সৃষ্টি করছেন?" সোমবার ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, "আলী ইমাম মজুমদারের মতো ১/১১-র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আজও সরকারে ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উপদেষ্টা বানানো হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলা হয় না। শেখ হাসিনার সহচরদের যারা নিঃশব্দে তাঁর স্বার্থে কাজ করে গেছেন, তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।"
বিএনপি মুখপাত্র আরও বলেন, "রাষ্ট্রপতি থাকবেন কি থাকবেন না, তা নিয়ে কেন আমরা দেশে জটিলতা সৃষ্টি করছি? আমাদের দায়িত্ব হলো শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় করা এবং তার সহযোগীদের বিচার করা।"
রিজভী বলেন, "গণতন্ত্রের পথে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবদান ইতিহাসে লেখা থাকবে। তবে সংবিধান বহির্ভূত কিছু যেন না হয়, এ জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
তিনি শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে বলেন, "এ ভদ্রমহিলাকে যেন জন্মের পর করলার রস খাওয়ানো হয়েছিল, কারণ তিনি সবসময় উগ্রভাবে প্রতিরোধের কথা বলেন। তার অডিও ফাঁস হওয়ায় দেখা গেছে, তিনি তার অনুসারীদের রক্তপাতের নির্দেশ দিচ্ছেন, যা ভয়ংকর।"
এসময় বিএনপি’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যেমন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহযুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে যেন আর কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তবে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য নষ্ট হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাহী বিভাগকে শক্তিশালী হতে হবে, দুর্বল নয়।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার সংলাপের ২০তম দিনে আজ সোমবার (২৮ জুলাই) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ থেকে কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করার পর আবার আলোচনায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরাই প্রস্তাব করেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে এবং পরবর্তী সংসদ এখানে কোনো সংশোধনী আনলে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটে যেতে হবে। এটি গৃহীত হওয়া মানে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।
তিনি আরো বলেন, নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা যেমন সংসদের কাছে, তেমনি জনগণের কাছেও রয়েছে।
কিন্তু যদি কর্তৃত্ব না থাকে, কেবল দায়িত্ব আর জবাবদিহিতা থাকে, তাহলে তা কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব ছিল, কেউ যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন—সেটি গৃহীত হয়েছে। আমরা আরো প্রস্তাব দিয়েছি- নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি স্বাধীন সার্চ কমিটি গঠন করা হোক, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং বিচার বিভাগের প্রতিনিধি থাকবে। সেটিও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে এমন দাবি কেউ করেনি। দ্বিমত থাকবে, ভিন্নমত থাকবে, আর সেগুলোর মধ্য দিয়েই তো গণতন্ত্রের সংগ্রাম এগিয়ে যায়। আমরা মনে করি না যে ‘নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কাউকে ঐকমত্যে বাধ্য করা উচিত। ঐকমত্যের অর্থই হচ্ছে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পথচলা। বিএনপি অংশ না নিলে কিভাবে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা রাষ্ট্রকে তার অংশীদার বানাব, বাধা নয়। বাংলাদেশের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন, যেখানে প্রতিটি মেয়ের একই স্বাধীনতা, সুযোগ এবং সুরক্ষা থাকবে। যা যেকোনো পিতা-মাতা তাদের নিজের সন্তানের জন্য কামনা করেন।
শনিবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতি বছর ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিনটি বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার, স্বপ্ন ও নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উদ্যাপিত হয়। জাতিসংঘের নির্ধারিত ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘দ্য গার্ল আইএম, দ্য চেঞ্জ আই লিড : গার্ল অন দ্য ফ্রন্টলাইন অব ক্রাইসিস।’
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তারেক রহমানের দেওয়া স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো।
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আসুন, আমরা প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন দেখার, শেখার, নেতৃত্ব দেওয়ার, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার উদযাপন করি। একজন কন্যার বাবা হিসেবে আমি জানি যে, মেয়েদের ক্ষমতায়ন শুধু নীতি নয়- এটি ব্যক্তিগত। বাংলাদেশের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন, যেখানে প্রতিটি মেয়ের একই স্বাধীনতা, সুযোগ এবং সুরক্ষা থাকবে। যা যেকোনো পিতা-মাতা তাদের নিজের সন্তানের জন্য কামনা করেন।
বিএনপি সরকারের রয়েছে জীবন পরিবর্তনের এক ঐতিহ্য এবং সুযোগ পেলে আমরা আরো বেশি কিছু করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দেখেছি কিভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধিকে একটি শিল্পের চেয়েও বেশি কিছুতে পরিণত করেছিলেন। এটি আশায় পরিণত হয়েছিল। লাখ লাখ নারী কাজে প্রবেশ করেছিলেন। আয়, সম্মান এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন।
তার নেতৃত্বে, বাংলাদেশজুড়ে মেয়েশিশু এবং নারীদের জীবনের উন্নতিকে প্রতিষ্ঠিত করার একক উদ্দেশ্য নিয়ে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ তৈরি করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষা বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ‘শিক্ষার জন্য খাদ্য, শিক্ষার জন্য নগদ’ কর্মসূচি লাখ লাখ মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে সাহায্য করেছিল, পারিবারিক ভাগ্য পরিবর্তন করেছিল, শক্তিশালী সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিল, ক্ষমতায়িত নারীদের একটি প্রজন্ম তৈরি করেছিল।
তার পথপ্রদর্শক উদ্যোগ ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’ আমাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করে এবং বাল্যবিবাহের হার কমিয়ে আনে। এই প্রকল্প পরবর্তী সময়ে কন্যাশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের এক বৈশ্বিক আদর্শে পরিণত হয়, যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও অনুসরণ করা হয়েছে। এই সাহসী পদক্ষেপগুলো দেখায়, যা প্রমাণ করে যে যখন প্রশাসন মেয়েদের মর্যাদাকে সম্মান করে এবং তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে তখন কী সম্ভব। এগুলো সাহসী পদক্ষেপের দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে- যখন কোনো সরকার কন্যাশিশুদের মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন কত কিছুই সম্ভব হয়ে ওঠে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতিমালা সম্মান এবং বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যার মাধ্যমে:
১. নারী পরিবারের প্রধানদের নামে ‘পরিবার কার্ড’- প্রতিটি পরিবারের প্রধানকে সরাসরি সাহায্য এবং সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
২. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, ব্যাবসায়িক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা- কারণ অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা কোনো আপসের বিষয় নয়।
৩. মেয়েদের জন্য শক্তিশালী শিক্ষাগত এবং বৃত্তিমূলক সুযোগ- যাতে প্রতিটি মেয়ে, গ্রামে হোক বা শহরে, দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
৪. নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে- রাজনীতি, শাসন ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। একটি নিরাপদ জাতি এ থেকে কম আশা করতে পারে না।
৫. মর্যাদা এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা - মেয়েদের চলাফেরা, কথা বলতে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে, ভয় ছাড়াই বাঁচতে সক্ষম করা।
৬. পরিবার ও সামাজিক কল্যাণকে মূলনীতি হিসেবে-স্বাস্থ্য, গ্রামীণ ক্ষমতায়ন, সবার জন্য কর্মসংস্থান, বিশেষভাবে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর কেন্দ্রিত।
আমরা খালি বাক্যবুলিতে কথা বলি না। আমরা বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে, নির্ধারিত লক্ষ্য নিয়ে কথা বলি। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা রাষ্ট্রকে তার অংশীদার বানাবো, বাধা নয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচন পরিচালনা। এই বিষয়টি উপেক্ষা করে যদি অন্তর্বর্তী সরকার অন্যান্য কাজে বেশি মনোযোগ দেয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘রোড টু ইলেকশন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সরকারের দায়িত্ব হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই সংবিধান প্রদত্ত আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় তিনি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী ব্যক্তিদের নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন