

আওয়ামী লীগের সময়ের নির্বাচনকে লায়লাতুল নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তাদের ভোটার অধিকার নিষিদ্ধ নয়, তাই তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দলে ভোট দেবেন, তা কেউ বলতে পারবে না।’
শনিবার সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলা পরিষদে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বিষয়ক মতবিনিময়সভায় যোগ দিয়ে তিনি এমন কথা বলেন।
উপদেষ্টা এ সময় বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দল নেই, তাই অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে অন্তর্বর্তী সরকার, সেই নির্বাচনে কে জিতল কে হারল এটা তাদের দেখার বিষয় না, নির্বাচনে কোনো সরকারি কর্মকর্তারা কারো পক্ষ নিতে পারবে না।’
কেউ কোনো দলের পক্ষ নিলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে যে দলেই জিতুক না কেন সরকারি কর্মকর্তারা সেই দলের পক্ষেই কাজ করবেন, নির্বাচনে ডিসি এসপি ও ওসিরা কারো পক্ষ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে যে নির্বাচন করেছিল সেটা দিনের ভোট রাতে হয়েছে, সেটা ছিল লায়লাতুল নির্বাচন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, এখন বিদ্যুৎ সংকট নেই, কারখানাগুলোতে কিছুটা গ্যাসের সংকট আছে তা ঠিক হয়ে যাবে, সব সময় সরকার বিদ্যুতের লোডশেডিং মনিটরিং করছে।
সেই সঙ্গে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নির্মাণ কাজ চলায় মানুষের কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে। উন্নয়ন কাজে দুর্ভোগ হলে সেটা কিছুই না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা পরে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি কোনো লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে দেশব্যাপী ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো শঙ্কা আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ- আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করব না।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
আজ বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার আমাদের সময়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগামীকাল সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লে. জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল এএসএম কামরুল আহসান আমন্ত্রণপত্রটি বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে পৌঁছান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল বলেন, ‘উনারা সস্ত্রীক বাসায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমন্ত্রণপত্র দিয়ে গেছেন।’
সেনাকুঞ্জের ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীকে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনীকেও আমরা অনুরোধ করেছি। বিজিবি, আনসার, তাদেরও আমরা অনুরোধ করেছি। ইলেকশনে আনসারের ভূমিকা কিন্তু সবচেয়ে বেশি। আগে ১২ জন আনসার থাকতেন নির্বাচনের দায়িত্বে। এখন আরেকজন বাড়িয়ে দেব প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তার দায়িত্বে। পুলিশ সব জায়গায় ২ জন করে, আবার কোনো জায়গায় ৩ জন করে থাকবে। সেনাবাহিনী তো মোবাইলে থাকবে। বিজিবি, র্যাব, এবিপিএন সবাই থাকবে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের যেসব পুলিশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা নেওয়া হচ্ছে। আমরা কিন্তু নতুন পুলিশ নিয়োগ দিচ্ছি। এর আগে ৪ হাজারের বেশি ট্রেনিং করে বের হয়ে গেছে। এখন একটা ব্যাচ এখনো ট্রেনিং করতেছে এবং আরেকটা ব্যাচ খুব তাড়াতাড়ি প্রশিক্ষণে যাবে। তা ছাড়া অন্যান্য বাহিনীতেও ইলেকশনের আগে আমরা প্রশিক্ষণ দেব।’
নির্বাচনের জন্য ‘বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী ৭ তারিখ (৭ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ কনভেনশন সেন্টারে এর উদ্বোধন হবে। শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য সব বাহিনীরই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে নির্বাচনের আগে।’
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনারাও আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রেও আপনারা সহযোগিতা করুন।’
যাদের তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হবে তাদের তথ্য গোপন রাখা হবে এবং পুরস্কৃত করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন পহেলা বৈশাখ উৎযাপনকে ঘিরে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে বৈশাখ উৎযাপনের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বছর ব্যাপক আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন সেসব করা হচ্ছে। রোজার মত চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে।
সম্প্রতি বাটাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির দোকানে ভাঙচুর হয়েছে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এসব দোকানের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানায়, সারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। যারা এসব ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় ৪৯ জনকে আটকও করা হয়েছে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে কি না এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। সেখান থেকেই ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হবে। তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে আজকে আলোচনা হয়নি। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটা আয়োজন করে সেহেতু তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এবারের উৎসবে প্রচুর জনসমাগম হবে। বিভিন্ন জায়গায় মেলাও হচ্ছে, বাঙালি ছাড়াও ২৬টি জাতিগোষ্ঠী এতে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে সৌদি আরবের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধা দিবস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “মালয়েশিয়ায় গত বছর বিমানের টিকিট এবং ভিসা থাকা সত্ত্বেও যেতে না পারা কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসংক্রান্ত বৈঠক করে যখন ঢাকায় এসে বললাম যে তাদের মালয়েশিয়া নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে, তখন তীব্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।
আমাকে ফেসবুকে গালাগাল করছে–‘বর্তমানে যারা অবৈধ হয়ে আছে তাদের বৈধ করার খবর নেই, আবার নতুন করে লোক পাঠাচ্ছে।’ গালাগালের কোনো শেষ নাই। যেটা আপনাদের এত বড় দাবি সেটা করার পরও গালি খাই।”
এ সময় তিনি বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি আশা করি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে শুনবেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে চুক্তি হচ্ছে।
এই চুক্তির চেষ্টা বিগত সরকারের আমলে অনেকবার করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু হয়নি। ভারত কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তি নেই, বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। চুক্তি হলে সৌদি আরবে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা রিইন্টিগ্রেশনে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ করেছি মন্ত্রণালয়ে যাতে আপনাদের ভোগান্তি ও হয়রানি কম হয়। সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশন করেছি, আপনারা নতুন করে বিদেশে গেলে এই সুবিধা বুঝতে পারবেন।’
প্রবাসীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রবাসী ভাই-বোনরা যারা ফিরে এসেছেন, আপনারা হয়তো আবার যাবেন। কয়েকটা কথা আপনাদের বলি অন্যভাবে নিয়েন না। আপনারা বাইরে যাওয়ার আগে নিজেরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নেবেন।
আপনাদের কি কোনো প্রতারক পাঠাচ্ছে, এটা একটু ভালো করে খোঁজখবর নেবেন। বিদেশ যেতে এত মরিয়া হয়ে যাবেন না যে খোঁজখবর নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিদেশ মানেই বেহেশত মনে করবেন না। এই সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবাসীদের জীবনযাত্রা দেখেছি, সৌদি আরবে আমি এমন অবস্থা দেখেছি, বাংলাদেশের খারাপ বস্তিতেও মানুষ এর চেয়ে ভালো থাকে। এত খারাপ জীবন আট থেকে ৯ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার পরও। কাজেই ভালোমতো খোঁজখবর নিয়ে যান। আপনার কাছে যদি ১০ লাখ টাকা থাকে বিদেশ যাওয়ার জন্য, এই টাকা দিয়ে অনেক ব্যবসা দেশে করা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ দেশে ১৮ কোটি মানুষ, কত ভোক্তা! ছোট্ট একটা দোকান দিয়ে বসলে কত লাভ হয়। আমি আপনাদের নিরুৎসাহিত করছি না, মরিয়া হয়ে বিদেশ যাবেন না।’
মন্তব্য করুন


পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, গত ১৫ বছরে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুলিশের পেশাদারিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুলিশের কর্মস্পৃহা পুনরুদ্ধার করা।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় সকল ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি আরও বলেন, দলীয় স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করে বড় ধরনের অন্যায় করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। পুলিশ যেন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার না হয়, সেজন্য পুলিশের সংস্কারে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে লুট হওয়া ৬ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ২ হাজার অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মামলার ক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অসাধু ব্যক্তিরা সুবিধা নিয়েছে। যেসব নিরীহ মানুষকে ভুলক্রমে আসামি করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। হয়রানি এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন


গতকাল রাত থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবের বাড়িটি ক্রেন দিয়ে ভাঙা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি ভবনের অর্ধেকের বেশি এবং অন্য একটি ভবনের ২০ শতাংশ ভাঙা সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির সামনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা জমায়েত হয়েছেন। কেউ কেউ হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভাঙার কাজে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ কেবল দাঁড়িয়ে দেখছেন। একটি ক্রেন দিয়ে দক্ষিণ পাশের ভবনটি ভাঙার কাজ চলছে।
এ সময় ফয়সাল করীম নামের একজন উৎসুক জনতা বলেন, "এই বাড়িটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি। আজ এটা ভেঙে ফেলা মূলত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই এই জায়গায় একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হোক।"
তার কথার মাঝখানেই অন্য একজন বলেন, "বাড়িটি ভেঙে আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হোক, যাতে তারা এখানে বসবাস করতে পারে।"
এ সময় কেউ কেউ এই জায়গায় মসজিদ নির্মাণের দাবিও তুলেছেন।
গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে ৩২ নম্বরের এই বাড়িটিতে আসেন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। মধ্যরাতে ক্রেন নিয়ে আসা হয় এবং তখন থেকেই বিরতিহীনভাবে ভাঙার কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন বাংলাদেশের স্কাউটরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ও নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য চারজন স্কাউট আত্মহুতি দিয়েছেন।
আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের দেশব্যাপী আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধন ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্কাউটিংয়ের ইতিহাসে এমন নজির বিশ্বের আর কোথাও নেই। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ও নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য চারজন স্কাউট আত্মহুতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্কাউটরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, দুনিয়া ও নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করে স্কাউটসের কার্যক্রম। গৎবাঁধা ছাত্রজীবনে নিজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আর সুযোগ থাকে না। তোমাকে তোমার সঙ্গে পরিচিত করে দেয়ার জন্য স্কাউটিং একটা বড় দরজা খুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু নিজে নয়, অন্যদেরও নিজেকে চেনার সুযোগ করে দেয়া যায়।
মন্তব্য করুন


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে সূত্রোক্ত পরিপত্রের মাধ্যমে (পরিপত্র-৯) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লিখিত সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’
ইসির নির্দেশনার আলোকে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে সদস্যদের তালিকা (মোবাইল নম্বরসহ) জরুরিভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্য সকল রিটার্নিং অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসির পরিপত্র-৯ এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন।
এই সেল নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে।
ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের বাহিরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ সকল বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার পরিচালনা জোরদার করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক চাঁদাবাজ, মাস্তান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


চাকরির জন্য নয় মানুষের জন্ম হয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর খিলজি রোডে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ভবন-২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মানুষ কারো চাকরি করার জন্য আসেনি। মানুষের জন্ম হয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য। কাজেই সেদিকে যেন আমরা যেতে পারি, সবাইকে সেই সুযোগ যেন দিতে পারি।
তিনি বলেন, এখন মানুষ বহু রকমের উদ্যোক্তা হয়েছে। আমরা কারও তালিকা করে রাখিনি। কাজেই আরও সুযোগ আসছে। এর বড় কারণ হলো প্রযুক্তি। প্রযুক্তি আমাদেরকে সমস্ত কাজে একেবারে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। এখন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিটি মানুষকে তার নিজের সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে যেখানে যেতে চায় সেখানে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাই। আশা করি, এই কাজে পিকেএসএফ নতুন ভবনে এসে নতুন যাত্রা শুরু করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পিকেএসএফ এখন আগের কাঠামো নিশ্চয়ই পরিবর্তন করেছে। অনেক নিয়মকানুনের মধ্যে পরিবর্তন হয়েছে। বিনিয়োগের মধ্যে যেতে পারলে তো বড় আকারের একটা কিছু হতে পারে। এখনকার ছেলেমেয়েরা ৮০ সালের ছেলেমেয়ের মতো না। তারা অনেক পরিবর্তিত, অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ছেলেমেয়ে সবাই মিলে কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী হয়েছে, উদ্যোক্তা হয়েছে। আইনকানুনের মধ্যে যেসব দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, ইতোমধ্যে সেগুলো সংশোধন করা যায় কি না তা পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন আছে। নিজস্ব আইন যেটা আছে, এটাকে আরও সম্প্রসারণ করা যায় কি না সেটিও দেখতে হবে।
পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠার স্মৃতি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাংক থেকে ২০ কোটি টাকার একটি ফান্ড এসেছিল। ওই ২০ কোটি টাকাকে কেন্দ্র করে পুরো ঘটনা ঘটেছে। সেই ২০ কোটি টাকা উপলক্ষ্য না হলে পিকেএসএফ-এর জন্ম এভাবে হতো না, অন্য কোনোভাবে কোনোদিন হতে পারত। ধাক্কাটাও আসত না। আর এর পেছনে লেগে গিয়েছিল স্বয়ং প্রেসিডেন্ট (এরশাদ)। কাজেই ধাক্কাটা জোরেসোরে এসেছে। উনি চাচ্ছিলেন, টাকাটা থাকুক। উনি (এরশাদ) ভরসা করে আমাকে চাচ্ছিলেন যে, আমি একটু সমর্থন করি। আমি বলেছিলাম, টাকাটা ফেরত দিয়ে দিন। এই টাকাটা মানুষ খেয়ে ফেলবে। দারিদ্র্য নিরসনের অন্য কোনো দেশে এ রকম হয়েছে বলে মনে হয় না। একেবারে গোড়াতে গিয়ে যে মানুষের সঙ্গে কাজ করা, সেদিকে যথেষ্ট কাজ হয়েছে। সবাই মিলে কাজ করেছে। আমরা ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমকে গড়ে তুলতে পারলে সত্যি সত্যি মানুষকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে পারি।
মন্তব্য করুন