

নাফ নদীর মোহনায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি আটক করে রাখা একটি পণ্যবাহী জাহাজ ১৬ দিন পর মুক্তি পেয়েছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজটি পণ্যসহ টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি জানান, গত ১৬ জানুয়ারি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্যবাহী চারটি জাহাজ টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু রাখাইন সীমান্তে নাফ নদীতে আরাকান আর্মি জাহাজগুলো আটকে দেয়। এর দুই দিন পর ধাপে ধাপে তিনটি জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশেষে ১৬ দিন পর বাকি একটি জাহাজও ছেড়ে দেওয়া হলে শনিবার দুপুরে সেটি টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছায়।
জসিম উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, আরাকান আর্মি জাহাজগুলো তল্লাশির জন্য আটকে রেখেছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এদিকে, স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফের ব্যবসায়ীদের পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়া তিনটি জাহাজ গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে নাফ নদীর মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মি তল্লাশির নামে সেগুলো আটকে দেয়।
মন্তব্য করুন


৫ আগস্টের পরে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামীপন্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে চলে গেলেও কিছু জনপ্রতিনিধি এখনো স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় স্বপদে বহাল রয়েছেন। তেমনি একজন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আলাউল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম পূর্বে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং বর্তমানে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তিনি ২০২২ সালে বিএনপি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। এমনকি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার ফেসবুক আইডিতে সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ তিনি প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
একাধিক স্থানীয় সূত্র জানান, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার তালিকা করে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে পৌঁছে দিতেন এই ইউপি চেয়ারম্যান। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে মহড়া দিতেন । এছাড়া মাদক ও ভূমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় এফ আই আর ভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তা কারোরই বোধগম্য নয়।
৩১ অক্টোবর শিদলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ উঠে। অভিযোগে বলা হয়, ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি পূরণ না করায় তিনি চেয়ার দিয়ে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে মারধর করেন।
যদিও ওই সময় স্ত্রী নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি মিথ্যা।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সাজিদুর রহমান জানান, শুনেছি কোতোয়ালি বা সদর দক্ষিণ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে। আমার এখানে ২০২২ সালের একটি মামলা ছিল, এটার বর্তমান অবস্থা কি জানিনা? আদালত ভালো বলতে পারে। আর ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি এখানে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (৪ ডিসেম্বর) মেঘের রাজ্যে পর্যটকদের না যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জোবাইদা আক্তারের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি এবং এ সকল এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনভর সাজেক ইউনিয়নের মাচালং ব্রিজপাড়ায় বিবদমান দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় মূলত বুধবার থেকে সাজেক যেতে না করছে প্রশাসন।
এর আগে, গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সহিংসতার ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দফায় দফায় সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়। পরে ১ নভেম্বর থেকে রাঙামাটির সকল পর্যটন কেন্দ্র থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিছ আক্তারকে স্বপদে বহালের দাবীতে বিবৃতি দিয়েছে বিশিষ্ট নাগরিকরা। লিখিত এক বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল, বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ভালো পড়াশুনা এবং ভালো ফলাফল করে আসছিল। ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর স্কুলটিতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির কারণে অধ্যক্ষ নার্গিছ আক্তারকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না। আমরা মনে করি এটা অন্যায় ।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আইন-আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার করো আছে বলে আমরা মনে করি না । আর যেহেতু এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এটি জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে, তাই জেলা প্রশাসকের কাছে অধ্যক্ষকে পূর্ণ নিরাপত্তাসহ কর্মস্থলে যোগদান করানোর দাবী জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক দিন হয়ে গেছে, অধ্যক্ষবিহীন বা অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে পড়াশুনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে অধ্যক্ষ মহোদয়কে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাসহ যোগদান করানোর জন্য জেলাপ্রশাসককে আহ্বান জানাই ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জহিরুল হক দুলাল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান , কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ , মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. ফরিদ উদ্দীন, রাজনীতিবিদ আবদুর রাজ্জাক , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল কাশেম , রাজনীতিবিদ শেখ আবদুল মান্নান , লেখক ও গবেষক আহসানুল কবীর, কবি ও কথাশিল্পী সফিকুল বোরহান , কবি ও প্রকাশক হালিম আবদুল্লাহ, কবি ও গীতিকার শিহাব উদ্দিন, চিত্রশিল্পী মো. শাহ আলম, নাট্যকর্মী নন্দন ভৌমিক, কবি ও কথাশিল্পী গাজী মোহাম্মদ ইউনুস , সাংস্কৃতিক কর্মী জসীম উদ্দিন আহমেদ, সংগীত শিল্পী নির্মল সূত্রধর , আইনজীবী স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় যৌথ অভিযানে ইয়াবাসহ এক নারীকে আটক করেছে আলেখারচর আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা।
গতকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলেখারচর আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা নন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সালমা আক্তার (৪২) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি নন্দনপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের স্ত্রী।
অভিযানে তার কাছ থেকে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ৪৭ হাজার ১০০ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আটক নারী ও উদ্ধার হওয়া মালামাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন করে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মাধবপুর ও দেবিদ্বারের ইষ্টগ্রাম এলাকায় মেসার্স সজিব ব্রিকস এবং মেসার্স নিউ সজিব ব্রিকস নামের দুইটি ইটভাটায় পুরোদমে চলছে ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম। ভাটার গা ঘেঁষে রয়েছে ফসলি জমি। অদূরেই বসতবাড়ি ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুসারে এ স্থানটিতে ইটভাটা স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও এ ইটভাটা দুইটির নেই প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্র। এরপরও কয়েক বছর ধরেই এ ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটা দুইটির মালিক মুরাদনগর উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারের আস্থাভাজন ও মুরাদনগর উপজেলা শ্রমিক লীগ নেতা মোঃ জহিরুল ইসলাম খান।
ইটভাটা দুইটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ পর্যন্ত ভাটা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লাইসেন্সের মেয়াদ থাকলেও বর্তমানে ইট ভাটা পরিচালনার জন্য কোন দপ্তর থেকেই কোনো অনুমতি মেলেনি।
দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ১৭টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ইটভাটাগুলোতে চলছে ইট প্রস্তুতের নানা আয়োজন। কয়েকটি ইটভাটায় ইট পুড়িয়ে সেগুলো বের করা হচ্ছে। আবার কিছু কিছু ভাটার কাঁচা ইট সারিবদ্ধভাবে সাজানো হচ্ছে পোড়ানোর জন্য।
খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবৈধ ইটভাটাগুলোতে পরিচালনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ক্ষমতাসীন ও সাবেক রাজনৈতিক দলের নেতা এবং স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা। ফলে ইচ্ছামতো অবকাঠামো তৈরি করে ইট পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটায়। এতে এই অঞ্চলের পরিবেশ চরমভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। আর এই সকল বিষয়ে দেখেও না দেখার ভান করে, নীরব ভূমিকায় আছে জেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন জানান, কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ১০টি অবৈধ ইটভাটার তালিকা ইতিমধ্যে পাঠিয়েছে। সেখানে মেসার্স নিউ সজিব ব্রিকস এর নামও রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব অবৈধ ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ ( দেবিদ্বার) আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাদ দেওয়ার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
এর ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।
এর আগে ঋণখেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ভূঁইয়া কানুকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্চিতের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুছ সরকার অভিযুক্তদের গ্রেফতারে বিবৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন কানুর বিরুদ্ধে ৮-৯টি মামলা রয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রেও জানা যায়, আব্দুল হাই কানুর বিরুদ্ধে ১টি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, রবিবার দুপুরে স্থানীয় বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আব্দুল হাই কানুকে জুতার মালা পড়ায় স্থানীয় প্রবাসী আবুল হাশেমসহ এলাকাবাসী।
এসময় স্থানীয়দের বলতে শোনা যায়, আব্দুল হাই কানুর কারণে তারা গত ১৫ বছর এলাকায় থাকতে পারেনি।
২০১৬ সালের আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ রানা হত্যার প্রতিবাদে এবং কানু ও তার ছেলে বিপ্লবকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে স্থানীয় আ’লীগ সমাবেশ করে।
সমাবেশে উপজেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আব্দুল হাই কানুর কারণে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীরাও এলাকাছাড়া।
সোমবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, আবদুল হাই কানুর সাথে আ’লীগ ব্যতিত আর কোন রাজনৈতিক দ্বন্ধ নেই।
ভাইরাল ভিডিওটি রাজনৈতিক নয়। এলাকার ভুক্তভোগীরা ঘটনা করেছে। এসময় আমিও সাথে ছিলাম। হত্যাকান্ডের শিকার রানা হত্যা মামলায় ১নং আসামী কানু। আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন হত্যার ঘটনাও অন্যতম নির্দেশদাতা কানু মেম্বার। কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী এক প্রার্থী আবদুল হালিম মজুমদারকে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দেয়। ঐ নির্বাচনে আমাকেও লাঞ্চিত করে।
স্থানীয় ট্রাক্টর চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, পারিবারিক দ্বন্ধে এ ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে রাজনীতির সম্পৃক্ততা নাই। গত ২০১৬ সালের ৩ই সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ রানাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে কানু মেম্বার। ঐদিন আমি নিজেও গুলির শব্দে ব্রীজ থেকে লাফ দিয়ে আহত হই। কানু মেম্বার আমার চাচা নুরুল ইসলাম মিনারকে রাতের আধাঁরে মারধর করে।
আবদুল হালিম মজুমদারের ভাই আবদুর রহমান (৮০) বলেন, কানু আমার ভাইকে বিদ্যালয়ের নির্বাচনের সময়ে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দেয়। আ’লীগ সরকারের সময়ে আমার ভাইয়ের থেকে ২৬লাখ টাকা চাঁদাবাজী করে। এমনকি আমার ঘর নির্মাণের সময় আমার থেকেও ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের দ্বন্ধেই রবিবার দুপুরে কানুকে আটক করে এলাকাবাসী।
সাবেক ইউপি মেম্বার ও অবঃ সেনাসদস্য আবদুল হক বলেন, কানু এই এলাকায় গত ১৭ বছরে সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছে। একাধিক হত্যা, বাড়িঘর ভাংচুর এবং চাঁদাবাজীর সাথেও সে জড়িত। স্থানীয়রা পূর্বের ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন বলেন, আ’লীগ নেতা আব্দুল হাই কানু হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী। পূর্বের বিভিন্ন বিরোধ থেকে এলাকাবাসী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পৃক্ততা নাই। এমনটি ভাইরাল ভিডিওকে উল্লেখিত ব্যক্তিগত জামায়াতের কোন পদ-পদবীতে নাই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আক্তারুজ্জামান সোমবার দুপুরে বলেন, আব্দুল হাই কানুর বিরুদ্ধে ৮-৯টি মামলার বিষয়ে পুরনো অপারেটরের মাধ্যমে জেনেছি। তবে আমার কাছে একটি হত্যা মামলা এবং একটি ভাংচুরের মামলার তথ্য রয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে লাঞ্ছিতের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি আমরা। পরিবার থেকে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় একটা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সকলের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি যদি কোন অপরাধ করে থাকেন আইন অনুযায়ী বিচার হবে। অপরাধীকে জুতার মালা পড়ানো সম্মানহানীর কোন সুযোগ আইনে নাই।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর এলাকা থেকে যৌথবাহিনীর একটি দল কামাল হোসেন নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই যুবদল নেতা বুড়িচং সদর ইউনিয়নের আহ্বায়ক এবং স্থানীয়ভাবে "ফেন্সি কামাল" নামে পরিচিত। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, যৌথবাহিনী দেলোয়ার হোসেন ও সারদুল ইসলাম নামে দুই মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করে, যাদের কাছ থেকে ২১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কামাল হোসেনের নাম উঠে আসে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে ২১০টি ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে কামাল হোসেনকে আটক করা হয়।
কামালের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করা যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। শুক্রবার বিকেল ৩ টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুবলীগ নেতা সুমনের ঘরের পাশে ঝোপে বস্তার নিচে লুকানো এলজি টি উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
গ্রেফতার হওয়া সুমন নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের মোগলটুলি উত্তর গাংচর এলাকার মৃত আলাউদ্দিন আহাম্মদের বড় ছেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা সুমনের অস্ত্রটি বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়ের আড়ালে বস্তার নিচে লুকানো রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে সেনাবাহিনীর আদর্শ সদর ক্যাম্প শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মোগলটুলির গাংচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।
সদর ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে একটি পেট্রোল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানায় জমা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমন বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেন। পরে পরে পুলিশের অভিযানে সুমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সহযোগীরা আতঙ্কে তার অস্ত্রটি তার বাড়ির পাশে ফেলে যায়।
যৌথ গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সুমন ও তার অনুসারীরা আরও অস্ত্রশস্ত্রের মালিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
উল্লেখ্য যে, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমন সদরের সাবেক এমপি হাজী আ কম বাহাউদ্দিন বাহারের অন্যতম অনুসারী ছিলেন। ৫ আগস্টের পরে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে চলাফেরা শুরু করেন। এমনকি মোগলটুলী মোড়ে কুসিকের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্টার ব্যানার করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুবলীগ নেতা সুমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে এমনকি দুর্বল মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করার জন্য বিএনপি'র একটি অংশ জোর তদবির করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি কিংবা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা রোধ করাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ৩৩ পদাতিক ডিভিশন।
রবিবার দুপুরে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের কর্নেল স্টাফ, কর্নেল কে এম মেহেদী হাসান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, চলমান অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
৩৩ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ জনগণসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ইউনিট মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন